টেলিভিশনে আসক্তি কমিয়ে ফেলো ৪টি সহজ উপায়ে!

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবারে শুনে নাও!

 

একটানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়াশোনা করতে কার ভালো লাগে! একঘেয়েমি কাটানোর জন্য হালকা বিনোদনের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। বিনোদনের অভাব পূরণ করতে আমরা প্রায়ই রিমোট হাতে নিয়ে টেলিভিশনের সামনে বসে যাই। আর এভাবেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা টেলিভিশন দেখতে দেখতে তা আসক্তিতে পরিণত হয় মনের অজান্তেই। জীবনে কোনো কিছুর আসক্তিই মঙ্গল নয়, এমনকি টেলিভিশনের আসক্তিও!

সহজ ভাষায় আসক্তি বলতে আমরা বুঝি কোনো কাজের প্রতি ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা এবং কোনো বাছ-বিচার ছাড়াই সেই কাজ করতে থাকা। যেকোন আসক্তির অন্তিম ফলাফল সবসময় শূন্যই হয়, ক্ষতি ছাড়া লাভ নেই এতে। একটু চেষ্টা এবং নিচের ৪টি পদ্ধতি মাথায় রাখলেই কমিয়ে ফেলা সম্ভব টেলিভিশন দেখার আসক্তি।

১। সময়ের হিসাব টুকে রাখা

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

প্রতিদিন কত ঘণ্টা করে টিভি দেখা হচ্ছে তার হিসাব টুকে রাখা জরুরি। এর ফলে যা হবে, তুমি সহজেই দেখতে পারবে দিনের কত অংশ অপচয় হচ্ছে টিভি দেখার পেছনে। এছাড়া তুমি নিজেই বিচার করে দেখতে পারবে যে, এই অংশটিতে অন্য কোন কাজটি করলে দিনটি আরো
কার্যকর হতে পারতো! আত্ম-উপলব্ধি জাগানো যেকোন আসক্তি নির্মূলের প্রথম শর্ত।

২। লক্ষ্য নির্ধারণ করা

কোন নির্দিষ্ট জিনিসের ওপর থেকে মনোযোগ সরানোর জন্য একটি ভিন্নধর্মী লক্ষ্য নির্ধারণ করা যেতে পারে। সেটা হতে পারে নতুন কিছু রান্না করতে শেখা, কিংবা বারান্দায় ছোট একটি বাগান করা। ৩ মাসের মধ্যে হাতের লেখা সুন্দর করা, দ্রুত করাও হতে পারে দারুণ লক্ষ্য। স্বল্পমেয়াদী বা দীর্ঘমেয়াদী যেকোন একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করলে ওই কাজে সময় ব্যয় করা হবে। যার ফলে টিভি দেখে দিনের অধিকাংশ সময় নষ্ট করতে ইচ্ছা করবে না আর।

 
গণিতের ভয়কে কর জয়!
 

নিজের শখের কাজ গুলোকে মাথায় রেখে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য বেছে নাও এবং সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে কাজ করে যাও প্রতিদিন। এতে আসক্তি ভুলে দক্ষতা অর্জনে সচেষ্ট হবে তুমি!  

৩। বিকল্প পথ খুঁজে নেয়া

বিনোদনের বিকল্প হিসেবে অন্য কিছু বেছে নেয়া যেতে পারে। অর্থাৎ একটানা টিভি না দেখে, কিছু সময় অন্যান্য কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখা যেতে পারে নানান উপায়ে। যেমন, কোনো ভালো বই পড়া, ছবি আঁকা কিংবা পুরোনো বন্ধুদের সাথে খানিকটা ফোনালাপ করা ইত্যাদি। কবিতা বা গল্প লেখাও অবসর কাটানোর দারুণ উপায়। তাছাড়া প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে খবরের কাগজ পড়ার অভ্যাস করাও টিভি দেখার আসক্তি কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

তাছাড়া পরিবারের সকলের সাথে সময় কাটানো, আড্ডা দেয়া, বাড়ির সামনে কিংবা ছাদে নিয়ম করে ব্যাডমিন্টন খেলা ইত্যাদির মাধ্যমে আসক্তি কমানো সম্ভব। যতটা মানুষের সাথে মিশার চেষ্টা করবে, কথা বলবে ততই একটি নির্দিষ্ট বিনোদন মাধ্যমের উপর নির্ভরশীলতা কমতে থাকবে।

৪। ব্যায়াম করা

প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম করা যেকোন আসক্তি কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যায়াম মানসিকভাবে চাপমুক্ত রাখে এবং অস্থিরতা কমায়, পাশাপাশি মনোযোগ বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। এর ফলে যেকোনো কাজ মনোযোগ সহকারে করা যায়, একঘেয়েমি দূর করে। যোগব্যায়াম যেকোনো মানসিক সমস্যা সমাধানে অসাধারণ কাজ করে। প্রতিদিন অন্তত ত্রিশ মিনিট সময় নিয়ে যোগব্যায়াম অনুশীলন করা যেতে পারে।

এছাড়া, টেলিভিশনের সব প্রিয় সিরিয়ালগুলোর একটি তালিকা তৈরি করে এরপর সেই তালিকাকে অর্ধেকে নিয়ে আসার চেষ্টা করতে পার। কাজটি কঠিন অনুভূত হলেও, আসক্তি কমানোর জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি। টেলিভিশন দেখার একটি নিজস্ব রুটিন তৈরি করে নিতে হবে এবং তা দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করতে হবে। প্রতি সপ্তাহে টেলিভিশন দেখার সময়কে একটু করে কমিয়ে আনতে হবে। কাজটি সময়সাপেক্ষ হলেও ফলপ্রসূ।

যেকোনো আসক্তি কমানোর ক্ষেত্রে আপন ইচ্ছাশক্তিই মূল চালিকাশক্তি!


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Author
Rifah Tamanna Borna
এই লেখকের অন্যান্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?