গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা: জেনে নাও কিভাবে দেবে

December 27, 2021 ...

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষাগুলো সময়ের সাথে সাথে যেমন আরও কঠিনতর হয়ে উঠছে, তেমনি পরিবর্তিত হচ্ছে নিয়ম-নীতিও। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালে প্রথমবারের মতো ২০টি সাধারণ ও বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আয়োজিত হয়েছে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা

ভর্তি পরীক্ষার সময় এক কেন্দ্র থেকে অন্যান্য কেন্দ্রে যেতে শিক্ষার্থীদের অনেকটা সময় ও অর্থ নষ্ট হয়। তাছাড়া ভর্তি পরীক্ষার তারিখগুলো পর পর পড়ে গেলে অনেকে চাইলেও ঢাকার বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরীক্ষা দিতে পারে না। এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটতে না পেরে অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ বঞ্চিত হয়। সে কষ্ট লাঘব করতে এবার একসাথে একটি কেন্দ্রেই একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা।  

গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার সার্কুলার:

গতবারের সার্কুলার অনুযায়ী ২০১৭ ২০১৮ সালের এসএসসি এবং ২০১৯ ২০২০ সালের এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রাথমিক অনলাইন আবেদন করতে পারবেন। বিভিন্ন বিভাগের জন্য আলাদা আলাদা যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছিল। 

এবার যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা হয়েছিল তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা :

১. জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

২. শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৩. খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

৪. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

৫. ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

৬. হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

৭. মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

৮. নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৯. কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

১০. জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়

১১. যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

১২. পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

১৩. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

১৪. বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

১৫. রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় 

১৬. রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়

১৭. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়

১৮. শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় 

১৯. বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

২০. পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

এগুলোর মধ্যে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় ৯টি এবং বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদালয় ১১টি। গতবারের গুচ্ছ পরীক্ষার প্রাথমিক আবেদন প্রক্রিয়া শেষে ২ লাখ ৩২ হাজার ৪৫৫ জনকে ভর্তি পরীক্ষার জন্য বাছাই করা হয়েছিল। যার মধ্যে বিজ্ঞান শাখা ‘এ’ ইউনিটে ১ লাখ ৩১ হাজার ৯০১ জন। মানবিক শাখা ‘বি’ ইউনিটে ৬৭ হাজার ১১৭ জন এবং বাণিজ্য শাখা ‘সি’ ইউনিটে ৩৩ হাজার ৪৩৭ জন রয়েছেন। তিন ইউনিটের সর্বমোট আসনসংখ্যা ২২ হাজার ১৩টি।

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার মানবন্টন:

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা মোট ১০০ নম্বরে অনুষ্ঠিত হবে। সকল ইউনিটের পরীক্ষার জন্য ১ ঘণ্টা বরাদ্দ। প্রতিটি প্রশ্নের জন্য থাকবে ১ নম্বর এবং প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা হবে এবং গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে না। 

বিজ্ঞান শাখা (এ ইউনিট):

পদার্থবিজ্ঞান- ২০

রসায়ন- ২০

বাংলা- ১০

ইংরেজি- ১০

গণিত/জীববিজ্ঞান /আইসিটি (যেকোন দুইটি) ২০+২০= ৪০

মোট- ১০০

আইসিটি, গণিত ও জীববিজ্ঞান যেকোন দুটি বিষয় উত্তর করতে হবে।

মানবিক শাখা (বি ইউনিট):

বাংলা- ৪০

ইংরেজি- ৩৫

আইসিটি- ২৫

মোট- ১০০ 

বাণিজ্য শাখা (সি ইউনিট):

হিসাববিজ্ঞান- ২৫

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা- ২৫

বাংলা- ১৩

ইংরেজি-১২

আইসিটি- ২৫

মোট- ১০০ 

গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতি:

ঢাকা বা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য তুমি যেভাবে প্রস্তুতি নেবে, ঠিক সেভাবেই গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার জন্য পড়াশোনা করতে হবে। ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত বছরগুলোর প্রশ্নসহ গুচ্ছ অধিভুক্ত বাকি ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়েরও বিগত সালের প্রশ্নগুলো সমাধান করে যাওয়া ভালো। এতে কোন কোন টপিক গুরুত্বপূর্ণ, কোন টপিক বারবার রিপিট হচ্ছে তা জানা যাবে এবং সাথে ৩০-৪০% কমন পাওয়ারও সম্ভাবনা তো থাকেই!

বিজ্ঞান ইউনিট:

বাংলা:

পরীক্ষায় ব্যাকরণ অংশের পাশাপাশি গদ্য ও কবিতা অংশ থেকে বেশ কিছু প্রশ্ন প্রতিবার আসে। সেক্ষেত্রে গদ্য ও পদ্যের মূল বিষয়, লেখক পরিচিতি, তাঁর সাহিত্যকর্ম, জীবনী ইত্যাদি বিষয় জানতে হবে। 

ব্যাকরণ অংশের জন্য ভাষা, বাংলা ভাষা, ব্যাকরণ, শব্দ, কারক, সমাস, সন্ধি, বিভক্তি, বচন, বাক্য সংকোচন, বাগধারা, উপসর্গ, অনুসর্গ বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো ভালো করে অনুশীলন করা প্রয়োজন।

ইংরেজি:

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাগুলোতে ইংরেজির ক্ষেত্রে গ্রামার অংশে অধিক জোর দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে Parts of speech, Article, Tense, Voice, Narration, Correction, Right form of verbs, Translation, Synonyms,  Antonyms, Transformation of sentences, Comprehension প্রভৃতি বিষয় ভালোভাবে পড়তে হবে। 

শুধু বিজ্ঞান বিভাগ না, অন্যান্য বিভাগের পরীক্ষার্থীদের জন্যও বাংলা ও ইংরেজির প্রস্তুতি এমনই হবে।  

পদার্থবিজ্ঞান:

গতবারের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছিল বলে ম্যাথমেটিক্যাল প্রশ্ন বেশি ছিল। তবে তোমার বেসিক ক্লিয়ার থাকলে তুমি যেকোনো প্রশ্নের উত্তরই পারবে৷  

পদার্থবিজ্ঞানে প্রস্তুতির জন্য উচ্চমাধ্যমিক পাঠ্যবইয়ের প্রথম পত্র থেকে গতির সূত্র, মহাকর্ষ ও অভিকর্ষ, স্থিতিস্থাপকতা, তাপ, গতিবিদ্যা, ভেক্টর ও স্কেলার রাশি, বেগ, ত্বরণ, বল ও বলের প্রকারভেদ, মাত্রা ও বিভিন্ন পদ্ধতিতে একক ইত্যাদি পড়তে হবে।

পদার্থ দ্বিতীয় পত্র থেকে স্থির বিদুৎ, বিদুৎপ্রবাহের তাপীয় ও রাসায়নিক ক্রিয়া, চৌম্বক পদার্থ, আলোর প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ইলেক্ট্রন, প্রোটন, পরমাণুসহ ইলেক্ট্রনের প্রতিটি অধ্যায় থেকে গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা, সূত্রাবলি, ঘটনা ও কারণ, প্রভাব, পার্থক্য, গাণিতিক সমস্যার সমাধান জানতে হবে। গাণিতিক সমস্যার সমাধানগুলো দ্রুত ও ভালোভাবে করতে পারার বিষয়টিও আয়ত্ত করতে হবে।

রসায়ন:

উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণীর রসায়ন মূল পাঠ্য বইয়ের মধ্যে থেকে পদার্থের বিভিন্ন অবস্থা, পর্যায় সারণী, রাসায়নিক গণনা, জারণ-বিজারণ, রাসায়নিক বন্ধন, রাসায়নিক বিক্রিয়া, প্রতীক, সংকেত, যোজনী, গাঠনিক সংকেত, আণবিক সংকেত, রাদারফোর্ড, বোরের পরমাণু মডেল বিষয়গুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।

একটি বিষয় সবসময়ই মনে রাখতে হবে, এইচএসসির সিলেবাস তো বটেই, ভর্তি পরীক্ষায় সফল হতে হলে বইয়ের সব অধ্যায়ই ভালোভাবে পড়তে হবে। ভর্তি পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতে হলে বইয়ের কোনও অধ্যায় বাদ দেওয়ার উপায় নেই।

গণিত/জীববিজ্ঞান/আইসিটি (যেকোনো দুটির উত্তর দিতে হবে):

তোমাদের যাদের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিষয়গুলো নিয়ে পড়ার ইচ্ছে, তারা চেষ্টা করবে গণিত উত্তর করতে। তবে গণিত অংশ যদি একেবারেই না পারো, তাহলে আইসিটিই উত্তর করবে। ভর্তি পরীক্ষায় গণিতে ভালো মার্ক পেতে হলে শর্টকাট পদ্ধতিতে প্রশ্ন সমাধানের ওপর জোর দিতে হবে।

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় কোনো জটিল অংক আসবে না। প্রশ্নব্যাংক ঘাটলেই বুঝতে পারবে কোন ধরনের অংক বেশি আসার সম্ভাবনা আছে। আর যত পারবে অনুশীলন করবে। 

গণিতের সাথে জীববিজ্ঞান উত্তর করলে বায়োলজিক্যাল বিষয়গুলো পেয়ে যাবে। যদি জীববিজ্ঞান প্রস্তুতি ভালো না হয়ে থাকে তাহলে আইসিটি উত্তর করবে। তবে আইসিটি উত্তর করলে বেশ কিছু সাব্জেক্ট পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে।  

জীববিজ্ঞান:

জীববিজ্ঞানের উদ্ভিদবিজ্ঞান থেকে পাঠ্যবইয়ের সব অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার, আবিষ্কারকের নাম, প্রয়োজনীয় সংজ্ঞা, বোল্ড লাইন উদাহরণ, পার্থক্য, উদ্ভিদের শ্রেণীবিন্যাস, মূল, পাতা, গোত্র পরিচিতি, সালোক সংশ্লেষণ, শ্বসন, প্রস্বেদন, টিস্যু, টিস্যুতন্ত্র বিষয়গুলো পড়তে হবে।

প্রাণীবিজ্ঞান অংশের ম্যালেরিয়ার জীবাণু, হাইড্রা, দেহপ্রাচীর, কলা, কোষ, প্রাণীর বৈজ্ঞানিক নাম, পরিপাকতন্ত্র, রক্ত ও রক্ত সংবহনতন্ত্র, রেচনতন্ত্র, পেশিতন্ত্র, প্রাণীর প্রজননতন্ত্র ইত্যাদি বিষয় পড়তে হবে। 

আইসিটি:

আইসিটির প্রস্তুতির জন্য উচ্চমাধ্যমিক পাঠ্যবইয়ের গ্লোবাল ভিলেজের উপাদান, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি, ক্রায়োসার্জারি, বায়োমেট্রিক্স, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ন্যানো টেকনোলোজি। ডেটা ট্রান্সমিশন (মোড, মাধ্যম, এলিমেন্ট), ওয়াইফাই, ওয়াইম্যাক্স, হাব ও সুইচ, নেটওয়ার্ক, ক্লাউড কম্পিউটিং; ২ এর পরিপূরক, লজিক গেইট, সার্বজনীন গেইট, এনকোডার, ডিকোডার, হাফ/ফুল এডার বাস্তবায়ন; ওয়েবসাইট কাঠামো, HTML, কম্পাইলার, ইন্ট্রারপোলার, ডেটা টাইপ, অ্যালগরিদম ও ফ্লোচার্ট সেলেসিয়াস ও ফারেনহাইট, লিপ ইয়্যার, সমান্তর ধারা, DBMS পড়লেই হবে।

ব্যবসায় ইউনিট:

হিসাববিজ্ঞান:

মূল বইয়ের সকল বিষয় সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকা খুবই জরুরি। যার মূল বইয়ের উপর যত বেশি দক্ষতা এবং আয়ত্ত থাকবে সে ভর্তি পরীক্ষায় ততো ভালো করবে এটা নিশ্চিত। মূল বইকে প্রাধান্য দিয়ে সহায়িকা হিসেবে প্রশ্নব্যাংক থেকে বিগত বছরের প্রশ্ন সম্পর্কে ধারণা নাও।

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা:

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনার মূল অংশগুলো ভালো করে পড়বে। বিগত বছরগুলোর প্রশ্নে দেখা যায়, সাম্প্রতিক দেশীয় বা বৈদেশিক ব্যবসায় প্রবাহ থেকে কিছু প্রশ্ন আসে। সেগুলোও মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে। 

মানবিক:

মানবিকের বাংলা, ইংরেজি ও আইসিটির প্রস্তুতি বিজ্ঞান বিভাগের মতনই। বাংলার ব্যাকরণ অংশের পাশাপাশি উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ্যবইয়ের উপরেও ভালো দখল আনতে হবে। 

বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনার পাশাপাশি পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতে অবশ্যই পাঠ্যবইয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে এবং বিগত ১০ বছরের বিসিএস প্রশ্নব্যাংক ও ঢাবি, রাবি চবি, জাবি-এর প্রশ্নগুলো পড়ে রাখতে হবে।

বিশেষ করে জবি, ইবি, খুবি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিগত বছরের আসা সকল প্রশ্ন সমাধান করে ধারণা নিতে হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ টপিক সিলেক্ট করে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে। আশা করা যায় এগুলো থেকে ৪৫-৫০ শতাংশ নম্বর কমন পাওয়া সম্ভব হবে।

যেকোনো ভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রেই তুমি যত বেশি প্রশ্ন সমাধান করবে, তোমার জন্য তা তত ভালোই হবে। কারণ, মডেল টেস্ট বা প্রশ্ন সলভ করার মাধ্যমে ১০টি বিষয় সম্পর্কে পড়া হয়ে যায়। এতে করে মস্তিষ্কে বিষয়গুলো চাঙ্গা থাকে। অন্যদিকে বিষয় ভিত্তিক পড়াশুনা করলে একটি বিষয় শেষ করে তা পুনরায় পড়তে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়। তাই ১০ মিনিট স্কুল তোমাদের জন্য নিয়ে এসেছে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা ক্র্যাশ কোর্স! কোর্সটিতে থাকছে ৯টি বিষয়ের উপর ১৬৮ ভিডিও লেকচার, ৩৩৬টি লেকচারভিত্তিক কুইজ, ৯৮ সেট বিষয়ভিত্তিক মডেল টেস্ট এবং ১৫ সেট পূর্ণাঙ্গ মডেল টেস্ট! 

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় ভর্তি যোগ্যতা:

গুচ্ছ পদ্ধতিতে সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়েরই একই প্রশ্নে পরীক্ষা হবে। মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর ও জিপিএ মিলে সর্বোচ্চ নম্বরের ভিত্তিতে মেধাতালিকা প্রকাশ হবে। স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট আসনসংখ্যায় সর্বোচ্চ স্কোর এর মেধাতালিকায় থাকা শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকার পাবে।

বিভাগ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রতিটি ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার ব্যাপারটি এইবার গুচ্ছ পদ্ধতিতে থাকছেনা। প্রত্যেকে শুধু  নিজ নিজ বিভাগে পরীক্ষা দিতে পারবে এবং এক্ষেত্রে উত্তীর্ণের পর যোগ্যতা অনুযায়ী আসন খালি স্বাপেক্ষে অন্য বিভাগে যাওয়ার সুযোগ থাকছে। তবে এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় সমুহ নির্দিষ্ট  আসন বরাদ্দ রাখবে। 

ধরা যাক কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে মানবিক বিভাগের জন্য ৮০টি সিট বরাদ্দ থাকলে বাকি ১০টি সিট ব্যবসায় বিভাগ ও ১০টি সিট বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ফাঁকা থাকবে। 

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে নবর, আসনসংখ্যা ও বিভাগ পরিবর্তনের বিষয়সমূহ দেখে শিক্ষার্থীরা পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে পারবে।

সেকেন্ড টাইমারদের ক্ষেত্রে কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির আবেদনে সেকেন্ড টাইমার অর্থাৎ ২০১৯ শিক্ষাবর্ষে এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে এই নিয়ম পরিবর্তিতে থাকা হবে কিনা তা নিয়ে এখনো কিছু বলা হয়নি। 

একদম নতুন একটা পরীক্ষা ব্যবস্থা দেখে ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই! তোমার প্রস্তুতি যদি ঠিক থাকে তাহলে এতগুলো সিটের মধ্যে একটা সিট কিন্তু তোমারই হবে!

আপনার কমেন্ট লিখুন