তোমার আনন্দের বিষয়টি হোক তোমার পড়ার বিষয়!

With the wind in her hair, she feels part of everywhere.

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবারে শুনে নাও!

 

নতুন শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের মোট চারটি দুর্ধর্ষ যুদ্ধ জয় করা লাগে। এক হতে চার নম্বরের যুদ্ধগুলো যথাক্রমে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। সমাপনী পরীক্ষা তাও এভাবে-সেভাবে করে চলে যায়। কিন্তু জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় সবাই নিজেকে বুঝ দিয়ে পরীক্ষার হলে ঢোকে, “ভাই! এই পরীক্ষাটা ভালোমতো দিস। নতুবা বিজ্ঞান নিয়ে আর পড়া হচ্ছে না।”

নিজেকে এই বুঝ দেয়া শিক্ষার্থীদের সিংহভাগই আবার বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েও যায়। কিন্তু ঝামেলাটা হয় কারণ, তাদের বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার এই সিদ্ধান্ত অনেকটাই প্রভাবিত। বাবা চেয়েছেন, মেয়ে চিকিৎসক হবে। মা তার ছেলেকে বুয়েটে ভর্তি করানোর জন্য উঠে-পড়ে লেগেছেন।

আমাদের ছোটবেলার কিছু অবুঝ কার্যকলাপও তাদের মনে স্বপ্নের দানা বাড়াতে বাড়াতে আস্ত বাড়ি বানিয়ে ফেলে। ছোটবেলায় হয়তো খেলনা স্টেথোস্কোপটা কানে নিয়ে পুতুলের বুকে ধরে খুব ডাক্তার-ডাক্তার খেলতে। মা তখন ভেবে বসেন, ডাক্তার হলে তোমাকে খুব মানাবে। আবার, টেলিভিশনের রিমোট ভেঙ্গে জোড়া দিয়ে ফেলেছিলে নিমিষেই। বাবা ভেবে বসলেন, তড়িৎ প্রকৌশলের মাঠ কাঁপাবে তুমি।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার আট বছরের মাথায় হলো পরীক্ষা। এখন এটা তোমার উপর, তুমি একটা সিদ্ধান্ত স্থিত করবে, তুমি কী হতে যাচ্ছো জীবনে। এমন সময়ে, নিজের স্বপ্নগুলোকে ধামাচাপা দিয়ে নিলে ‘বিজ্ঞান বিভাগ’। অথচ, অষ্টম শ্রেণিতে লবণ সেতুর মারপ্যাঁচ খুলতে গিয়ে লবণের প্রতি অভক্তি চলে আসে তোমার।

দোষটা তখন অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া তোমার নয়, সবসময়। কারণ, তখনও হয়তো কী নিয়ে তুমি পড়তে চাও, সেটা ভেবে ওঠার মতো মানসিক পরিপক্বতা তোমার আসেনি। কিন্তু, এসএসসি’র দুই বছর পর কিন্তু মোটামুটি একটা ধারণা হয়ে যায়। তখন বুঝেশুনে পছন্দের বিষয়টা বেছে নাও। এ জন্য কাজে দিবে SWOT Analysis।

SWOT Analysis কী?

S- Strength

W- Weakness

O- Opportunities

T- Threats

  • Strength- এর সাথে আসে Opportunity। পরখ করে বুঝে নাও, তোমার Strength কোথায়। সেই জায়গায় Opportunities কী কী, সেগুলো বিবেচনা করে দেখো।
  • Weakness- এর সাথে আসে Threat। পছন্দের বিষয় নিয়ে পড়লেও কিছু ক্ষেত্রে তো বিড়ম্বনার সৃষ্টি হবেই। সেগুলোও বিবেচনা করে দেখো।

বিজ্ঞান ভালো না লাগলে, ব্যবসায় শিক্ষার বইগুলো ঘেঁটে দেখো। খুব কঠিন মনে হচ্ছে? মানবিকের বইগুলো পড়ে দেখো। কোনো না কোনো কিছু তো ভালো লেগেই যাবে। অনুরোধ থাকবে এই, কারো মতামত দ্বারা তোমার সিদ্ধান্তগুলোকে প্রভাবিত হতে দিও না।

ভেবে দেখো তো, আমাদের রসায়ন শিক্ষক, শামীর মোন্তাজিদ ভাইয়া যদি আজ জিন-প্রকৌশল নিয়ে না পড়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে কঙ্কালের ইতিউতি পরখ করতেন, শুধু তার সময়ে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হবার চল ছিল বলে, তাহলে কেমন হত?

হয়তো, তিনি নিজের মনকে ভূগোল বুঝিয়ে নাক-মুখ বন্ধ করে সয়ে যেতে পারতেন সব। কিন্তু তখন তার আর প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হতে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডে পাড়ি জমানো হতো না।

ভেবে দেখো তো! আয়মান সাদিক যদি সেদিন তাঁর বাবাকে না বলতেন, “বাবা! আমাকে দিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং হবে না!”, তবে আজ হয়তো টেন মিনিট স্কুলের ব্লগে আমার এই লেখাটা তোমাদের পড়া হতো না।

সেটাও বাদ। ভেবে দেখো তো, ব্যাংকার হয়ে স্টিভ জবস যদি ব্যাংকের কাগজপত্র সামলাতে বসতেন, তাহলে হয়তো উনাকে নিয়ে তোমাদের ইংরেজি বইয়ে একটা অধ্যায় পড়তে হতো না। এরকম আরো কোটি কোটি উদাহরণ আছে, সফল স্বেচ্ছাচারিতার।

স্বেচ্ছাচারিতা আর সফলতা তো আছেই। সেইসাথে থাকতে হবে কঠোর পরিশ্রম। এই দুইয়ে মিলে যদি একসাথে কাজ করতে শুরু করে, তবে জীবন হতে পারে অন্যরকম।

সাদা অ্যাপ্রোন পরে মেডিকেল দাঁপিয়ে বেড়াতে চাওয়া তুমি, ব্ল্যাকবোর্ডে বীজগণিত বোঝাতে যেও না। প্রোগ্রামিং শিখে এম.আই.টি’তে যেতে ইচ্ছুক তুমি, আদালতে গিয়ে বসো না। একটা প্রভাবিত সিদ্ধান্তকে তোমার স্বপ্নগুলোর পথে আসতে দিও না।

এই লেখাটির অডিওবুকটি পড়েছে সাকলাইন মোরশেদ


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?

GET IN TOUCH

10 Minute School is the largest online educational platform in Bangladesh. Through our website, app and social media, more than 1.5 million students are accessing quality education each day to accelerate their learning.