সমাজের বাধা জয় করে এগিয়ে চলো স্বপ্নপূরণে!

August 18, 2018 ...
পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

গতানুগতিক পড়ালেখার বাইরে নতুন কিছু করতে গেলেই অনেকগুলো বাধার মুখে পড়তে হয়। নিজের বাসায় পরিবারের বাধা তো আছেই, বাইরের অনেকগুলো মানুষের কথা শুনতে হয়। পদে পদে এসব বাধা জয় করে নিজের স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যাওয়াটা বেশ কঠিন মনে হয় তখন। দেখে আসা যাক কেমন সে বাধা!

পরিবারের আপত্তি:

বাংলাদেশের বেশিরভাগ পরিবারের সন্তানদের কাছে আশা থাকে যে ছেলে বড় হয়ে পড়ালেখা করে ভালো চাকুরি করবে, অর্থ উপার্জন করে পরিবারের দেখভাল করবে। সন্তান বড় হয়ে যখনই অন্যরকম কিছু করতে যায়, তখনই শুরু হয় বিভিন্ন রকম বাধা! ধরো তুমি নতুন কিছু করলে। নতুন একটা উদ্যোগ শুরু করলে। পরিবার থেকে বলবে,

“এসব করে কোন লাভ আছে? ফিউচার কী এসবের?”

“তুই যে এগুলো করিস, মানুষ শুনলে কী বলবে?”

“তোর মামা-চাচার ছেলেমেয়েরা কত বড় বড় জায়গায় আছে, তোর কী হবে?”

এত শত প্রশ্নের পর যখন তোমার উদ্যোগটা একটু হলেও দাঁড়িয়ে যাবে, তখন শুরু হবে আরেক সমস্যা। এবার বাসা থেকে শুরু করবে তোমার পড়ালেখা নিয়ে কথা বলা।

“পাশের বাড়ির আপার দুই ছেলেই দেখ মেডিকেলে। আর তুই? কী সব করে বেড়াস!”

“ এই যে এসব করিস, নিজের সিজিপিএর দিকে একবার তাকিয়েছিস?”

এমনকি তুমি তোমার কাজ নিয়ে জনপ্রিয় হলেও তাঁদের হতাশা কাটবে না। তারা বারংবার প্রশ্ন তুলেই যাবেন!

পাশের বাসার আন্টি:

শুধু প্রতিবেশীরাই নয়, এই শ্রেণিতে পড়ে তোমার দূরসম্পর্কের আত্মীয়রাও। এদের খোঁজ পাওয়া যায় না কখনোই, শুধু তোমার পরীক্ষার রেজাল্টের সময় এদেরকে দেখা যায়। আর দেখা যায় তোমার কোন নতুন উদ্যোগের শুরুতেই বাগড়া বাঁধাতে।

“ভাবি, আপনার ছেলে পড়ালেখা বাদ দিয়ে এসব কী করছে? মানা করেন, বখে যাবে!”

“আপা, সময় থাকতে ছেলেকে পড়তে বসান। রেজাল্ট কেমন হচ্ছে ওর?”

“আমার এক পরিচিত আপার ছেলেও এইসব কাজ করে বেড়াইতো। এখন ঘুরে বেড়ায়, বেকার। বুঝলেন তো ভাবী?”

এত শত কথার ভিড়ে পরিবারের চাপটা খুব করে ঘাড়ের উপরে আসে, সে আর নামতেই চায় না!

লোকে কী ভাবলো!

69186392 professional society isometric background with people of different occupations and jobs isolated vec

আরেকটা হচ্ছে তোমার নিজের ভয়। পরিবারের এত শত কথা শোনার পর তোমার নিজেরও মনে হয় এটাই মাথায় আসে, যে তুমি যে কাজটা করছো সেটা ঠিক হচ্ছে তো? যদি এই কাজে ব্যর্থ হও, তাহলে বাসায় কী বলবে? এই ব্যর্থতা মাথায় নিয়ে কাজ করাটা ঠিক উচিত হবে না হয়তো! সাথে বাসায় বলা কথাগুলো মাথায় বাজতে থাকে-

“এইসব করতে থাকলে বিয়ে দিয়ে দিবো একেবারে। বউ-সংসার চালাতে গেলে সব পাগলামি যাবে!”

“চাকরি-বাকরি তো হবে না, এইসব করে আর কতদিন চলবা?”

“দুধ-কলা দিয়ে কালসাপ পুষলাম এতোদিন। এই ছেলে তো আমার মানসম্মান নষ্ট করবে পুরা!”

এসব কথার পরে তোমার নিজের ভেতরের উদ্যমী মনটা একটু একটু করে নিস্তেজ হয়ে পড়বে, শোকাহত হবে।

সহজ সমাধান:

একটা বিষয় সবসময় মাথায় রাখবে। তুমি একটা সমাজে বাস করো, তাই সমাজকে বাদ দিয়ে তুমি চলতে পারো না। আর সমাজের সাথে চলতে থাকলে সমাজের অদ্ভুত মানুষগুলোর উদ্ভট চাপ তোমার উদ্যোগকে বাধা দিতেই থাকবে। তোমার হাতে এখন দু’টো অপশন খোলা।

১। সমাজের চাপে একদম সংকুচিত হয়ে হাল ছেড়ে দেয়া
২। সমাজের চাপকে থোড়াই কেয়ার করে নিজের কাজ করে যাওয়া

এখন তুমিই বলো, নিজের স্বপ্নকে পাথরচাপা দিয়ে কি তুমি প্রথম অপশনটি বেছে নিতে পারবে? তাহলে তোমার সাথে ইন্টারনেটের ওই বিখ্যাত মিমটির পার্থক্য কী? সেখানে বলা হয়, “বেশিরভাগ মানুষের জীবন তিন ধাপে শেষ হয়, জন্মানো- লোকে কী বলে এই ভয়ে কিছু না করা- মৃত্যু!”

নতুন কোন কিছু শুরু করলে সমালোচনা আসবেই। আসবে হতাশা, আসবে ব্যর্থতা। তাই বলে তুমি সব ছেড়েছুড়ে চলে যাবে? হাল ছেড়ে দেবে? নাকি দ্বিতীয় অপশনের মতো সব হতাশা আর সমালোচনা ঝেড়ে ফেলে দিয়ে কাজে লেগে পড়বে নতুন করে?

Membershipdd2

পাশের বাসার আন্টি কেন তোমার ক্যারিয়ারের দিকপ্রান্তে থাকবে? তুমিই গড়বে তোমার ভাগ্য। আর এজন্যে তোমাকেই নিতে হবে জীবনের সিদ্ধান্তগুলো। নিজেই ভাবো জীবন নিয়ে কী করবে। যেখানে আগ্রহ, সেখানে কাজ করো। যা নিয়ে কাজ করতে ইচ্ছা করে, সেটা নিয়েই এগোও। ইচ্ছাশক্তি থাকলে তোমাকে আটকাবে কে?


১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

আপনার কমেন্ট লিখুন