স্কিল ডেভেলপমেন্ট, প্রোডাক্টিভিটি

কীভাবে একই সাথে অনেকগুলো কাজ চালিয়ে যাবেন

জীবনে অনেক ক্ষেত্রেই আপনার একা হাতে সবকিছু সামলানো লাগতে পারে। হয়তো আপনি কোন ছোট প্রতিষ্ঠানের মালিক বা উদ্যোক্তা – আপনার একা হাতেই করতে হবে বিপণন থেকে পরিবহন, সবকিছু। এরমধ্যে আবার রয়েছে দৈনন্দিন বিভিন্ন সমস্যা, যা আপনার কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এসব মিলিয়েই আসলে নিজের কাজের সবগুলো দিকে ফোকাস রাখা খুব কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। আজ দেখে নিন কীভাবে একই সাথে অনেককিছু সামলানো যাবে।

‘এফেক্টিভ মাল্টিটাস্কিং’ একটা অবাস্তব টার্ম। মানুষের মস্তিষ্ক সত্যিকার অর্থে কখনোই মাল্টিটাস্ক করতে পারে না, সে যা করে তা হলো – নিজের সময়ের নির্দিষ্ট কিছু অংশ নির্দিষ্ট কাজের ওপরে দেয়। এভাবে মস্তিষ্ক চালিয়ে যেতে থাকে অনেক কাজ, একই সাথে। ব্যাপারটা অনেকটা এরকমঃ কাজ (ক) আপনার হাতের কাছে আছে, (খ) এর গুরুত্ব আরেকটু কম। আপনার মস্তিষ্ক প্রথমেই শেষ করবে (ক), তারপর আপনার অজান্তেই তার কর্মক্ষমতা শিফট করে যাবে (খ) তে। ঠিক যেন একই হোটেল রুমে পরপর অতিথির আগমন। ব্যাপারটা এত দ্রুত ঘটে যে আমাদের বিভ্রম হয় আমরা বুঝি একই সাথে অনেক কিছু করে ফেলছি!

source: clearthinkinginaction.com

অনেকেরই মনে হতে পারে তাঁরা একসাথে অনেক কিছু করতে খুব পারদর্শী, কিন্তু চাপের মুখে অনেকেই ভুল করতে শুরু করেন, ভেঙে পড়েন। কাজে ঘটে ব্যাঘাত বা পুরোটাই বানচাল হয়ে যায়। এ জন্যেই দেখে নিন নিচের উপায়গুলো , যার মাধ্যমে একের পর এক টাস্ক আপনি সামলে নিতে পারবেন।

১। সম্পর্কযুক্ত কাজগুলো একসাথে করুন

যেসব কাজ একে অপরের সাথে লিংকড, সেগুলো একই সাথে করবার চেষ্টা করুন। এতে করে ফোকাস সরে যাবে না, আর আপনি দ্রুত কাজ করতে পারবেন।

যখনই আপনি কোনো একটা কাজ করতে যান, মস্তিষ্ক তার ফোকাস রাখে সেই কাজটির ওপর। যদি বারবার ভিন্ন জিনিসে হাত দেয়া লাগে তাহলে মস্তিষ্ক ফোকাস হারিয়ে ফেলে, নতুন করে জিনিসটা সেট করতে হয় তার। এতে করে সময় হারিয়ে ফেলছেন আপনি। যদি একইধরনের কাজগুলো একসাথে করেন, তাহলে মস্তিষ্কের ওপর চাপটা পড়ে না, আর আপনার ফোকাস সাবলীলভাবে একই কাজের ওপর থাকতে পারে।

 
দেখে নাও রাজা ও সন্ন্যাসীর গল্প!

২। নিজের কাজের একটা তালিকা সবসময় সামনে রাখুন

খুঁটিনাটি কাজ মানুষ ভুলে যেতেই পারে, এবং সেটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু যখনই ব্যস্ততার ভিড়ে একাধিক কাজ বাদ পড়ে যায়, তখনি কাজে ব্যাঘাৎ ঘটে আর সার্বিক পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়ে। কাজেই, নিজের কাজগুলোর তালিকা সবসময় নিজের সামনে রাখবেন। এতে করে আপনি কোন কিছুই ভুলে যাচ্ছেন না, আর ভুলে গেলেও মনে করিয়ে দেবার মত ব্যাকআপ আপনার হাতে থাকছে।

তাই নিজের জন্যে একটা টু-ডু লিস্ট তৈরি করুন আর সে লিস্টের কাজের গুরুত্ব অনুসারে তালিকা করুন। গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো  সমাধা করে নিন, আর ছোট ছোট কাজগুলোর ব্যাপারে সময়ে সময়ে লিস্ট চেক করুন। দেখবেন, আপনার কাজের দক্ষতা আর মান বেড়ে গেছে বহুগুণ।

৩। অবসর সময়কে কাজে লাগান

কোনো মিটিং বা কাজের নতুন কোন আঙ্গিক হঠাৎ চোখের সামনে পড়ে গেলে নিজের কাজ বাদ দিয়ে সেটা নিয়ে বসে যাবেন না। কোনো জিনিস পরিষ্কার করে না বুঝলে পরবর্তীর জন্যে তুলে রাখুন বিষয়টা। অবসরে বসে সেটা রিভিউ করুন। দেখবেন, যা চাপের মাথায় বুঝতে পারছিলেন না, তা মাথা ঠাণ্ডা থাকায় খুব সহজেই বুঝে ফেলেছেন।

চাপ মানুষের জীবনে খুবই সাধারণ একটা জিনিস, আর একসাথে অনেককিছু করতে গেলে স্ট্রেস হওয়া স্বাভাবিক। তাই ধীরেসুস্থে পরিকল্পনা করে এই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা ভালো।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]