লক্ষ্যকে ১০ গুণ জুম করুন

Assistant Professor of the University of Dhaka & PhD researcher at Monash University Sunway Campus.

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে যত ক্লায়েন্ট আমরা দেখি তার অধিকাংশই ক্যারিয়ার-সম্পর্কিত মানসিক দুরবস্থা নিয়ে আসে। পাস করেছে, চাকরি খুঁজছে— এদের সংখ্যাটাও কম নয়। ক্যারিয়ার নিয়ে কী করবে, কী হবে, কীভাবে হবে, কেন হচ্ছে না-ইত্যাদিই মূলত প্রধান উদ্বেগের কারণ। তাদের সাথে আলাপচারিতায় বেরিয়ে আসে তাদের ক্যারিয়ারের লক্ষ্য কী। জীবনের লক্ষ্যই বা কী।

‘Choosing a goal and sticking to it changes everything.’

-Scott Reed

সমাজবিজ্ঞানে অনার্স শেষ করা শামীমের কথাই শুনুন।

– “আমার টার্গেট সরকারি চাকরি। সামনে দুইটা বিসিএস ট্রাই করব। না হলে ব্যাংকগুলোতে পরীক্ষা দেব।… আচ্ছা, ইউরোপে তো টিউশন ফি নেই। ভাবছি, ফিনল্যান্ড বা সুইডেন থেকে একটা মাস্টার্স করা যায় কি না। আমার একটা ফ্রেন্ড আছে ফিনল্যান্ডে।”

-“তোমার কথায় মনে হচ্ছে, বেশ কয়েকটা দিকে তোমার ঝোঁক আছে।”

-“হ্যাঁ, সেকেন্ড ইয়ারে থাকতে ফটোগ্রাফির বেসিক কোর্স করেছিলাম। তখন ভাবছিলাম ছবি তুলব। থার্ড ইয়ারে অবশ্য জার্মান ভাষার শর্ট কোর্সও করেছি। এখন কিছুই মনে নেই।”

-“হুম, তো এখন অসুবিধা কোথায়?”

-“না, মানে বাড়ি থেকে চাপ দিচ্ছে, ইনকাম করতে হবে। অন্তত নিজের খরচটা যেন নিজে ম্যানেজ করতে পারি। এদিকে আমার গার্লফ্রেন্ড যেহেতু সমবয়সী, তার বাসা থেকে বিয়ের জন্য প্রচণ্ড চাপ দিচ্ছে। সে দিচ্ছে আমাকে, জলদি কিছু একটা করো। আমি কী করব বলেন? এখনো মাস্টার্স ফাইনাল হয়নি। রাতারাতি কি কিছু হয়, আপনিই বলেন?”

-“হুম, রাতারাতি খুব বেশি কিছু হয় না। তা, তুমি কী চাও?”

-“সেটাই তো বুঝতে পারছি না।”

রাজ্যের চিন্তা তার কপালে। শামীমের বর্তমান সমস্যার অনেক কারণ আছে। এই মুহূর্তে তার আত্মবিশ্বাস, মনোবল শূন্যের কাতারে। সামনে কী হবে কিছুই দেখতে পারছে না। এই পরিষ্কার কিছু দেখতে না পাওয়াই মূলত দুশ্চিন্তার অন্যতম উপাদান।

সামনে কী হবে, তা কেন আমরা পরিষ্কার দেখতে পাই না?

উত্তরটা খুব সহজ। কারণ আমরা পরিষ্কারভাবে দেখার চেষ্টা করি না। পরিষ্কারভাবে দেখা যাবে তখন, যখন আমিই ঠিক করব, কী কী দেখতে চাচ্ছি। অর্থাৎ কী আমার লক্ষ্য। ক্যারিয়ারের লক্ষ্য, জীবনের লক্ষ্য, অর্থনৈতিক লক্ষ্য। লক্ষ্য যত স্বচ্ছ হবে, ভয় তত কম হবে। কাচের মতো পরিষ্কার লক্ষ্য ঠিক করতে পারলে, তা অর্জন করা সহজ হয়। এতে মনোবল, কাজ করার আগ্রহ ও উদ্যম বেড়ে যায়। আমরা জানি ‘স্বচ্ছতাই শক্তি।’ অন্ধকার থেকেই তো সন্দেহ, ভয়, দুশ্চিন্তা তৈরি হয়, তাই না?

শামীমের ক্যারিয়ারের লক্ষ্যের কথাই ধরুন। তার লক্ষ্য কী স্বচ্ছ?

‘সরকারি চাকরি…বিসিএস…ব্যাংক…বিদেশে উচ্চশিক্ষা…ফটোগ্রাফি…জার্মান ভাষা শিক্ষা…।’

স্বচ্ছ লক্ষ্য নির্ধারণ করার কিছু নির্দিষ্ট এবং জরুরি ধাপ রয়েছে। দেখুন তো আপনি আপনার লক্ষ্য নির্ধারণের বেলায় এগুলো অনুসরণ করেছেন কি না?

ধাপ এক: জীবনের লক্ষ্য ঠিক করা

হ্যাঁ, এখনই ঠিক করতে হবে আপনার জীবনের লক্ষ্য কী হবে? নিজেকে কী হিসেবে দেখতে চান? কোথায় দেখতে চান? এটা হচ্ছে বড় ক্যানভাসে আপনার জীবনের প্রতিচ্ছবি । বিশ, তিরিশ, চল্লিশ বছর পর আপনি যা হতে চান। আপনার এই লক্ষ্যই ঠিক করে দেবে বর্তমানে আপনাকে কী করতে হবে। কীভাবে এগোতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য আপনার প্রতিটা কাজে প্রভাব বিস্তার করবে। উৎসাহিত করবে, উদ্যম ধরে রাখবে।

অনেকে আবার দীর্ঘমেয়াদি জীবন-লক্ষ্য বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করে ঠিক করে। যেমন—

ক্যারিয়ারের জন্য লক্ষ্য:

ক্যারিয়ারে আপনি কোন পর্যন্ত পৌঁছাতে চান? উদাহরণ—‘আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হতে চাই, বিজিএমইএর প্রেসিডেন্ট হতে চাই, জাতীয় রাজনীতিবিদ হতে চাই, জাতীয় পত্রিকার সম্পাদক হতে চাই, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র নির্মাতা হতে চাই, অধ্যাপক হতে চাই।’

অর্থনৈতিক লক্ষ্য:

আপনার অর্থনৈতিক অবস্থা কী রকম হবে? এর সাথে আপনার ক্যারিয়ার-লক্ষ্যের সম্পর্ক কী?

শিক্ষা অর্জনের লক্ষ্য:

কতটুকু শিক্ষা অর্জন করতে চান? এটা কি আপনার ক্যারিয়ার ও অর্থনৈতিক লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ?

পারিবারিক জীবন বা সংসার নিয়ে লক্ষ্য:

কেমন পারিবারিক জীবন আপনি চান? বিবাহিত অথবা অবিবাহিত, সন্তান বা সন্তান ছাড়া, সন্তান হলে কয়টা, যৌথ পরিবার, নাকি ছোট একক পরিবারে থাকবেন ইত্যাদি বিষয় ঠিক করা সাংসারিক লক্ষ্যের মধ্যে পড়ে।

শরীর, স্বাস্থ্য ও মনের লক্ষ্য:

বিশেষ করে, খেলাধুলার সাথে যাদের ক্যারিয়ার ও অর্থনৈতিক লক্ষ্য জড়িত, তাদের শরীর স্বাস্থ্যের জন্য সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করতে হয়। তবে, অন্য সবার জন্যও এটা খুব জরুরি একটা লক্ষ্য।

জীবনের বিভিন্ন দিকের লক্ষ্য নির্ধারণের জন্য গভীরভাবে আত্মবিশ্লেষণ করতে হবে। নিজের চাহিদা, স্বপ্ন, যোগ্যতা, সম্পদ, পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে লক্ষ্যগুলোর চুলচেরা ব্যবচ্ছেদ করতে হবে।

তবে, লক্ষ্য নির্ধারণের জন্য নিজের মনকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। পরিবার, বাবা-মা, সমাজ কী চাচ্ছে, তার থেকে হাজার গুণ বেশি জরুরি আপনি কী চাচ্ছেন সেটা শোনা, সেটাকে উপলব্ধি করা। কারণ জীবনটা আপনার। আজ যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটা নিয়ে আজীবন আপনাকেই চলতে হবে। ভালো-মন্দ যা-ই হোক না কেন তার ফলটা শতভাগ আপনাকেই ভোগ করতে হবে। অন্যরা তেমন একটা প্রভাবিত হবে না।

ধাপ দুই:  বড় লক্ষ্যের জন্য ছোট ছোট লক্ষ্য ঠিক করা

জীবনের লক্ষ্য ঠিক করে ফেলেছেন? খুব ভালো। এবার সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য ছোট ছোট লক্ষ্য ঠিক করতে হবে।

আপনি যদি অধ্যাপক হতে চান, তাহলে তার আগের ধাপ কী? শুরুটা কীভাবে হয়?

অধ্যাপনা পেশায় ঢুকতে হবে।

অধ্যাপনা পেশায় ঢুকতে হলে কী লাগে?

শিক্ষাজীবনে সব ক্ষেত্রে প্রথম শ্রেণি বা প্রয়োজনীয় সিজিপিএ, বিষয়ের ওপর গভীর জ্ঞান, গবেষণা ও প্রকাশনা, এই তো।

তাহলে সেভাবে এগোতে হবে।

প্রথম শ্রেণি বা ৩.৫-এর ওপরে সিজিপিএ পেতে হলে কী করতে হবে?

নিয়মিত পড়াশোনা।

এভাবে ছোট ছোট লক্ষ্য ঠিক করে সেগুলো বাস্তবায়নে মনোযোগ দিলে একদিন বড় লক্ষ্য ঠিকই হাসিল হবে। এতে বিন্দুমাত্র ‘কিন্তু’ নেই।

কেউ কেউ আবার বড় লক্ষ্য ঠিক করে সেটা নিয়ে বিভোর থাকে। তার জন্য ছোট ছোট কী লক্ষ্য হবে, সেটা ভুলে যায়।

বিদেশে পড়াশোনার উদাহরণে আবার আসি। কলেজ-ভার্সিটি পর্যায়ে কম-বেশি সবারই বিদেশ যাওয়ার একটা তাড়না আসে। সোহাগ, অনার্সের দ্বিতীয় বর্ষ থেকে বলে আসছে বিদেশ যাবে। ইংল্যান্ড অথবা আমেরিকা। বিভিন্ন এজেন্সি অফিস, সেমিনারে ঘোরাঘুরি করছে তখন থেকে। গত বছর অনার্স শেষ করেছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, “কী পরিকল্পনা তোমার?”

-“এই তো খোঁজখবর নিচ্ছি, কোন ভার্সিটিতে যাওয়া যায়। ফান্ডিং পাওয়া টাফ হয়ে গেছে। এটাই একটা বড় সমস্যা।”

-“হুম, তো কবে নাগাদ যাওয়ার প্ল্যান করছ?”

-“যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, ততই ভালো। দেরি করে কী লাভ? এ দেশে কি কিছু হবে? ফার্মগেট থেকে শাহবাগ আসলাম দেড় ঘণ্টায়!”

-“আচ্ছা, দেখছি, বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে তুমি বেশ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তা, ইউকে যেতে চাও, আইএলটিএস কত স্কোর উঠেছে?”

-“আইএলটিএস পরীক্ষা সামনে দেব। প্রস্তুতি নিচ্ছি। আচ্ছা, আইএলটিএসের কোর্স কোথায় ভালো করায় বলতে পারেন?”

সেই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “পাসপোর্ট করেছ?”

-“পাসপোর্টের ফরম অনলাইনে ফিলাপ করে রেখেছি এক মাস আগে। যাব যাব করে যাওয়া হচ্ছে না। সেখানে তো আরেক ভ্যাজাল লেগে গেছে। ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি দিতে হবে। কিন্তু আমার ভোটার আইডি কার্ডে নামের স্পেলিং ভুল হয়েছে? ক্যামনডা লাগে বলেন?”

-“খুব দৌড়াদৌড়ির কাজ, আমি বললাম। আচ্ছা, ট্রান্সক্রিপ্ট তুলেছ? তোমাদের মার্কসশিট তো হাতে লেখা ছিল!”

-“ট্রান্সক্রিপ্ট তুলব মানে? বুঝলাম না।”

আমি আর কথা না বাড়াই। এবার বোঝেন, সোহাগ বিদেশে যাওয়ার লাগেজ-গাট্টিবস্তা প্রায় কিনে ফেলেছে, দেখা হলেই সেই আলাপ। অথচ, তার পেছনের কাজ কিছুই করেনি। হতাশা, দুশ্চিন্তা কি হাওয়া থেকে আসে?

আরেকজনের কথা বলি। হলে থাকার সময়, অনার্স শেষ করা এক ছাত্রকে দেখলাম মহা ব্যস্ত। সে-ও বিদেশ যাবে। আমেরিকা। খুব ভালো খবর। কথা হলো তার সাথে।

-“তা কী পড়তে চাও বিদেশে?”

-“বিবিএ, এমবিএ, ডিপ্লোমা যা-ই হয়, তাতেই ভর্তি হব।”

আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “মানে কী?”

সে বলল, এই মাসেই ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়েছি। ছয় মাস ধরে ড্রাইভিং শিখলাম। আমার ইচ্ছা, আমেরিকায় গিয়ে ট্যাক্সি চালাব।

খুব ভালো কথা। ট্যাক্সি চালানো ভালো পেশা। আমার খটকাটা অন্য জায়গায়। ড্রাইভিং পেশার জন্য তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স-মাস্টার্স লাগে না। জীবনের লক্ষ্য যদি ট্যাক্সি চালানো হয়, তবে এত দিন অযথা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার কোনো মানে আছে। ইন্টার পাস করেও তো ট্রেনিং নিয়ে শুরু করে দেওয়া যেত।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে, উদ্যম, লক্ষ্য ঠিক করলেও হয় না, তার যথার্থতা যাচাই করে দেখতে হবে। তবেই কেবল, সময়মতো স্টেশনে পৌঁছানো যাবে। নইলে, শুধু সময় চলে যাবে, কাজের কাজ কিছুই হবে না। অথবা যেটা হবে, সেটা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে পারা কঠিন হয়ে পড়বে।

কীভাবে বুঝবেন আপনার ঠিক করা লক্ষ্য ঠিক আছে কি না?

এটা বোঝার জন্য দুইটা ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করব। এই শব্দ দুইটা ব্যবহার করেই বোঝা যাবে আপনার নির্ধারিত লক্ষ্য যথাযথ আছে কি না। প্রথম শব্দটা হচ্ছে DUMB, যার ধারণা দিয়েছেন আমেরিকান লাইফ কোচ ব্রেন্ডন বুচার্ড। DUMB বিশ্লেষণ করলে দাঁড়ায়-

D=Dream বা স্বপ্ন

U=Uplifiting বা উচ্চতর অবস্থায় নিয়ে যায়

M=Method friendly বা পদ্ধতিগত উপায়ে অর্জন করা যায়

B=Behaviour driven বা যা কর্ম দ্বারা সাধন করা যায়।

অর্থাৎ আপনার লক্ষ্য আপনার স্বপ্নকে  প্রকাশ করবে, আপনাকে উচ্চতর অবস্থায় নিয়ে যাবে, সেই লক্ষ্য পদ্ধতিগতভাবে এবং কর্ম দ্বারা অর্জন করা যাবে। এবার নিজের ঠিক করা লক্ষ্য মিলিয়ে দেখুন, আপনার লক্ষ্য DUMB কি না?

দ্বিতীয় যে শব্দটি আছে তা দিয়ে মূলত আমরা বড় DUMB লক্ষ্য অর্জনের জন্য ছোট ছোট লক্ষ্য কীভাবে ঠিক করব এবং বাস্তবায়ন করব তার নির্দেশনা আছে।  বহুল প্রচলিত SMART কৌশলের আলোকেও পরীক্ষা করতে পারেন আপনার ঠিক করা ছোট ছোট লক্ষ্য কতটা ঠিক।

SMART শব্দটির বিশ্লেষণ করলে পাঁচটি বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়।

S=Specific (লক্ষ্য হবে সুনির্দিষ্ট। ভাসা ভাসা লক্ষ্য কখনোই গন্তব্যে পৌঁছায় না। ‘সুখী হতে চাই’ খুব বেশি পরিষ্কার লক্ষ্য না।)

M=Measurable (যে লক্ষ্য ঠিক করেছেন, তা পরিমাপযোগ্য হতে হবে। কী হলে বুঝবেন আপনি সুখী হয়েছেন?)

A=Attainable (লক্ষ্য হতে হবে অর্জনযোগ্য। তিরিশ বছর পার হওয়ার পরেও যদি আপনি সরকারি চাকরি পেতে চান, তাহলে সেটা অর্জনযোগ্য লক্ষ্য না)

R=Realistic (লক্ষ্য হতে হবে বাস্তবসম্মত। যেমন, আমি যদি জীবনে কোনোদিন ক্রিকেট না খেলে, এখন দারুণ মনোবল নিয়ে প্র্যাকটিস করা শুরু করি, লক্ষ্য সাকিব আল হাসান হব, তবে সেটা হবে অবাস্তব একটা লক্ষ্য।)

T=Time-bond (লক্ষ্যটা কত দিনের মধ্যে হাসিল করা যাবে, সেটা সুনির্দিষ্ট থাকতে হবে। আমার বন্ধু পাঁচ বছর ধরে চাচ্ছে একটা সরকারি চাকরিতে ঢুকবে। কিন্তু কত দিনের মধ্যেই তাকে চাকরি পেতে হবে, সেটা পরিষ্কার না। ফলে সেভাবে তাগিদও অনুভব করছে না আর চাকরিও হচ্ছে না।)

সবগুলো বৈশিষ্ট্য একসাথে করে একটা উদাহরণ দেওয়া যাক। ধরেন, আমি লক্ষ্য ঠিক করলাম ‘আত্মোন্নয়ন মূলক বই লিখব।’ এটা একটা DUMB লক্ষ্য, তবে SMART না। SMART-এর আলোকে দেখলে বলতে হবে, আমি আগামী ২০১৬ সালে একটি আত্মোন্নয়নমূলক বই লিখব, যা ফেব্রুয়ারির গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হবে।

আরও পরিষ্কার হয়, যদি ঠিক করে ফেলি, কী ধরনের বই, কত ফরমার হতে পারে, সম্ভাব্য কোন প্রকাশনী থেকে প্রকাশ হতে পারে, টার্গেট পাঠক কারা হবে, বই পড়ে তারা কী কী জানতে পারবে, ইত্যাদি ইত্যাদি। এতে আমার কাজ করতে সুবিধা হবে।

আগেই বলেছি, লক্ষ্য যত পরিষ্কার কাজ তত সহজ। পরিষ্কার লক্ষ্য নির্ধারণ করার জন্য শুধু মনে মনে ভাবলে হবে না, খাতাকলমে লিখতে হবে। লিখুন, কাটুন, এডিট করুন, তারপর ফাইনাল করুন।

লেখার সময় ইতিবাচক বাক্য দিয়ে শুরু করা ভালো। ইতিবাচক লেখা-চিন্তা সব সময় মঙ্গলের। ছোট্ট কিন্তু সাঙ্ঘাতিক গুরুত্বপূর্ণ একটা টিপস দিয়ে শেষ করি এই লেখাটি। খুব আপনজন এবং বিশ্বস্ত কেউ ছাড়া অন্যদের কাছে আপনার ঠিক করা লক্ষ্য প্রকাশ না করাই ভালো। লক্ষ্য হবে গোপন মিশনের মতো। মনোবৈজ্ঞানিক গবেষণা বলে, অন্যকে সব বলে দিলে তা আর করা হয়ে ওঠে না।

এই লেখাটি নেয়া হয়েছে লেখকের “মানসিক প্রশান্তি আর মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জাদুকাঠি” বইটি থেকে। বিশেষ ছাড়ে বইটি কিনতে চাইলে চলে যান এই লিংকে!


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

What are you thinking?

GET IN TOUCH

10 Minute School is the largest online educational platform in Bangladesh. Through our website, app and social media, more than 1.5 million students are accessing quality education each day to accelerate their learning.