সত্যিকারের Happniess খুঁজে পাবে UBUNTU তে!

Tashfikal Sami is a diehard wrestling & horror movie fan. Passionately loves bodybuilding, writing, drawing cartoons & a wannabe horror film director. He's currently studying at the Institute of Business Administration (IBA), University of Dhaka.

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

“উবুন্টু” মজার এই শব্দটি আসলে একটি আফ্রিকান দর্শনের নাম। এর অর্থ কী সেটি জানতে চাইলে শুরুতে একটি গল্প বলা যাক।

একবার এক নৃবিজ্ঞানী আফ্রিকার Xhoso উপজাতির এলাকায় গেলেন গবেষণার কাজে। একদম প্রত্যন্ত অঞ্চল, সভ্যতার ছোঁয়া সেভাবে লাগেনি এখনও। তিনি একটি ঝুড়িভর্তি সুস্বাদু ফল নিয়ে হাঁটছেন, দু’চোখে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, কী যেন খুঁজছেন গভীর মনোযোগে

হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ থমকে দাঁড়ালেন তিনি, কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছে গেছেন। তাঁর সামনে খোলা প্রান্তর, সেখানে উপজাতি শিশুরা খেলা করছে।

Africa, Inspirational, inspiring story, life tips, ubutnu

তিনি আঞ্চলিক ভাষায় একটি হাঁক ছাড়লেন, বাচ্চারা খেলা থামিয়ে অবাক হয়ে তাঁর দিকে তাকালো। বিজ্ঞানী ধীরপায়ে মাঠের কোণে বয়সের ভারে নুয়ে পড়া একটি গাছের গোড়ায় সেই ফলভর্তি ঝুড়িটি রাখলেন।

তারপর ঘুরে বললেন, “তোমাদের মধ্যে যে সবার আগে দৌড়ে এই ফলের ঝুড়ির কাছে পৌঁছাতে পারবে, সবগুলো ফলের মালিক সে-ই হয়ে যাবে!” যেই কথা সেই কাজ, শুরু হয়ে গেল দৌড়। কিন্তু একটি বিস্ময়কর ব্যাপার ঘটেছে- বাচ্চারা সবাই হাতে হাত ধরে একসাথে দৌড়াচ্ছে!

দেখতে দেখতে তারা পৌঁছে গেল গাছের তলায়। সবাই একটি করে ফল তুলে নিলো হাতে, সবাই যে সমানভাবে বিজয়ী! ফল হাতে একসাথে গোল হয়ে বসে মনের খুশিতে খেতে শুরু করলো বাচ্চারা।

বিজ্ঞানী কৌতূহল ধরে রাখতে না পেরে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমরা সবাই দলবেঁধে কেন দৌড়ালে? প্রতিযোগিতা করে দৌড়ালে যে প্রথম হতো সে তো সবগুলো ফল পেয়ে যেতো! একটা একটা করে খেতে হতো না।”

একটি শিশু উত্তর দিলো, “উবুন্টু! আমি একা কীভাবে খুশি হবো যদি আমার বন্ধুদের সবার মন খারাপ হয়?”

বিজ্ঞানীর কাছে এ প্রশ্নের উত্তর ছিল না। তিনি চুপ করে রইলেন, কেবল ঠোঁটের কোণে খেলে গেল একটুকরো হাসি, ত্যিকারের সুখী মানুষের সন্ধান যে তিনি পেয়ে গেছেন!

আফ্রিকার সেই প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের থেকে সত্যিই আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। ওদের কাছে স্মার্টফোন নেই, ল্যাপটপ নেই, আধুনিক প্রযুক্তির সাথে কোন পরিচয় নেই; কিন্তু ওদের আছে অনেক বড় একটি হৃদয়, ভালবাসা-মমতাপূর্ণ একটি মন।

কতোজন মানুষ আমার ছবি দেখে আঙ্গুল দিয়ে ছুঁয়েছে সেটির উপর আমার ‘হ্যাপিনেস’ নির্ভর করছে!

ধন-সম্পদ, তথ্য-প্রযুক্তির দিক থেকে আমরা যোজন যোজন এগিয়ে থাকতে পারি, কিন্তু তবু কিসের যেন খচখচানি মনের মাঝে অপ্রাপ্তির হাহাকার, দিনশেষে ওদের মতো করে অকৃত্রিম সুখের হাসি আসে না মন থেকে, কৃত্রিমতার চাদরে ঢেকে থাকে আনন্দ।

আফ্রিকার সেই সহজসরল অকৃত্রিম মানুষগুলোর অদ্ভুত সুন্দর এই দর্শনটিই হচ্ছে উবুন্টু। “Ubuntu” শব্দটির পূর্ণ রূপ “Umuntu ngumuntu ngabantu” যার  অর্থ হচ্ছে “I am because we are”।

বাংলায় বলতে গেলে কামিনী রায়ের সেই পংক্তির মতো, “সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।”

আমরা এমন একটি সমাজে বাস করছি যেখানে সুখের পরিমাপ করা হয় “Show off” এর মাধ্যমে। একটু ঠাণ্ডা মাথায় ভেবে দেখলে খুব অবাক লাগে- আমাদের সত্যিকার বন্ধুত্ব, ভালবাসার সম্পর্কগুলো কতো ঠুনকো হয়ে গেছে। আমরা পাশের বাড়ির মানুষগুলোকে পর্যন্ত ঠিকমতো চিনি না।

আমাদের সবার হাতে হাতে একটি চারকোণা যন্ত্র আছে, আমাদের মনোযোগ সেটিতে নিবদ্ধ থাকে দিনের সিংহভাগ সময়। সেই যন্ত্রে ফেসবুক নামে একটি জগত আছে, সেখানে আমাদের অনেক বন্ধু রয়েছে, যাদের অনেককেই আমরা বাস্তব জীবনে সামনাসামনি হয়তো কখনো দেখিইনি!

সেখানে আমরা বেছে বেছে এমন একটি সময় ঠিক করে ছবি দেই, যখন সেই বন্ধুরা বেশি পরিমাণে উপস্থিত থাকে। ছবি দেখে তারা হাতের সেই চারকোণা যন্ত্রে একটি স্পর্শ করে, সেটিকে লাইক বলে। এরকম কতোজন মানুষ আমার ছবি দেখে আঙ্গুল দিয়ে ছুঁয়েছে সেটির উপর আমার ‘হ্যাপিনেস’ নির্ভর করছে!

বাইরে কোথাও খেতে গেলে সবার আগে আমরা একটি ছবি তুলে অন্তর্জালে পোস্ট করি, কারণ আমি দুপুরে কী খেলাম তা যদি সবাইকে ঢোল পিটিয়ে না-ই জানালাম তাহলে খাওয়াটা গলা দিয়ে আদৌ নামবে!

আমি একজনের কথা জানি, তার মা মুমূর্ষু অবস্থায় বিছানায় শুয়ে কাতরাচ্ছে এক গ্লাস পানির জন্য, সে হেডফোন কানে গান শুনতে শুনতে ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছে, “Guys! My mom is sick. #PrayForHer”।

লক্ষ্য করলে এরকম অনেক উদাহরণ পাওয়া যাবে যেগুলো একটি জিনিস চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়- আমরা অনেক বেশি আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছি। চলো এবার একটি পরিবর্তন নিয়ে আসি আমরা। বন্ধুদের আড্ডায় ফোন গুঁতানোকে না বলি। প্রতিদিন পরিবারের সবাইকে নিয়ে অন্তত রাতের খাবারটা একসাথে খাই। একটা Voluntary organization – এ স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করি।

শত শত কোটি মানুষ সবাই মিলে পৃথিবীজুড়ে বিশাল এক পরিবার, তার মাঝে কেন আত্মকেন্দ্রিক হয়ে থাকবো আমরা? বাবা-মা কে অনেকদিন বলা হয়না ভালবাসি, আজ না হয় দুজনকে জড়িয়ে ধরে কাঁপা কাঁপা স্বরে বললে,

“ভালবাসি তোমাদের ভীষণ!”

ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা পথশিশুটির শীতের কাঁপুনিতে ঘুম হয়নি সারা রাত, ওকে কম্বলের উষ্ণতার আলোয় মুড়িয়ে দাও, দেখবে জীবনের নতুন এক মানে খুঁজে পাবে তুমি! এটাই যে উবুন্টুর চেতনা!


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?

GET IN TOUCH

10 Minute School is the largest online educational platform in Bangladesh. Through our website, app and social media, more than 1.5 million students are accessing quality education each day to accelerate their learning.