চীনা বাঁশের অনুপ্রেরণামূলক গল্প

চীনা বাঁশের গল্প বলি একটা। খুব ইন্টারেস্টিং গল্প।

আমাদের দেশে আমরা এই যে গ্রামে গেলেই বাঁশঝাড় দেখি, এগুলো হতে কিন্তু খুব বেশি সময় লাগে না, মোটামুটি দ্রুতই বেড়ে ওঠে বাঁশগুলো। চীনা বাঁশের ক্ষেত্রে কিন্তু ব্যাপারটা মোটেও এরকম না! চীনা বাঁশের কাহিনী টা একটু আলাদা।

ধরো তুমি একটা চীনা বাঁশের বীজ বপন করলে। এরপর তোমাকে সেই বাঁশটাকে পানি দিতে হবে, সার দিতে হবে, অনেক যত্নআত্তিও করতে হবে। এখানেই শেষ নয়, নিয়মিত খেয়াল রাখতে হবে তার, পাশাপাশি অন্যান্য কাজগুলোও নিয়মিত করতে হবে।

অদ্ভুত ব্যাপার হলো, এতো কিছু করার পর দেখা যায় প্রথম বছরে চারার নামগন্ধ নেই, সেটি বাড়ার কোন সম্ভাবনাই নেই। প্রথম বছর যায়, দ্বিতীয় বছর আসে। এ বছরেও কোনরকম লক্ষণ দেখা যায় না। তৃতীয় বছরেও যখন দেখা যায় না কোন সম্ভাবনা, অনেকেই মনে করতে থাকে বীজটা মরে গেছে। বাঁশ হবার সম্ভাবনা নেই। এই করেই একেবারেই নিষ্ফল চতুর্থ বছরও যখন যায়, তখন মোটামুটি সবাই আশা ছেড়ে দেয় বাঁশ হবার।

চমক দেখা যায় এর পরপরই। চতুর্থ বছরের শেষে দেখা গেল ছোট্ট একটা চারার মত উঠেছে সেইখান থেকে। পরের দিন থেকেই তুমি দেখলে হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে চীনা বাঁশগুলো! এক ফিট, দুই ফিট করতে করতে দেখা গেল ৫ সপ্তাহে বাঁশ থেকে ৯০ ফুটি দানব বাঁশে পরিণত হয়েছে চীনা বাঁশগুলো!

একেবারে হাল ছেড়ে দেয়ার অবস্থা থেকে রাতারাতি এই অস্বাভাবিক উন্নয়ন একটু ভাবার বিষয়ও বটে। বাঁশ গাছ থেকে এই শিক্ষাটা আমাদের জীবনেও নেয়া যেতে পারে। কিভাবে? এই পাঁচ বছরে চীনা বাঁশ কিন্তু থেমে থাকেনি, তারা মাটির তলে শক্ত ভিত গড়ে তারপরেই মাথা তুলে দাড়িয়েছে। জীবনে এই জ্ঞানটা কাজে লাগাতে পারলেই কেল্লাফতে! এই বাঁশ থেকেই জীবনের দরকারি ৩টা শিক্ষা নেয়া যায়।

১। সবকিছুর শুরু সেই ভিত্তি থেকেই:

চীনা বাঁশগুলো কিন্তু একেবারেই বড় হয়ে যায় নি। কারণ মূল শক্ত না হলে ৯০ ফুটি একটা বাঁশ দাঁড়াতেই পারবে না, এইজন্যে পাক্কা ৫ বছর ধরে এটি শুধুমাত্র মাটির তলে নিজের মূল-শেকড় ঠিক করেছে। আর ঠিক এই কারণেই যত ঝড়-ঝাপটা আসুক, যে দুর্যোগই হোক, চীনা বাঁশ টিকে থাকবে স্বমহিমায়! অন্যদিকে অন্য সাধারণ বাঁশের মত হলে সেগুলোর মত চীনা বাঁশও সহজে ভেঙ্গে পড়তো।

আমাদের জীবনটাও অনেকটা এরকমই। জীবনে আমরা দুই ধরণের সাফল্যের পেছনে ছুটতে পারি। দ্রুত এবং ক্ষণিকের বা শর্ট টার্ম সাফল্য, আর বিলম্বিত বা লং টার্ম সাফল্য। শর্ট টার্মে তুমি বেশ সফল হয়ে যেতে পারো, কিন্তু তোমার এই সাফল্য বেশিদিন থাকবে না। অন্যদিকে লং টার্ম হতে অনেক সময় নিলেও, দীর্ঘস্থায়ী সাফল্য নিশ্চিত! তাই নিজেকে গোড়া থেকে তৈরি করো, নিজের বেসিক ভালো করে তারপর নিজেই এগিয়ে যেতে থাকো সাফল্যের দিকে।

Take preparation for SAT with ease!
To study in USA, you have to sit for SAT. Here is a complete playlist to guide you through your preparation for the exam. May the force be with you!  

২। ছোট ছোট ধাপে এগিয়ে যাও:

চীনা বাঁশগুলো কিন্তু রাতারাতি বিশাল বড় হয়ে যায় নি। তারা সময় নিয়েছে, এবং একটা সময়ে এসে এগুলো বড় হয়েছে। টানা ৫ বছর ধরে ছোট ছোট ধাপে এরা নিজেদের মূলের উন্নতি করেছে, সেগুলোকে ধারণক্ষম করেছে। তারপরই না এদের সগর্ব আত্মপ্রকাশ!

আমাদের জীবনটাও এমনই। তুমি চাইলেই হুট করে বিশাল কোন সাফল্য পেয়ে যেতে পারো না। সময় লাগবে, শ্রম আর ভাগ্যের সহায়তাও লাগবে। তাই তুমি যে কাজে ভালো, যা নিয়ে তোমার আগ্রহ আছে- সেটি তুমি তোমার মত করে ছোট ছোট ধাপে করতে থাকো, উন্নত হও। একটা সময়ে দেখবে তুমিও সেই চীনা বাঁশের মত বিশাল মহীরুহ হয়ে উঠছো!

কোন সমস্যায় আটকে গেছ? প্রশ্ন করার মত কাউকে খুঁজে পাচ্ছ না? ঘুরে এসো আমাদের লাইভ গ্রুপ থেকে!

৩। অধ্যবসায়, ধৈর্য, বিশ্বাস:

চীনা বাঁশ যখন ৪ বছরেও হচ্ছিল না, তখন অনেকেই হতাশ হয়ে আর যত্ন আত্তি করে নি বাঁশের। তাদের মনে বিশ্বাস ছিল না, তারা ভেবেছিল এই গাছ মরে গেছে। কিন্তু আর একটা বছর পরে যে একটা মহীরুহ জন্মাবে সেই ছোট্ট জায়গাটিতে, সে খবর তারা জানতো না। যারা কঠোর অধ্যবসায়ের সাথে দিনের পর দিন গাছের যত্ন নিয়েছে, ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছে- তারাই বিশাল বাঁশের মালিক হতে পেরেছে।

আমাদের জীবনেও এই তিনটি গুণের খুব বেশি দরকার। তুমি জীবনে সফলতার মুখ সহজে না-ও দেখতে পারো, হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে থাকতে পারো। কিন্তু তাতে যদি হাল ছেড়ে দাও তাহলে কোন লাভ নেই। অধ্যবসায় দেখাও, লেগে থাকো যে কাজটি ভালোবাসো তার পেছনে। একটু ধৈর্য ধরো, নিজের উপর বিশ্বাস রাখো- সাফল্য আসবেই!

চীনা বাঁশের গল্পটি শুধু গল্প নয়, জীবন বদলে দেয়ার মতো একটি অনুপ্রেরণা এটি। আশা করছি সবাই মিলে চেষ্টা করবো সুন্দর ও সফল জীবন গড়ার!


১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?