স্কুল পেরিয়ে কলেজ: যারা পাওনি স্বপ্নের কলেজ!

Currently, Mustakim Ahmmad is a student of Dhaka City College. Although he is only an intermediate second year student, he is 6 feet tall! But his dreams are much more higher than his height. A Sherlock Holmes fan, loves watching TV series and listening to rock music.

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবারে শুনে নাও!

 

কলেজ ভর্তির আগে সাদমানের ৩টা ইচ্ছা ছিলো। কলেজ বাসা থেকে কাছে হতে হবে, মর্নিং শিফটে হতে হবে, আর সপ্তাহে চাই শুক্র-শনি ২ দিন ছুটি! কিন্তু তার কপাল এতটাই খারাপ যে, তিনটি ইচ্ছার একটিও পূরণ হয়নি। কলেজ বাসা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে, ক্লাস শুরু হয় ভর দুপুরবেলা আর ছুটি শুধু শুক্রবার! ৩টি ইচ্ছার একটিও পূরণ না হওয়াতে সে বেশ হতাশ।

সাদমানের মাত্র ৩টি ইচ্ছা ছিলো কিন্তু, তোমরা যারা স্বপ্নের কলেজকে জয় করে নিতে পারোনি, তাদের মনে হয়তোবা ছিলো হাজারখানেক ইচ্ছা। বিশাল বড় মাঠ হবে, গাছ-পালার মাঝে থাকবে চমৎকার ক্যাম্পাস! যেখানে পড়ালেখা করা যাবে আয়েশ করে আর এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটিস করতেও থাকবে না কোনো বাধা!

কিন্তু দিনশেষে রেজাল্ট খারাপের কারণেই হোক অথবা দুর্ভাগ্যবশতই হোক, অনেকেই তার স্বপ্নের কলেজে ভর্তি হতে পারে না। আর দেখা যায় ভর্তি হতে না পারার শোকেই কয়েকমাস ধরে মন খারাপ করে বসে থাকে।

এই হতাশা কিংবা মন খারাপের জন্যে নিজের বর্তমান কলেজকে দোষারোপ না করে নিজের জীবনের পরবর্তী ধাপগুলো নিয়ে অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যারিয়ার ও পরবর্তী সময়গুলো নিয়ে বিস্তারিত চিন্তা করা প্রয়োজন। যদি ভেবে থাকো এখানেই সব শেষ, তাহলে চলো এখনই দেখে আসি তোমার মাঝে লুকিয়ে আছে কত বড় বড় সম্ভাবনা।

পরবর্তী ধাপ নিয়ে চিন্তা করো

স্কুল শেষে যেমন কলেজে উঠলে, কলেজ শেষে তো বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠতে হবে, নাকি? সেই পরবর্তী ধাপে ওঠার সময় তোমাকে যেতে হবে এক বিশাল ভর্তিযুদ্ধের ভেতর দিয়ে।

ইসলাম ধর্মের অনুসারীরা নামাজ আদায় করার সময় যেমন মসজিদে এক কাতারে ধনী-গরিব, সাদা-কালো সকল শ্রেণির মানুষ একসাথে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে, তেমনই ভর্তি পরীক্ষাতেও দেশের সকল ভালো-খারাপ, বড়-ছোট কলেজের ছাত্রছাত্রীরা একত্রে এক প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে বসে। সেখানে নাম না জানা কলেজের ছাত্রছাত্রীদের অবহেলা করা হয়না, আর নামকরা কলেজের শিক্ষার্থীদের বেশি সুবিধাও দেয়া হয়না। তাই নিজে কোন কলেজে পড়ো তা নিয়ে হতাশ হবার কোন কারণই নেই।  

তাদেরকে নিয়ে ভাবো যারা সব বাধা অতিক্রম করেছে

ভর্তি পরীক্ষা শেষে দেখা যায় ঢাকার নামী দামী কলেজের ছেলে-মেয়েদের পাশাপাশি সারা দেশ থেকে বিপুল পরিমানে ছাত্রছাত্রী নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে ভালো ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। যাদের মধ্যে অনেক শিক্ষার্থীই হয়তো কখনো ভালো কলেজ উপভোগ করতে পারেনি। তাদের হয়তো ভালো ক্লাসরুম ছিলো না, নিয়মিত ক্লাস হতো না, ভালো পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই এমন নানান সমস্যা পার করে তারা নিজের সামর্থ্য আর ইচ্ছা শক্তির জোরে নিজেকে ভালো অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

তাই প্রিয় কলেজ না পেয়ে নিজেকে পরাজিত না ভেবে সুবিধাবঞ্চিত সব শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নাও আর পরিশ্রম করে যাও প্রতিনিয়ত।

একটা ভালো কলেজ এক জোড়া ভালো জুতার মতন

“একটা ভালো কলেজ পরবর্তীতে আমার সকল সাফল্যের শিকড়ে থাকবে” তুমি যদি এমন ধারণাতে বিশ্বাসী হয়ে থাকো তাহলে চলো একটা চমৎকার তুলনা দেখে আসা যাক।

তুমি যদি “সাফল্য” নামের কোনো কিছু পাওয়ার জন্যে লাখ খানেক মানুষের সাথে দৌড় প্রতিযোগিতায় নামো তাহলে সেই রেসে তোমার কলেজ পায়ে থাকা জুতা জোড়ার মতন। এখানে তোমার স্বপ্নের কলেজ এক জোড়া ব্র‍্যান্ডের হালকা-পাতলা, আরামদায়ক জুতার মতন কাজ করবে। আর তুমি যে কলেজে বর্তমানে ভর্তি হয়ে নিজেকে দুর্ভাগা বলে দাবি করছো সেই কলেজটাকে ননব্র‍্যান্ডেড, একটু ভারী, কম আরামদায়ক একটা জুতার সাথে তুলনা করা যায়।

একটা দৌড় প্রতিযোগিতায় কে জয় লাভ করবে তা যেমন জুতার দাম, আরামদায়ক কিংবা সৌন্দর্যের উপর ভিত্তি করে না তেমনই একটা কলেজ এর উপর ভিত্তি করে তোমার ভবিষ্যৎ কিংবা সফলতা নির্ধারণ করা হবে না। রানারের অথবা তোমার সফলতা আসবে আসলে পরিশ্রমের মাধ্যমে। সারাবছর কত বেশি পরিশ্রম করলে আর কাজের সময় কতভালো পারফরমেন

স ডেলিভারি করলে এই দুই জিনিসের সমন্বয় করে অনেক বড় বড় প্রতিযোগিতা জয় করা সম্ভব।

এখন চলো জুতার প্রসঙ্গে কথা বলি। প্রতিযোগিতায় রানারের জুতোর ভূমিকা আর তোমার সাফল্যের পিছনে কলেজের ভূমিকা কতটুকু সেটা জানি। একটা কলেজ তোমাকে শুধু ভালো গাইডেন্স দিবে, পরীক্ষা নিবে কিন্তু কলেজ তোমার পড়া পড়ে দিবে না। সোজা ভাষায়, তোমার পড়া তোমাকেই পড়তে হবে রাত জেগে খাটাখাটি করে। আর এই পড়ার মধ্য দিয়ে যত জ্ঞান বাড়াবে, যত তথ্য জানবে সে গুলোই পরবর্তীতে এনে দিবে সফলতা। রানারের বেলায়ও তাই, জুতা কোন দিন রানারকে দৌড়ে দিবে না। জুতা দিবে গাইডেন্স আর পরিশ্রম করতে হবে রানারের নিজেরই। পরিশ্রমের মাধ্যমেই তার সফলতা আসবে তার জুতার মধ্যদিয়ে না!

চিন্তা করে দেখো তুমি কতো “LUCKY”

গত বছর প্রথমআলো পত্রিকায় “এইচএসসিতে প্রায় ৩৫ হাজার পরীক্ষার্থী কমেছে” এই শিরোনামে একটা নিউজ দেখেছিলাম। যার অর্থ্ হচ্ছে এমন অনেকে আছে যারা এসএসসি পাশ করে আর সামনে না এগিয়ে যেয়ে থেমে যাচ্ছে! হয়তো কলেজে ভর্তি হচ্ছে না ইচ্ছে না থাকার কারণে নাহয় অর্থাভাব কাটিয়ে ভর্তি হওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

চিন্তা করে দেখো তো তুমি কত ভাগ্যবান! একটা কলেজে পড়ার সুযোগ পাচ্ছো এইটাই তো অনেক। তাই, ভালো কিংবা মন্দ সেটা বিচার না করে পরিশ্রম করে যাওয়াটাই তোমার জন্যে মঙ্গলের।

এখন একটা মজার কথা বলি, তুমি এখন নিজের কলেজ পছন্দ না বলে হয়তো নাক শিটকাচ্ছো কিন্তু যেদিন নিজের কলেজ ছেড়ে চলে যাবে সেদিন ঠিকই অনেক সেল্ফি তুলবে, আইডি কার্ডের ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড দিবে সব স্মৃতি গুলো মনে করে নস্টালজিক হয়ে পড়বে। তাই তখন কলেজের প্রতি ভালোবাসা না দেখিয়ে আজ থেকেই যেখানে আছো তা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করো। আর একটা কথা, পড়ো পড়ো প্রচুর পড়ো। দেখবে তোমার কলেজের সফলতা তোমার হাত ধরেই আসবে।

এই লেখাটির অডিওবুকটি পড়েছে আব্দুল্লাহ আল মেহেদী


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?

GET IN TOUCH

10 Minute School is the largest online educational platform in Bangladesh. Through our website, app and social media, more than 1.5 million students are accessing quality education each day to accelerate their learning.