সচ্ছল দেশ: কীভাবে বুঝবে একটি দেশ সচ্ছল কি না

Sadia is currently a student of finance department, University of Dhaka. This quiet person can prove herself as a big sister or a best friend whenever you're in need.

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

কিছুদিন আগে একটা অ্যাসাইনমেন্ট করতে গিয়ে পড়লাম মহা বিপাকে! কয়েকটা দেশের সচ্ছল ভাব নিয়ে ব্রিফ দিতে হবে অথচ আমি জানিই না যে, একটা দেশের সচ্ছলতা কীসের উপর নির্ভর করে পরিমাপ করা হয়! শুরু করে দিলাম প্রফেসর গুগলে ঘাঁটাঘাঁটি।

এরপর যে তথ্যগুলো পেলাম তা আমার মতে শুধু অ্যাসাইনমেন্টের কাজেই না, বরং নিজের সাধারণ জ্ঞান বৃদ্ধির জন্যও জেনে রাখা ভাল। চলুন তবে দেখে আসা যাক একটা দেশের সচ্ছলতা বের করার ধাপগুলো।

ধাপ ১

দেশটির আয়ের উৎসগুলো বিবেচনা করুন। এখানে প্রাকৃতিক সম্পদের ধরণ এবং উৎপাদনের পরিমাণও বিবেচিত হবে। যেমন ধরুন, তুলা পৃথিবীর সব তন্তুময় উদ্ভিদের তালিকায় শুরুতে অবস্থান করে।

তুলার উৎপাদনের উপর ভিত্তি করে আমেরিকা, ভারত কিংবা চীনকে সচ্ছল দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ভারত আবার তন্তুময় উদ্ভিদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে অবস্থিত পাট রপ্তানিতেও বিশ্বে প্রথম।

আবার কয়লার মত মূল্যবান খনিজ সম্পদ উৎপাদনে প্রথম সারিতে রয়েছে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, জার্মানি এবং অস্ট্রিয়া। এsভাবে কোন দেশ কোন ধরণের সম্পদে সমৃদ্ধ এবং বাহ্যিক বিশ্বে তার চাহিদা কেমন এর উপর নির্ভর করে দেশটির সচ্ছলতা নির্ধারণ করা যায়।

 

ধাপ ২

শুধুমাত্র সম্পদে সমৃদ্ধ হলেই হবে না বরং ঐ সম্পদকে সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করার উপরও একটি দেশের সফলতা নির্ভর করে। এই ধাপে কিছু প্রশ্নের মাধ্যমে একটি দেশ সঠিকভাবে তার সম্পদ ব্যবহার করছে কিনা তা বুঝতে হবে। প্রশ্নগুলো হচ্ছে,

১। দেশটির সম্পদ কী কী পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত হতে পারে?

২। সেসব উৎপাদনের পদ্ধতি এবং খরচ কেমন?

৩। উৎপাদিত পণ্য কাদের কাছে রপ্তানি করা হবে এবং কেন?

যেমন, বাংলাদেশ খনিজ সম্পদে অনেক সমৃদ্ধ একটি দেশ হলেও সেই খনিজ সম্পদ কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদ্ধতি কিংবা মূলধন আমাদের দেশে উপস্থিত নেই বিধায় আমরা পৃথিবীর সচ্ছল দেশগুলোর তালিকায় নাম লেখাতে পারছি না।

ধাপ ৩

প্রতিটি দেশেরই অর্থায়নের নিজস্ব নীতি থাকে। এসবের উপরও দেশটির অর্থনৈতিক উন্নতি অনেকটা নির্ভর করে। যেমন, এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সনাতন পদ্ধতিতে অর্থায়ন করা হয়।

রপ্তানির হার যত বেশি এবং ঋণের হার যত কম হবে, সেই দেশ ততবেশি সচ্ছল

অর্থাৎ যুগ যুগ ধরে একইভাবে অর্থায়ন করা। আবার অনেক দেশে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে অর্থায়ন করা হয়। এখানে সরকারই মূলত অর্থায়নের সর্বেসর্বা হয়ে থাকে। কোন নীতি কতটুকু কার্যকর, তার উপরও একটা দেশের অর্থনৈতিক সাফল্য নির্ভর করে।

ধাপ ৪

অর্থনৈতিক উন্নতির দিকে লক্ষ্য করতে হবে। সেবা কিংবা পণ্য উৎপাদনের হারকে অর্থনৈতিক উন্নতির মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একটি নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে, সেবা বা পণ্যের উৎপাদনের হার যদি ঐ দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের তুলনায় বেশি হয়, তবে তাকে অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল দেশ বলা হয়।

জেনে নাও বিতর্কের এদিক-সেদিক!

মত, মতাদর্শ আর আদর্শবাদ গঠনের জন্যই বিতর্ক। বিতর্ক করতে ভালোবাসি আমরা সবাই। কিন্তু সঠিক নিয়মে বিতর্ক করার উপায় জানি কি?
উপায় জানতে হলে ঘুরে এসো ১০ মিনিট স্কুলের এই প্লে-লিস্টটি থেকে!
১০ মিনিট স্কুলের বিতর্ক সিরিজ

ধাপ ৫

রপ্তানি এবং ঋণের পরিমাণ হিসাব করতে হবে। উইকিপিডিয়াতে যেকোনো দেশের রপ্তানি এবং ঋণের পরিমাণ খুব সহজেই পাওয়া যায়। রপ্তানির হার যত বেশি এবং ঋণের হার যত কম হবে, সেই দেশ ততবেশি সচ্ছল।

 

ধাপ ৬

গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট, জিডিপি! অর্থনীতি নিয়ে আপনি যদি একদম পুরোদমে কাজ করতে চান, তবে যেই শব্দটা বাজ-ওয়ার্ড হয়ে সারাদিন আপনার মাথায় ঘুরবে, তা হচ্ছে জিডিপি।

কোনো দেশের, একটা নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে পণ্য উৎপাদনের হারকে জিডিপি বলে। জিডিপি বৃদ্ধি পেলে, দেশের জনগণের জীবনমান বৃদ্ধি পায়। জিডিপি যেসকল চলকের উপর নির্ভর করে, তা হচ্ছে,

১। প্রতিঘন্টায় গড়ে একজন শ্রমিক কতটুকু উৎপাদন করছে।

২। একজন শ্রমিক গড়ে কত ঘণ্টা কাজ করে।

৩। উপার্জনক্ষম জনসংখ্যা।

৪। মোট জনসংখ্যা।

ধাপ ৭

মুদ্রাস্ফীতির হার। যে দেশে মুদ্রাস্ফীতির হার যত কম, সে দেশে অর্থনৈতিক ভাবে ততবেশি উন্নত।

এভাবে, উপরের দেয়া ধাপগুলো অনুসরণ করে, আমার মত, আপনিও বের করে ফেলতে পারবেন একটি দেশের আর্থিক অবস্থা।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?

GET IN TOUCH

10 Minute School is the largest online educational platform in Bangladesh. Through our website, app and social media, more than 1.5 million students are accessing quality education each day to accelerate their learning.