পজিটিভ লাইফ? কীভাবে?


পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

এরিস্টটল ২০০০ বছর আগে বলে গেছেন, ” What is the true purpose of life, if not to live a happy life until we die?” অর্থাৎ জীবনে সফলতা কোথায় যদি শেষ দিন পর্যন্ত হাসি খুশিভাবে বেঁচে থাকা না যায়?! প্রতিদিনকার ব্যস্ত জীবনে আমাদের হাজার ব্যস্ততা, হাজারটা কাজ। জীবনে হাসিখুশি ও ভালো থাকার গুরুত্ব অনেক। বিরক্ত হয়ে, খিটখিটে মেজাজ নিয়ে মনে হয় না ক্যারিয়ারে কেউ কখনো ভালো করতে পেরেছে। পারিবারিক ও ব্যাক্তিগত জীবনেও এর প্রভাব পড়ে নিঃসন্দেহে।

কম্পিটিশন এর এই দুনিয়াতে টিকে থাকতে হলে ও ভালো করতে হলে পজিটিভ মেন্টালিটি ও পজিটিভ জীবন কাটানো দরকার৷ তো জেনে নেয়া যাক পজিটিভ লাইফের কিছু মূলমন্ত্র:

ভালোবাসো নিজেকে:

মানুষের মাঝে একটা কমন প্রবণতা দেখা যায়। মানুষ তার দুর্বল দিকগুলো নিয়ে অনেক ভাবে ও তা চিন্তা করে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। উদাহরণস্বরুপ কেউ শ্যামবর্ণের অথবা কেউ কম কথা বলে অথবা মিশতে ভয় পায় নতুন পরিবেশে৷ এই ব্যাপারগুলো ঐ মানুষটার কোন দোষ না। এটা তার নিজস্ব সত্তা। তাই নিজেকে ভালোবাসতে হবে। আমি যেমন আমি সেভাবেই সেরা- এই ধারণা মাথায় রাখতে হবে। তবেই আত্মবিশ্বাস পাবে কেউ সামনে আগানোর। নিজেকে কেউ যখন ভালবাসে, তখন সে নিজেকে নিয়ে ভাবে।  নিজের খুশি, নিজের জীবনের প্রাধান্য দেয়৷ নিজেকে প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে আরও ভালো বানাতে। তাই আয়নার সামনে দাঁড়াও আর যাকে দেখতে পাচ্ছো, মনে রাখবে তুমি সেরা৷

গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশান ইত্যাদি স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য 10 Minute School Skill Development Lab নামে ১০ মিনিট স্কুলের রয়েছে একটি ফেইসবুক গ্রুপ।

প্যাশন ধরে রাখো :

জীবনে প্রতিটা মানুষের কিছু শখ থাকে, Passion থাকে।  কিছু ভালো লাগার কাজ থাকে যা করতে সে ভালোবাসে। ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে এই কাজগুলাই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে।  ক্রিয়েটিভ মানুষগুলা রোমান্টিক, হাসিখুশি আর পজিটিভ মেন্টালিটির হয় এই জন্যই। অনেকে তাদের শখটাকেই পরবর্তীতে পেশা হিসেবে বেঁছে নেয়। যেমন: ফ্যাশন ডিজাইনিং, পেইন্টিং, সংগীত শিল্পী, অভিনেতা।  নিজের যে শখটা আছে তা চালিয়ে যাও হাজার ব্যস্ততার মাঝেও। এতে পড়াশুনাতে ও কাজে কখনো একঘেয়েমি আসবে না।

পরিবারকে প্রাধান্য দেয়া:

ফেসবুক, নেটওয়ার্কিং আর ইন্টারনেটের এই যুগে মানুষের কাছে প্রিয়জন এখন তার বন্ধু বান্ধব আর ফেসবুক ফ্রেন্ডস। মনে পড়ে শেষ কবে পরিবারে বাবা -মা, ভাই বোনের সাথে বসে একসাথে ভালো কোথায় খেয়েছেন  অথবা গল্প করেছেন? অনেকের উত্তর হ্যাঁ হলেও অনেকেই মনে করতে পারবেনা। এখানেই সমস্যাটা। ব্যস্ত জীবনে আমরা সব কিছুই করি পরিবারকে সময় দেয়া ছাড়া৷ পরিবারের বাবা অথবা মাকে গিয়ে কখনো বলা হয়েছে ভালবাসি??  অথচ আমাদের জন্য সবচেয়ে বেশী ত্যাগ তারাই স্বীকার করে। তাই পরিবারকে সময় ও প্রাধান্য দেয়া আপনাকে ভালো রাখবে। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে যেসব পরিবারে সুসম্পর্ক বজায় থাকে ঐ পরিবারের সন্তানরা লেখাপড়াতেও ভালো হয়।

রাগ ও স্ট্রেস কন্ট্রোল:

রাগ, আমাদের সবার বড় শত্রু। তাই রাগকে কন্ট্রোল করা শিখতে হবে। যখন তখন যেখানে সেখানে যার তার সাথে অযথাই রাগা রাগি করা যাবে না। এটা একদিকে যেমন আপনার ইমেজ নষ্ট করবে, তেমনি পরবর্তীতে রাগ কমে গেলে নিজের মধ্যে অপরাধবোধ কাজ করবে। রাগের পাশাপাশি টেনশন ও স্ট্রেস মেনেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অতিমাত্রায় টেনশন, ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে আমাদের শরীর ও মনের উপর।  

টেনশন এর জন্য মাথাব্যথা বা টেনশন Headache এখন অনেকের কাছে খুব কমন রোগ। তাই টেনশন কমানোর জন্য নিয়মিত ইয়োগা/ মেডিটেশন করতে পারেন। নিয়মিত শরীরচর্চা করা ও জিম করাও বেশ উপকারী হতে পারে। কখনো কখনো অতিমাত্রায় ডিপ্রেশনে চলে গেলে যে কোন সাইক্রিয়াট্রিস্ট/ সাইকোলজিস্ট এর শরণাপন্ন হতে পারেন। এদেরকে শুধুমাত্র মানসিক বিকারগ্রস্থ ব্যক্তিরাই দেখাবেন এ ধারণার কোন যৌক্তিকতা নেই।  যেকোন হেল্প/ মেডিকেশন আপনার জন্য উপকারী হবে ডিপ্রেশন কাটাতে।

খাদ্যাভাস পরিবর্তন:

আমাদের প্রতিদিনকার জীবনে খাদ্যাভাস একটি গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার। অতিমাত্রায় জাংক ফুড অথবা ফাস্ট ফুড খাওয়া তরুন প্রজন্মের কাছে একটি ট্রেন্ডে পরিনত হয়েছে৷ যার দীর্ঘমেয়াদী ফলস্বরুপ  অতিমাত্রায় সুগার ও কোলেস্টেরল জমে শরীর মোটা হওয়া, স্থূলত ইত্যাদি নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়৷ শুধু তাই নয় মানসিক সুস্ততা ও বিকাশের জন্য যে খাদ্য উপাদান দরকার তার কিছুই যখন আমাদের শরীর পায় না, তখন স্বাভাবিক ভাবে মেজাজ খিটখিটে হবে ও পড়াশোনা, কাজে বিঘ্ন ঘটে। তাই নিয়মিত খাদ্য তালিকায় শাক সবজি, ফল মূল, দুধ এসব কিছু নিয়ে আসতে হবে।

টেকনোলজি ব্যাবহারে সতর্কতা:

আমাদের হাতে হাতে আজ রয়েছে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার ও নানা ডিভাইস। দিনের বেশীর ভাগ সময় আমরা কাটাই মোবাইল হাতে নিয়ে। আমরা কি জানি, যে এসব ডিভাইস থেকে নির্গত রেডিয়েশন, রে আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর৷ শুধু তাই নয় মেজাজ খিটখিটে থাকা, মনোযোগের অভাব এসবের পেছনে দায়ী এসব ডিভাইস। তাই অনিয়ন্ত্রিত ডিভাইসের ব্যাবহার বন্ধ করতে হবে। বেশী না দিনে এক ঘন্টা করে মোবাইলটা ব্যবহার কমান। জরুরি দরকার ছাড়া মোবাইল হাতের নাগালে রাখবেন না। এক মাস পর ব্যবধানটা নিজেই বুঝতে পারবেন৷ কাজের গতিও অনেক আগাবে এটা করতে পারলে৷       

 
MS Word এখন হাতের মুঠোয়!
চাকুরিজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে MS Word এবং এরকম বিভিন্ন স্কিলে পারদর্শিতা তোমাকে এনে দিতে পারে নানাবিধ সাফল্য।

 

ঘুমের প্রয়োজনীয়তা:

এ যুগে সবার মাঝে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকা ও সকালে দেরী করে ওঠার প্রবনতা লক্ষ্য করা যায়। ঘন ঘন রাত জাগার ফলে একদিকে যেমন সকালের ক্লাস মিস হয় তেমনি এর দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল স্বরুপ ইনসোমনিয়া,  মানসিক অশান্তি, হতাশা, মাথা ব্যাথা, নিম্ন রক্তচাপ জনিত সমস্যায় ভোগে অনেকেই আজকাল৷ এর প্রতিকার করতে হলে অবশ্যই রাতে ঠিক সময়েশুয়ে পড়া ও সকালে ঠিক সময়ে উঠার অভ্যাস আয়ত্ব করতে হবে।

অতিরিক্ত চাপ নেয়া থেকে বিরত থাকা:

জীবনে চলার পথে নানা ঝক্কি ঝামেলার সম্মুখীন হতে হয়। কারও পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ তো কারও চাকরী না পেয়ে হতাশা।  কেউ পারিবারিক সমস্যায় জর্জরিত তো কেউ ব্রেক আপ পরবর্তী ডিপ্রেশনে৷ হতাশা, মন খারাপ যে কারন থেকেই হোক না কেন, মনে রাখতে হবে আপনি বেশ ভালো আছেন৷ সৃস্টিকর্তা  আপনাকে আরও হাজারটা মানুষের থেকে ভালো রেখেছে এটা কি কম না!??

তাই সব সময় যেভাবে আছেন যে পরিস্থিতিতে আছেন ভালো থাকার চেষ্টা করবেন৷ আমি ভালো আছি, আমার কিছু হয়নি নিজে এটা মনে প্রানে বিশ্বাস করাটাই হলো ভালো থাকার উপায়৷ সামান্য রেজাল্ট খারাপ, অথবা যে কোন হতাশায় আমি একটা ফেইলার, এ জীবন রেখে কি হবে এ ধরনের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে৷ নিজের কাছের মানুষদের সাথে দুঃখ, হতাশা শেয়ার করবেন৷ তাতে দুঃখ কমে৷

সোশ্যাল মিডিয়াতে অমুক মানুষ এটা করছে, আমি কি করছি জীবনে এমনটা ভাবা যাবেনা৷ কারন প্রত্যেক মানুষ আলাদা ও ব্যাতিক্রম৷  সবাই যার যার দিক থেকে সেরা৷ তাই অন্যের সাথে নিজের তুলনা না বরং আপনাকে হতে হবে আপনার মতো সেরা৷ প্রতিদিনচেষ্টা করতে হবে আগের দিনের চেয়ে ভালো করার, নতুন উদ্যমে কাজ করার।

এই  তো বলা হয়ে গেল, বেশ কিছু বিষয় যা মেনে চললে আশা করি জীবনটা একটু হলেও ভালো হবে। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আয়নার সামনে দাঁড়ান । যেমানুষটাকে দেখছেন এই মানুষটাকেই সবচেয়ে বেশী ভালোবাসতে হবে আপনার।  তবেই না অন্যকে ভালবাসতে পারবেন। সুন্দর করে জীবন সাজাতে পারবেন। Steve Jobs একটা কথা আমার অনেক পছন্দের- ” Your time is limited. so don’t waste it living some one else’s life. “


 

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Author
Ayesha Pranty
এই লেখকের অন্যান্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?