বাড়াতে চাও নিজের ইচ্ছাশক্তি?


পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

সেদিন আমাদের শিক্ষক আমাদের বলছিলেন, এখনকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইচ্ছাশক্তির খুব অভাব। শুনে যদিও অনেকে প্রতিবাদ করেছে কিন্তু সেই জায়গায় যখন নিজেকে দেখলাম, তখন ঠিকই বুঝলাম। কোন কিছু করার ইচ্ছাশক্তির দরকার পড়লে মোটিভেশনাল ভিডিও কিংবা লেখা পড়ে অনুপ্রাণিত হলেও কিছুক্ষণ পর সেই আগের মতোই শুরু করি ফেসবুকে সময় নষ্ট করা। ইচ্ছাশক্তি ধরে রাখতে না পারার তাহলে কারণ কী?

সাধারণ অর্থে ইচ্ছাশক্তি বলতে বুঝায় আমাদের দু’টি ভিন্ন মনের মধ্যে দ্বন্দ্ব। একটি হলো, যে কিছু পরিবর্তন আনতে চায়। অপরটি হলো যে তার অবস্থান পরিবর্তন করতে চায় না। এই দু’ইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্বে জিতে ইচ্ছাশক্তি বাড়াতে কিছু বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে। সেই পদ্ধতিগুলো নিয়েই আজকের এই লেখাটি।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

১। পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম এবং পুষ্টিকর খাবার

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমের অভাবে আমাদের মস্তিষ্কের কিছু অংশ কম সক্রিয় হয়ে পড়ে। পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম আমাদের ইচ্ছাশক্তিকে অনেকখানি প্রভাবিত করতে পারে। রাতে ভালো ঘুম না হলে সারাদিনের কাজে ইচ্ছাশক্তির অভাব দেখা দেয়। আগের দিন যত প্রস্তুতিই নেই না কেন, রাতে যদি ভালো ঘুম না হয় তবে পরের দিন সেই কাজটি সঠিকভাবে সম্পাদন করা সম্ভব নয়। এরই সাথে খেতে হবে পুষ্টিকর খাবার, যা মস্তিষ্কে শক্তি জোগাবে এবং মস্তিষ্ককে সচল রাখতে সাহায্য করবে।

২। মেডিটেশন ও ব্যায়াম

গবেষণায় দেখা গেছে , যারা নিয়মিত মেডিটেশন এবং ব্যায়াম করে তাদের মস্তিষ্ক অনেক বেশি সংযুক্ত থাকে এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে প্রভাবিত করতে পারে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ কিংবা দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য পূরণে তাদের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা গড়পড়তাদের তুলনায় বেশি হয়ে থাকে। সারদিনের অবসন্নতা দূর করে নতুন উদ্দীপনা জোগাতে সাহায্য করে মেডিটেশন ও ব্যায়াম।

৩। “Productive” মানুষের সংস্পর্শে থাকুন

আমাদের ইচ্ছাশক্তিকে অনেকটুকু প্রভাবিত করতে পারে আমাদের কাছের মানুষজন। সে কারণে বন্ধু বাছাইয়েও হতে হবে সচেতন। এমন কাউকে বেছে নাও যার থেকে অনেক জ্ঞান অর্জন করতে পারো, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারো। দেখবে তোমার বন্ধু তোমাকে অনেক অনুপ্রাণিত করছে। তার কথা এবং কাজেও অনেক উদ্বুদ্ধ হবে।

 
উদ্যোগ নাও উদ্যোক্তা হবার!
 
 

৪। নিজেই নিজের ভালো বন্ধু হও

কোন কাজ করতে গেলে যদি বারে বারে সেই কাজের ব্যর্থতার কথা ভাবি, তবে তা থেকে কখনোই উপরে উঠা সম্ভব নয়। একবার ব্যর্থতার মানে এই না যে তুমি কখনোই আর সফল হতে পারবে না। সুতরাং নিজেই নিজের ভালো বন্ধু হতে শেখো। নিজেই নিজের কাজের অনুপ্রেরণা জোগাও। আশেপাশের মানুষের সমালোচনাকে বেশি গুরুত্ব দিতে যেও না।

৫। FAILURE-কে স্মরণ করো

কোন কাজ শুরুর আগে আমরা সবসময় ভালো ফলাফলের চিন্তা করি। এই ভালো করার চিন্তা আমাদের ইচ্ছাশক্তিকে বাড়ানোর চেয়ে ক্রমশ কমিয়ে দেয়। যে কারণে সেই কাজের শেষ পর্যন্ত পৌঁছাতে ব্যর্থ হই আমরা। যখন কাউকে ব্যায়াম করার জন্যে অনুপ্রাণিত করতে তার উপকারিতা বলো, সেটি কয়েকদিনের জন্যই কাজে দেবে। কিন্তু তুমি যদি উপকারিতা না বলে সেটি না করলে কী কী সম্ভাব্য ক্ষতি রয়েছে, সেকথা জানাও তাহলে কাজটি আরো দীর্ঘক্ষণের জন্যে করার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

৬। পরিবেশ পরিবর্তন করো

অনেক সময় একই কাজ একই পরিবেশে দীর্ঘদিন ধরে করার ফলে ইচ্ছাশক্তি দিন দিন কমে যেতে থাকে। ইচ্ছাশক্তি বজায় রাখতে পরিবেশ পরিবর্তন করা যেতে পারে। ধরো তোমার পরীক্ষা, কিন্তু কোনভাবেই তোমার পড়ার ইচ্ছাশক্তি জাগছে না। বই নিয়ে কোন নির্জন যায়গায় চলে যাও। হতে পারে বাসার ছাদ কিংবা কোন পার্ক। দেখবে এই নতুন পরিবেশ তোমার পড়ার নতুন উদ্দীপনা জাগাতে সাহায্য করবে।

ইংরেজি ভাষা চর্চা করতে আমাদের নতুন গ্রুপ- 10 Minute School English Language Club-এ যোগদান করতে পারো!

৭। Self-acceptance is better than guilt:

মানুষ মাত্রই ভুল। সুতরাং কোন ভুল করলে তার জন্য নিজেকে ক্ষমা করতে শেখো। ভুল করলে সেটি নিয়ে অনুতাপ করতে থাকলে সেই সাথে ইচ্ছাশক্তিও কমে যেতে থাকে। একটি গবেষণায় দেখা যায়, যারা নির্দিষ্ট ডায়েটে রয়েছেন, তাদের দুই ভাগে ভাগ করা হয়। তাদের সবাইকে বার্গার খেতে দেয়া হয়। তারা তাদের নির্দিষ্ট ডায়েট ভেঙ্গে ফেলায় অনুতাপ করে।

সেখানের একটি গ্রুপকে বলা হয় ভুল করাটা খুবই স্বাভাবিক তাই নিজেকে ক্ষমা করে দেয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। অন্যদিকে আরেকটি গ্রুপকে বলা হয় না। এরপর তাদের চকোলেট খেতে দেয়া হয়। এবার যাদের নিজেকে মাফ করতে বলা হয়েছিল তাদের বেশিরভাগই চকোলেট খাওয়া থেকে বিরত থাকল। নিজ থেকেই তারা সচেতন হলো কারণ একবারের ব্যর্থতায় তারা তাদের মাফ করে দিয়েছে।

ইচ্ছাশক্তি কমার পেছনের কারণ আমরা নিজেরাই। কিছু অভ্যাসের পরিবর্তন করলেই ইচ্ছাশক্তির এই হ্রাসকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।


১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Author
Aysha Noman
এই লেখকের অন্যান্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?