হার্ভার্ড এক্সপেরিমেন্ট: নিজের সাফল্য নিজেই আনো


পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

টনি রবিন্স, ব্রায়ান ক্রেসি বা জিগ জ্যাগলারের নাম হয়তো অনেকেই শুনেছো। সবাই প্রখ্যাত লেখক, এক একজনের বইকে বলা যায় লাইফ হ্যাকস আর ক্যারিয়ার গড়ার অনুপ্রেরণার আধার! এই সব বিখ্যাত লেখকদের বইগুলোতে আমি একটা খুব জনপ্রিয় এক্সপেরিমেন্টের কথা পড়েছিলাম। পুরো বিষয়টা বলতে গেলে আমার চিন্তাধারাই পালটে দিয়েছিল!

হার্ভার্ড এক্সপেরিমেন্ট:

১৯৭৯ সালে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির এমবিএ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটা এক্সপেরিমেন্ট করা হয়েছিল। প্রথমেই তাঁদের বলা হয়েছিল, “তোমাদের মধ্যে কার কার নিজের ভবিষ্যত লক্ষ্য ঠিক করা আছে?”

কী মনে হয়, কয়জনের ছিল, সেখানে?

প্রশ্নের উত্তরে শতকরা ৮৪ ভাগ শিক্ষার্থী বলে বসেন যে তাঁদের সেরকম কোন লক্ষ্য ঠিক করা নেই। বাকি ১৬ ভাগের ১৩ ভাগ উত্তর দেন, যে তাঁদের মাথায় আছে নিজেদের লক্ষ্য, কিন্তু তারা সেগুলো আর খাতায় লিখে রাখেননি। বাকি যে ৩ ভাগ মানুষ ছিলেন, শুধুমাত্র তারাই নিজেদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ঠিকঠাক করে সেগুলো আবার লিখেও রেখেছেন!

দশ বছর পর:

ঠিক দশ বছর পরে এক্সপেরিমেন্ট শেষ হলো। এই দশ বছরে খুব সূক্ষ্মভাবে সব শিক্ষার্থীদের নজরদারি করা হলো। তাঁদের ট্র্যাক রেকর্ড, চাকরি আর সবকিছু। দশ বছর শেষে দেখা গেলো, সেই যে ১৩ ভাগের লক্ষ্য মাথায় ছিল? এই ১৩ ভাগের মানুষগুলো যেই ৮৪ ভাগের মাথাতেই ছিল না কোন লক্ষ্য, তাঁদের থেকে তিনগুণ বেশি উপার্জন করছে।

আরো মজার ব্যাপার হলো, যে ৩ ভাগ একেবারে প্ল্যান করে সেটা খাতায় সেট করে ফেলেছিল, তারা বাকি ৯৭ ভাগের থেকেই অনেক অনেক বেশি উপার্জন করে ফেলেছে!

এই এক্সপেরিমেন্ট কি আসলেই হয়েছে?

পুরো বিষয়টা নিয়ে আরেকটু ঘাঁটাঘাঁটি করার পরে আমি আরো কিছু ইন্টারেস্টিং জিনিস বের করে ফেললাম। এক দল আছে, যারা বিশ্বাস করে এই এক্সপেরিমেন্টের কোনকিছুই সঠিক নয়, তারা উঠেপড়ে লেগেছে এটাকে ভুল প্রমাণের জন্যে। আরেক দল আছে, যারা বিশ্বাস করে এই এক্সপেরিমেন্টটা কোনকালে হয়ই নি! এ নিয়ে আরো কিছু বই পড়তে গিয়ে আবিষ্কার করলাম আসল সত্যিটা।

এক্সপেরিমেন্টটা হয়েছে কি হয় নি, পার্সেন্টেজটা কত বেশি বা কত কম, সেটা আসলে কোন বিষয় না। পুরো কনসেপ্টটা যে সত্যি, এক্সপেরিমেন্ট বা থিওলোজিক্যাল এক্সপেরিমেন্টের মূল বক্তব্য এটাই, যে কেউ যদি নিজেদের লক্ষ্য সেট করে রাখে, সেটা যদি আরেকটু গোছানো উপায়ে খাতায় রাখতে পারে, তাহলে পরবর্তী জীবনে অন্যদের থেকে সে অবশ্যই এগিয়ে থাকতে পারবে!

এক্সপেরিমেন্টের প্রভাব:

সবকিছু পড়ে আমিও ভাবলাম যে হ্যাঁ, এখন থেকে এই লক্ষ্য সেট করার কাজটা তো করাই যায়! তারপর খাতায় লেখার চেষ্টাটা অন্তত করে দেখি, ফলাফল কী হয় দেখা যাক। লং টার্ম বলবো না, তবে গত দুই বছরে এটা করার ফলাফল আমার কাছে অনেক ভালোই হয়েছে। এই কাজটা করলে আমার দু’টো ব্যাপারে খুব উপকার হয়।

১। লক্ষ্য স্থির করে সেটা খাতায় লিখে রাখলে, আমি যে কাজই করি, সেটা হোক ফেসবুকের নোটিফিকেশন চেক বা একটা মুভি দেখা- ওই লক্ষ্যটা আর হারিয়ে যাবে না, খাতাতেই থাকবে সবসময়।

২। একইভাবে, কাজকর্ম করলেও যেটা হবে, মাথার মধ্যে ঘুরতে থাকতে আমার লক্ষ্যের কথা। সেটা আর ভোলা যাবে না।

খেয়াল রাখতে হবে দু’টি বিষয়ে:

এটা নিয়ে আরেকটু রিসার্চ করার পরে দেখলাম, যতো যাই হোক, এই লক্ষ্য সেট করতে গেলেও কিছু বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখতে হয়। দু’টো বিষয়ের দিকে নজর রাখা তো মাস্ট! এগুলো হচ্ছে দু’টো প্রশ্ন, যেগুলো নিজেকে করলে আর উত্তর পেলেই তুমি লক্ষ্য স্থির করতে আরো বেশি নিশ্চিত হতে পারবে।

প্রথম প্রশ্ন: তোমার লক্ষ্যটা কি নির্দিষ্ট বা স্পেসিফিক?

ধরো, তোমার নতুন বছরে লক্ষ্য হচ্ছে ওজন কমানো, ফিট থাকা। এটা কিন্তু কোন নির্দিষ্ট লক্ষ্য না। তুমি ওজন কতটুকু কমাবে, সেটাকে নির্দিষ্ট বলা চলে। ধরো তোমার ওজন ১০০ কেজি। তুমি প্ল্যান করলে দুই মাসে সেটাকে ৮০ কেজিতে নামিয়ে আনবে। এটাই হবে নির্দিষ্ট লক্ষ্য।

দ্বিতীয় প্রশ্ন: তোমার লক্ষ্যের কোন অ্যাকশন প্ল্যান সেট করা আছে কি?

এটা হচ্ছে যেকোন লক্ষ্যে পৌছানোর জন্যে সবথেকে দরকারি জিনিস। অ্যাকশন প্ল্যান বা একটা নির্দিষ্ট প্ল্যান থাকলে যেটা হবে, সেটা হলো ওই মানুষটি তার লক্ষ্যের দিকে ছুটতে থাকলে কোন বিপদে পড়বে না, কারণ তার ইতিমধ্যে পুরো প্ল্যানটা রেডি করাই আছে!

তুমি একা না পারলে পরিবার, বন্ধুবান্ধবের সাহায্য নাও। তারপরেও তৈরি করে ফেলো একটা অ্যাকশন প্ল্যান। তারপরে কাজ করতে শুরু করো তোমার টার্গেট অনুযায়ী।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই এক্সপেরিমেন্টের ফল আমি আমার গত দুই বছরে খুব ভালোমতো পেয়েছি। এইটুকু বুঝতে পেরেছি, খাতা কলমে নিজের লক্ষ্যটা একটিবার লিখে রাখতে পারলে সেটা অনেক বেশি কাজে দেয়। সঠিক প্ল্যান করে সেই লক্ষ্যে কাজ করতে থাকলে সাফল্যের দেখা মিলতেই হবে, মিলবেই!


১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

 

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?

GET IN TOUCH

10 Minute School is the largest online educational platform in Bangladesh. Through our website, app and social media, more than 1.5 million students are accessing quality education each day to accelerate their learning.