বিদেশে পড়তে যাওয়ার সুবিধা-অসুবিধা

Afnan Hilllol is the oddest walker in a road and a lazy dreamer with thousands of dreams. Loves to ride cycle, listen songs and watch movies.

পুরোটা পড়ার সময় নেই ? ব্লগটি একবার শুনে নাও !

বিদেশে পড়ালেখা করতে যাওয়ার ইচ্ছা আমাদের প্রায় সবারই থাকে। অন্য এক দেশে অন্যরকম একদল মানুষের মাঝে পড়ালেখা করা, তাদের সাথে বসবাস করা- ভাবতেই কেমন যেন একটা রোমাঞ্চ লাগে। শুধু কি তাই?। বিদেশে পড়তে যাওয়ার আরো অনেক সুবিধা আছে। তার পাশাপাশি কিছু অসুবিধাও আছে। বিদেশে পড়তে যাওয়ার এইসব সুবিধা-অসুবিধা নিয়েই আজকের এই লেখা।

information, study abroad

সুবিধা:

১। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য:

বিদেশে পড়তে যাওয়ার একটা বড় সুবিধা হল নানা রকম সংস্কৃতির মানুষের সাথে পরিচিত হওয়া যায়। সাধারণত বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পৃথিবীর অনেক দেশ থেকে অনেকেই পড়তে আসে। সেক্ষেত্রে দেখা যায় যে যারা বিদেশে পড়তে যায় তারা নানারকম সংস্কৃতির মানুষের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়এর ফলে ওইসব সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক এবং নিয়মনীতি সম্পর্কে জানা যায়। তাছাড়া তাদের চোখে নিজের দেশের সংস্কৃতি কেমন তা সম্পর্কে একটা সম্যক ধারণা পাওয়া যায়।

২। আত্মনির্ভরশীলতা:

বিদেশে পড়ালেখা করতে গেলে যেটা হয় যে পরিবারের শাসনের মাঝে থাকতে হয় না। এর ফলে তুমি নিজেকে আবিষ্কার করার সুযোগ পাবে তোমার নিজের কাজগুলো নিজেকেই করতে হবে যেমন- নিজের রুম পরিষ্কার রাখা, হিসাব করে চলা, যেকোন বিপদে পড়লে তা থেকে নিজে নিজে উদ্ধার পাওয়ার চেষ্টা করা ইত্যাদি। এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে আত্মনির্ভরশীলতা গড়ে উঠে যেটা পরিবারের সাথে থাকলে অনেক সময় গড়ে উঠে না এভাবে প্রবাসজীবন একটা মানুষের মাঝে পরিবর্তন এনে তাকে পরবর্তী জীবনের জন্য তৈরি করে তোলে।

৩। বৈচিত্র্যপূর্ণ নেটওয়ার্ক:

যেহেতু বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা পড়তে আসে, সেহেতু বিভিন্ন দেশের মানুষের সাথে নেটওয়ার্ক গড়ে উঠে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে টিমওয়ার্কের মাধ্যমে পড়ালেখা করতে হয়, সুতরাং নানা দেশের শিক্ষার্থীদের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা হয়। পড়ালেখা শেষ করেও তাদের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারলে পরিচিত মানুষের একটি সমৃদ্ধ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা যায় যা চাকরিজীবনের তথা জীবনের বিভিন্নক্ষেত্রে কাজে লাগতে পারে।

৪। ক্যারিয়ারের নতুন দিক:

বিদেশে পড়তে গেলে অনেক নতুন নতুন কাজের সাথে পরিচিত হওয়া যায় যেগুলো নিজের দেশে পাওয়া যায় না। কাজগুলো তোমার জন্য শুধুমাত্র নতুনই নয়, তুমি সেই কাজের প্রতি আগ্রহও খুঁজে পাবে। এভাবে তুমি ক্যারিয়ার হিসেবে অনেকগুলো পথের মধ্য থেকে একটি বেছে নিতে পারবে। এটি একটি বড় সুযোগ কারণ এতে করে নিজের পছন্দের কাজকেই ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেয়া যায়দেশে থাকলে এই সুযোগ কম কারণ দেশে ক্যারিয়ার নির্বাচনের ক্ষেত্রে এরকম উন্মুক্ত সুযোগ পাওয়া যায় না।

দেখে নাও তোমার প্রয়োজনীয় ইনফরমেশন!

 

৫। ভালো চাকুরীর সুযোগ:

যদি তোমার ইচ্ছা থাকে দেশে চাকুরী করা, সেখানেও বিদেশে পড়ালেখা করার একটা সুবিধা আছে। বিদেশের কোন ভালো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা করলে তা তোমার সিভিতে প্লাস পয়েন্ট যোগ করবে। ফলে দেশেও এসেও তুমি ভালো প্রতিষ্ঠানে ভালো চাকুরীতে অপেক্ষাকৃত সহজে যোগদান করতে পারবে। আর বিদেশে থাকাকালীন তুমি যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছ তার সঠিক ব্যবহার করে নিজের ক্যারিয়ারে দ্রুত উন্নতি করতে পারবে।

৬। ঘুরাঘুরি আর এডভেঞ্চারের সুযোগ:

যারা আমার মত ঘুরাঘুরি করতে পছন্দ কর তাদের জন্য বিদেশে পড়তে যাওয়া তো একেবার সোনায় সোহাগা। সম্পূর্ণ নতুন একটি দেশে ভ্রমণ করার সুযোগ তো সহজে পাওয়া যায় না। পড়ার জন্য যদি বিদেশে যাও তো পড়ার পাশাপাশি ঘুরাঘুরিটাও ভালোমত করতে পারবে। এতে করে তোমার ভ্রমণপিপাসু মনও বেশ শান্তি পাবে।

৭। দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ:

বিদেশের নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেয়ার পাশাপাশি তোমার নানারকম দক্ষতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে বিদেশে পড়ালেখা। নানাকরম মানুষের সাথে কাজ করা, তাদের সাথে মানিয়ে চলা, তাদের মধ্যে থেকে নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষমতা ইত্যাদি বিভিন্ন কাজে তোমার দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে চাকুরী করার ক্ষেত্রে বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের প্রথম পছন্দ কিন্তু তুমিই হবে।

এ তো গেলো সুবিধার কথা। সব কিছুরই সুবিধা অসুবিধা আছে, বিদেশে পড়তে যাওয়ার কিছু অসুবিধাও আছে। চলো এবার দেখে আসি অসুবিধাগুলো-

অসুবিধা:

১। নতুন পরিবেশ:

বিদেশে পড়তে গেলে সর্বপ্রথম যে অসুবিধা হয় তা হল নতুন পরিবেশে মানিয়ে চলার অসুবিধা। একদমই আলাদা খাদ্যাভ্যাস, আলাদা আচার-আচরণ, আলাদা ভাষা, মোটকথা একেবারে আলাদা একটি পরিবেশে গিয়ে পড়বে তুমি। সেখানে তুমি একরকম, আর অন্যরা অন্যরকম। ফলে তাদের সাথে কথাবার্তা বলতে, মানিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরণের অসুবিধায় পড়তে হয়।

সবকিছু ভেবে বিদেশে পড়ালেখার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত

২। একা একা লাগা:

বিদেশের নতুন পরিবেশে যখন মানিয়ে নেয়া কষ্টকর মনে হবে তখনি তুমি নিজের আগের জীবনটার অভাব অনুভব করা শুরু করবে। ক্ষুধা পেলেই খাবার দেয়ার জন্য মা নেই, বিকেলে আড্ডা দেয়ার জন্য পুরাতন বন্ধুরা নেই, যখন ইচ্ছা তখন ঘুম থেকে উঠার সুযোগ নেই। এইসব কিছু যখন মানিয়ে নিতে না পারার সাথে যুক্ত হবে তখনি তুমি নিজেকে একা একা মনে করবে। এটি বিদেশে পড়তে যাওয়ার একটি বড় অসুবিধা।

৩। অতিরিক্ত প্রত্যাশা:

আমাদের সবারই একটা দোষ আছে। সেটা হল বিদেশে পড়তে যাওয়ার সময় অতিরিক্ত প্রত্যাশা নিয়ে যাই আমরা। যেই দেশে যাচ্ছি সেই দেশ সম্পর্কে শুধু মুভি আর ইন্টারনেটে যা দেখি সেটুকুই জানি। ফলে এমনিতেই আমরা জানি কম। আর বিদেশ নিয়ে আমাদের মাঝে একটা মোহ আছে। এর ফলে যখন আমরা বিদেশে গিয়ে বাস্তবতার সম্মুখীন হই, তখন সেই মোহটা কেটে যায়।

সেখানে গিয়ে দেখা যায় চাইলেই যেখানে সেখানে যাওয়া যায় না, বিদেশীদের জন্য সেখানে আইন কঠোর ইত্যাদি। আশাভঙ্গ হওয়ার ফলে অনেকেই সেখানে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারে না।information, study abroad

৪। ভুল পথে চলে যাওয়া:

বিদেশে পড়ালেখা করতে যাওয়ার আরেকটা বড় অসুবিধা হল ভুল পথে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা। নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে না পারায় যখন তুমি হতাশ, ঠিক সেই সময়টাই এই ভুল পথে চলে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে সহজ সময়। পরিবারের শাসন থেকে হঠাৎ করে মুক্তি পেলে ইচ্ছে করে অনেক কিছুই করতে। বিদেশের মুক্ত পরিবেশে তোমাকে বাধা দেয়ারও কেউ থাকবে না। এর ফলে একটা বেশ বড় সম্ভাবনা থাকে চরিত্রের অবক্ষয় হওয়ার।

৫। পরিবারের খারাপ সময়ে পাশে না থাকতে পারা:

দেশের বাইরে পড়তে গেলে ঐ দেশের আইন বা দেশে ফেরার খরচ ইত্যাদি কারণে দেশে ঘনঘন ফেরার কোন সুযোগ থাকে না। এর ফলে দেখা যায় যে পরিবারের কোন খারাপ সময়ে বা কোন দুঃসংবাদ শুনলে দেশে ফিরে পরিবারের পাশে থাকার সুযোগ হয় না। এর ফলে মনের উপর চাপ পড়ে যাতে করে পড়ালেখার ব্যাঘাত ঘটে।

৬। খরচ:

অনেক দেশেই জীবনযাপনের খরচ অনেক বেশি যা অনেকের পরিবারের পক্ষেই চালানো সম্ভব নয়। পড়ালেখার খরচ এর পাশাপাশি জীবনযাপনের খরচ চালানোর জন্য সবাইকে পার্টটাইম চাকুরী করতে হয়। এর ফলে নিজের জন্য সময় পাওয়া যায় না। আর পার্টটাইম চাকুরী খুঁজে পাওয়াও বেশিরভাগ সময়ই কঠিন। এই আর্থিক চাপের কারণে পড়ালেখা আর আনন্দ দুটোতেই ব্যাঘাত ঘটে।

বিদেশে পড়তে যাওয়া আমাদের অনেকের কাছেই স্বপ্ন। কিন্তু এই স্বপ্নের অপমৃত্যু ঘটে যখন বিদেশে গিয়ে মানুষ প্রত্যাশার সাথে বাস্তবতার মিল খুঁজে না পায়। এজন্য আমাদের সকলেরই উচিত আগের সব সুবিধা-অসুবিধা খুঁটিয়ে দেখা, অসুবিধাগুলোর সাথে মানিয়ে নিতে পারবো কি না তা দেখা। এই সবকিছু ভেবে বিদেশে পড়ালেখার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। তাহলেই সুবিধাগুলোর সঠিক ব্যবহার আর অসুবিধাগুলোকে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?

GET IN TOUCH

10 Minute School is the largest online educational platform in Bangladesh. Through our website, app and social media, more than 1.5 million students are accessing quality education each day to accelerate their learning.