স্কিল ডেভেলপমেন্ট

হাতের লেখার গতি বাড়াতে কী করবো?

পুরোটা পড়ার সময় নেই ? ব্লগটি একবার শুনে নাও !

ধরো, তুমি একজন নিয়মিত ছাত্র। ক্লাসে শিক্ষকদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনো, টেন মিনিট স্কুলের ভিডিও টিউটোরিয়াল ও লাইভ ক্লাসগুলো সবসময়ই দেখো, বাসায় প্রচুর প্র্যাকটিস করো এবং তোমার পরীক্ষার সিলেবাসে যা যা আছে তার সবই তুমি পারো।

এই আত্মবিশ্বাস নিয়েই তুমি পরীক্ষা দিতে গেলে এবং প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে দেখলে— আসলেই তুমি যা যা পড়ে এসেছো সবগুলোই কমন এসেছে। সবগুলো প্রশ্নের উত্তর তুমি পারো! কেমন লাগবে তোমার? নিশ্চয় অনেক ভালো।

কিন্তু পরীক্ষা শেষে তুমি দেখলে ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় তুমি মাত্র ৭০ নম্বরের উত্তর লিখতে পেরেছো, বাকি ৩০ নম্বর তোমাকে ছেড়ে দিতে হয়েছে। কারণ, পরীক্ষার নির্ধারিত সময় শেষ! শুধু দ্রুত লিখতে পারো না বলে জানা প্রশ্নের উত্তরগুলোও তুমি লিখতে পারো নি। এবার কেমন লাগবে তোমার? খুব একটা ভালো লাগার কথা না।

পরীক্ষায় দ্রুত লিখতে পারাটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার শেষের দিকে এসে সেটা আমরা (যারা দ্রুত লিখতে পারি না তারা) সবাই অনুধাবন করি। শুধু পরীক্ষাতেই না; ক্লাসে শিক্ষকদের লেকচার নোট করার সময়, বিভিন্ন লেখালেখির প্রতিযোগিতায় শুধু লেখার গতি কম থাকার জন্য পিছিয়ে পড়তে হয় বারবার। তাই কিভাবে লেখার গতি একটু বাড়ানো যায় সেটা নিয়েই কয়েকটি কথা বলছি।

লেখার ফন্ট ছোট করে ফেলা:

আমরা অনেকেই তুলনামূলক বড় বড় অক্ষরে লেখি এবং আমাদের লেখার দ্রুততা কমার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী এই জিনিসটাই। কীভাবে এটা লেখার গতি কমায়? ধরো, প্রথমে আমি খাতার আস্ত একটি পৃষ্ঠা নিয়ে ‘আ’ লেখলাম, তারপর অর্ধেক পৃষ্ঠা নিয়ে লেখলাম এবং সবশেষে খাতার এক কোনায় ছোট্ট করে লেখলাম; কোনটায় সবচেয়ে বেশি সময় লাগবে বলে মনে হয়? অবশ্যই প্রথমটিতে, তারপর দ্বিতীয়টিতে এবং সবচেয়ে কম সময় লাগবে খাতার এক কোনায় ছোট করে লেখলে। তাই এটা বলাই যায় যে— লেখার ফন্ট ছোট হলে লেখার দ্রুততা বাড়ে।

এটা ঠিক যে বড় করে লেখলে লেখার সৌন্দর্য একটু বাড়ে বৈ কি কিন্তু সেই সাথে দ্রুততাও কিন্তু কমে। তাই লেখার ফন্টের সাইজ মাঝামাঝি করা গেলে লেখার সৌন্দর্য ও গতি দু’টোই ঠিক থাকবে।

বারবার অনুশীলন করলে নিজের যোগ্যতার সর্বোচ্চ পর্যন্ত অ্যাচিভ করা সম্ভব

নিয়মিত প্র্যাকটিস করা:

বছরের বিভিন্ন সময়ে আমরা স্কুল থেকে লম্বা ছুটি পেয়ে এখানে-সেখানে বা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে চলে যাই। এই ছুটির দিনগুলো বই একটু নেড়েচেড়ে দেখা হলেও খাতা মোটেও খুলে দেখা হয় না। এ কারণে লেখাও হয় না। আর দীর্ঘদিন না লেখার ফলে লেখার ধারও কমে যায়।

তাই বন্ধের এই সময়গুলো দিনে ন্যূনতম এক পৃষ্ঠা লেখার চেষ্টা করা উচিৎ। বইয়ের পড়া লেখতে ভালো না লাগলে ‘আজ সারাদিন কী করলাম’ বা দু-একটি গল্প, কবিতা, রচনা লেখার চেষ্টা করতে পারো। এতে করে নিজের সৃজনশীলতা বা সৃষ্টিশীলতাও যেমন বাড়বে ঠিক তেমনি লেখার চর্চাও থাকবে।

যা শিখেছ তা মাথায় না রেখে খাতায় রাখো:

‘যা শিখেছ তা খাতায় লেখ’— বড়দের কাছ থেকে এই একটি কথা আমরা এত বেশি পরিমাণে শুনি যে পরবর্তীতে এটাকে আর খুব একটা গুরুত্ব দেই না। কিন্তু হাতের লেখা সুন্দর ও দ্রুত করার জন্য এর চেয়ে ভালো উপায় আর হতেই পারে না। কোন পড়া শেখার পর সেটা লেখে ফেললে সেই পড়া ভুলে যাবার সম্ভাবনাও অনেক কম।

এ ছাড়া ঘড়ি ধরে লেখা গতি মাপতে হবে। যেমন স্টপওয়াচ দিয়ে দুই মিনিটে কতগুলো শব্দ লেখা যায় তা গুনে ফেলতে হবে; তার পরের বার চেষ্টা করতে হবে আগের চেয়ে অন্তত একটি শব্দ বেশি লেখার। এভাবে বারবার অনুশীলন করলে নিজের যোগ্যতার সর্বোচ্চ পর্যন্ত অ্যাচিভ করা সম্ভব।

এবার বাংলা শেখা হবে আনন্দের!

ঘ ইউনিটে পরীক্ষা দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম!

তাই আর দেরি না করে, আজই ঘুরে এস ১০ মিনিট স্কুলের এক্সক্লুসিভ বাংলা প্লে-লিস্টটি থেকে!

ব্যাকরণে ভাল দখল রাখা:

বাংলা অথবা ইংরেজি লেখার সময় ব্যাকরণ সঠিক ভাবে জানা না থাকলে ‘এটা’ হবে নাকি ‘ওটা’ হবে চিন্তা করে আমরা একটু হলেও সময় নষ্ট করি। এবং এতে করে লেখার গতিও ব্যাহত হয়। যেমন: বাংলায় ‘কি’ এবং ‘কী’ এর ব্যবহার প্রচুর। এছাড়া ইংরেজিতে ‘Its’ ও ‘It’s’ এর ব্যবহারও প্রচুর। এর সঠিক ব্যবহার যদি না জানি তাহলে বারবার থামতে হবে এবং লেখায় ভুলও বেশি হবে। সুতরাং ব্যাকরণগত এই খুঁটিনাটি গুলো অবশ্যই জানা উচিৎ।
বানানে ভালো হওয়া:

বাংলা ও ইংরেজিতে কিছু শব্দ আছে বেশ কনফিউজিং। যেমন: বাংলায় ‘খোঁজা’/‘খোজা’ বা ‘বাক’/‘বাঁক’ শব্দের বানানে গোলমাল লেগে যাওয়া খুব স্বাভাবিক। এছাড়া ইংরেজীতে ‘Pen’/‘Pan’ বা ‘Hare’/‘Here’/‘Hair’ ইত্যাদি শব্দগুলোর পার্থক্য না জানা থাকলে লেখার সময় বারবার থেমে থেমে চিন্তা করতে হয় এখানে ‘এটা’ হবে নাকি ‘ওটা’ হবে। যা লেখার গতি কমায়। এছাড়া ‘কিংকর্তব্যবিমূঢ়’ বা ‘Lieutenant’ এর মত একটু কঠিন শব্দগুলোর বানানও শিখে নেয়া জরুরী।

উপরের বিষয়গুলো হচ্ছে দীর্ঘ মেয়াদী। এগুলো ভালোভাবে অনুশীলন করার পর পরীক্ষার হলে গিয়েও কিছু খুঁটিনাটি ব্যাপারের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। যেমন: যে বেঞ্চে বা চেয়ারে বসে পরীক্ষা দিচ্ছি সেটি ঠিক আছে কী না। না থাকলে ঠিক করে নিতে হবে। এ ছাড়া যে কলম দিয়ে লিখে স্বাচ্ছন্দ্য পাওয়া যায় একটু দামী হলেও সেই কলমই ব্যবহার করা উচিৎ।

উপরের বিষয়গুলো একটু যত্ন নিয়ে অনুসরণ করলে আশা করা যায় হাতের লেখার গতি আগের চেয়ে অনেক শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]