ব্যস্ততাকে পাশ কাটাও, একটু সময় খুঁজে নাও

Afnan Hilllol is the oddest walker in a road and a lazy dreamer with thousands of dreams. Loves to ride cycle, listen songs and watch movies.

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবারে শুনে নাও!

 

আমার প্রতিটা দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে ক্যাম্পাসে আর ল্যাপটপের সামনে। এর বাইরে কোন কাজ করার জন্য আমি খুব কম সময়ই পাই। এর ফলে যা হয়, আমার প্রায়ই মনে হয়- “ইস, যদি আরেকটু সময় পেতাম! যদি একটু বাইরে ঘুরে আসতে পারতাম!” আর মাঝে মাঝেই বন্ধুদের করা কোন ঘুরাঘুরির পরিকল্পনায় থাকতে পারি না।

একদিন ভাবতে বসলাম কীভাবে এই অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়? কীভাবে আরেকটু সময় পাওয়া যায় এই ক্যাম্পাস আর ল্যাপটপের বৃত্ত থেকে বের হওয়ার জন্য? কিন্তু, সমস্যা হল দিন-রাত তো ২৪ ঘন্টাই। এর চেয়ে তো বাড়ানো যায় না। এর মাঝেই খাওয়া, ঘুম, কাজ, ক্লাস সব করতে হয়।

তাহলে উপায়?

উপায় একটাই। প্রতিদিনের কাজের মধ্যে থেকেই একটুখানি সময় বের করে নেয়া। কিন্তু তা কি আদৌ সম্ভব? দেখলাম আসলেই সেটা সম্ভব। আর সেটা তোমাদের সাথে শেয়ার করার জন্যই লিখতে বসলাম। চলো দেখে আসি প্রতিদিনের কাজের মধ্যে থেকেই আমরা কীভাবে সময় বের করে নিতে পারি।

১। একবারে একটি কাজেই মনোযোগ দাও:

যখন আমরা কোন কাজ করি তখন আমাদের মস্তিষ্ক সেই কাজের জন্যই নিজেকে তৈরি করে নেয় এবং ভালোমত কাজ করতে পারে। কিন্তু যখন আমরা একবারে একাধিক কাজ করতে যাই তখন মস্তিষ্ককে একাধিক কাজের জন্য নিজেকে তৈরি করে নিতে হয়।

যখন আমাদের মস্তিষ্ক এরকম কোন অবস্থায় পড়ে, তখন তার একটু বেশি সময় লেগে যায় কাজগুলো ভালোভাবে শেষ করতে। সাধারণত দুইটি কাজ আলাদা আলাদাভাবে করলে আমাদের যতটুকু সময় লাগতো, একসাথে করতে তার চেয়ে বেশি সময় লেগে যায়।

এই সময়ের অপচয়টুকু রোধ করা যায় একবারে একটি কাজে মনোযোগ দেয়ার মাধ্যমে। এতে করে যেমন দ্রুত কাজ শেষ করা যায় তেমনি কাজটিও সুন্দর হয়।

২। একটি তালিকা তৈরি করে নাও:

যদি এমন হয় যে, তোমার সারাদিনে বেশ কয়েকটি কাজ করতে হবে এবং কাজগুলো একটা আরেকটার সাথে খুব বেশি সম্পর্কযুক্ত না, তাহলে তোমার যেটা করা উচিত সেটা হল আগের রাতে বা ওইদিন সকালে একটি তালিকা তৈরি করে নেয়া।

কাজগুলোর একটি তালিকা তৈরি করে নিলে একটি কাজ শেষ করার পরে কোন কাজটি করবে তা তোমাকে ভাবতে হবে না।

আমার ক্ষেত্রে যেটা প্রায়ই হয়, কিছুটা সময় ভাবতে ভাবতেই চলে যায় যে এখন আমার কী করা উচিত বা এখন কী করার কথা ছিল। এর ফলে বেশ কিছুটা সময় নষ্ট হয়ে যায়। কাজের তালিকা আমাদের এই সময়টুকু অপচয়ের হাত থেকে বাঁচিয়ে দেয়।

৩। কিছুটা কাজ কমিয়েই নাও:

একদিনে খুব বেশি কাজের চাপ না নিলে যদি বেশি সমস্যা না হয় তাহলে আমি বলবো কাজের চাপ কিছুটা কমিয়ে নিতে। এতে করে তুমি বেশ কিছুটা সময় পাবে। সে সময়টা একটু নিজের জন্য রাখতে পারবে।

আমি যেটা করি সেটা হচ্ছে পরবর্তী দুই-তিনদিনের কাজকে এমনভাবে ভাগ করি যেন প্রতিদিন মোটামুটি সমান এবং সহনীয় পর্যায়ের চাপ পড়ে। এতে করে কোনদিন অনেক বেশি কাজ আবার কোনদিন কোন কাজই নেই- এমন অবস্থার সৃষ্টি হয় না।

যদি কোনদিন খুব কম কাজ পড়ে যায়, সেদিন আমি পরের কোন একদিনের কাজ থেকে কিছুটা করে কাজ এগিয়ে রাখি। এর ফলে আমি প্রতিদিন কিছুটা সময় পাই যে সময়টুকু পাওয়ার জন্য আগে আফসোস করতাম।

৪। আফসোসের কী প্রয়োজন?:

মাঝেমাঝেই আমরা এই ভুলটি করে থাকি। কোন কাজ যদি ঠিকমত না করতে পারি, তাহলে আফসোস করেই আরো সময় পার করে দিই। এটি খুব বড় একটি ভুল। এর ফলে অনেকটা সময় নষ্ট হয়।

যদি ঠিকমত সবকিছু সামলাতে পারো তাহলে ২৪ ঘন্টা অনেক সময়

আমরা অনেক কাজই করতে পারি একদিনে, আর তার মাঝে কিছু না কিছু ভুল হয়েই যেতে পারে। কিন্তু সেই ভুলের জন্য আফসোস করে যদি আরো সময় নষ্ট করি, তাহলে ওই কাজ তো ঠিক হবেই না বরং অন্য কাজগুলোতেও খারাপ প্রভাব পড়বে।

এই জিনিসটি আমি আমার আশেপাশের মানুষগুলোর মাঝে প্রায়ই দেখি। মনে রাখবে, আফসোসে ভুল শুধরাবে না বরং অন্য কাজেও ভুল করার আশংকা বেড়ে যাবে

৫। কাজের সময় মনকে কাজেই আটকে রাখো:

আমরা যখন একাগ্রচিত্তে কোন কাজ করি তখন সেই কাজটি খুব ভালোভাবে এবং দ্রুত শেষ হয়। অপরদিকে যদি কাজের মাঝে মন না থাকে, তখন কাজটি ভালোও হয় না আর শেষ হতেও বেশ কিছু সময় লেগে যায়। আর তাই কাজের সময় কাজে মন রাখাটা জরুরি।

আমরা যারা কম্পিউটারে কাজ করি, তারা কাজে মন ধরে রাখতে বেশ সমস্যায় পড়ি। এর কারণ হচ্ছে ফেসবুক, ইউটিউবসহ আরো কিছু সাইট। বারবার ইচ্ছা হয় একটু নিউজফিডটা ঘুরে আসতে কিংবা ছবিতে কয়টা লাইক পড়লো তা দেখতে। কিন্তু নিজেকে এই কাজ থেকে যত বিরত রাখতে পারবে, তত দ্রুত কাজ শেষ হবে আর তোমার সময় বাঁচবে।

৬। সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহার করো:

সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহার বলতে আমি বুঝাতে চাচ্ছি ছোট ছোট কাজগুলো বড় কোন কাজের ফাঁকে করে ফেলা। যেমন তোমার যদি কারো সাথে কোন মিটিং থাকে এবং তার জন্য কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে সেই সময়টুকুর মধ্যে কোন একটা কাজ করে ফেলতে পারলে করে ফেলো।

আমি অনেক লেখালেখির কাজ করি। মাঝে মাঝে যখন খুব চাপের মধ্যে পড়ে যাই তখন এই কাজটি করি। আমার বাসা থেকে ভার্সিটি যেতে প্রায় দেড় ঘন্টার মত লাগে। এই দেড় ঘন্টা সময়ের মাঝে প্রায় ১ ঘন্টার বেশি আমি বসে থাকি বাসে আর লেগুনায়। এই সময়টায় আমি লিখে কিছুটা এগিয়ে রাখি যাতে চাপটা কমে

যদিও এত চাপ নিতে আমি কাউকে বলি না, তবে যদি বেশি চাপ থাকে তবে এরকমটা করে দেখতে পারো।

সারাদিন কাজের মধ্যে থাকতে কারই ভালো লাগে? মনে রাখবে, জীবন শুধুমাত্র কাজ করার জন্যই নয়। আর যদি ঠিকমত সবকিছু সামলাতে পারো তাহলে ২৪ ঘন্টা অনেক সময়। এর মাঝে থেকে পড়ালেখা, ক্লাস ছাড়াও একটু সময় বের করে নেয়া যায়।

বিশ্বাস না হলে আমি যে উপায়গুলো বললাম সেগুলো মানার চেষ্টা করেই দেখো। তুমিও পারবে প্রতিদিন ব্যস্ততার মাঝে কিছুটা সময় বের করে নিতে।

এই লেখাটির অডিওবুকটি পড়েছে আব্দুল্লাহ আল মেহেদী


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?

GET IN TOUCH

10 Minute School is the largest online educational platform in Bangladesh. Through our website, app and social media, more than 1.5 million students are accessing quality education each day to accelerate their learning.