সফল মানুষদের সকালের ৬ অভ্যাস

জগ্ননাথ বিশ্ববিদ্যালয় এ মাস্টার্স ১ম সেমিস্টারে পড়ছি, পাশাপাশি লেখালিখি করি, ব্লাড নিয়ে কাজ করি, কিছু সংস্থায় ভলেন্টিয়ার হিসাবে কাজ করি। বই পড়তে, নাচতে, স্কিল ডেভেলপ করে এমন কাজ করতে পছন্দ করি, আরো পছন্দ করি নতুন যে কোন বিষয় শিখতে । আগে সব কিছুই শিখতে ইচ্ছা করতো, এখন একটা একটা করে শিখি ।


পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

Hal Elrod – The author of “The miracle morning”  – এ সফল মানুষদের সকালের ৬টি  অভ্যাসের কথা বলেছেন। প্রত্যেক সফল মানুষের জীবনে এমন কিছু অভ্যাস থাকে।

মাত্র ২০ বছর বয়সে  Hal Elrod তার কোম্পানির টপ সেলসম্যান হয়ে ওঠেন । তার লাইফের সব কিছুই ছিল একদম পারফেক্ট । কিন্তু একদিন স্পীচ দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎ তার খুব মারাত্নক এক্সিডেন্ট হয়। ৬ মিনিটের জন্য তার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়, শরীরের ১১ টি হাড় ভেঙ্গে যায় এবং ৬ দিন তিনি কোমাতে ছিলেন।

ডাক্তাররা তাকে বলেন উনি আর কোনদিন হাঁটতে পারবেন না এবং তার ব্রেনও ড্যামেজ হয়ে গেছে । কথাগুলো শুনে তিনি কষ্ট পান ঠিকই কিন্তু তিনি মনে করতেন ৫ মিনিটের বেশি নেতিবাচক চিন্তা পরিস্থিতি আরো খারাপ করে তোলে, তাই তিনি নেতিবাচক চিন্তাগুলো মন থেকে সরিয়ে সামনের কথা ভাবতে থাকেন।

তিনি  ভাবলেন, এখন আমি দুইটি কাজ করতে পারি – ডাক্তারের কথা অনুযায়ী  সারাজীবন হুইল চেয়ারেই বসে কাটাবো , যদি তাই হয় তাহলে আমি এই হুইল চেয়ারে বসেই হ্যাপি মানুষ হয়ে দেখাবো অথবা  ডাক্তারের কথা ভুল প্রমাণিত করে আবার হেঁটে দেখাবো। এই ইতিবাচক চিন্তাগুলোই তার নেতিবাচক চিন্তাগুলোকে মন থেকে সরিয়ে দেয় । তার এই ইতিবাচক চিন্তার ফলে তার স্বাস্থ্য খুব তাড়াতাড়ি ভালো হতে থাকে , যা ডাক্তারদেরকেও অবাক করে।

ঐ এক্সিডেন্টের কিছু বছর পর তিনি একজন স্পিকার , বেস্ট সেলিং অথার এবং আলট্রা ম্যারাথন রানার । কী ভাবছেন? ভুল লিখলাম? না, একদম ঠিক লিখেছি, উনি আলট্রা ম্যারাথন রানার যাকে বলা হয়েছিল কোনদিন হাঁটতেও পারবেন না।

কী করে তিনি এই অবস্থানে এলেন? ডাক্তারের কথা ভুল প্রমাণ করলেন ? Hal Elrod বলেন – এর জন্য আপনাকে সকালে ঘুম থেকে উঠতে হবে। সকালে যে তাড়াতাড়ি ওঠে তার কাছে প্রচুর সময় থাকে তার কাজগুলো করার জন্য এবং ভালো morning rituals ব্রেন এবং মাইন্ডকে প্রশিক্ষন দেয়।

কোমা থেকে ফিরে আসার পর তিনি ৬ টি সকালের  অভ্যাস তৈরি করেছিলেন , যা তিনি বিভিন্ন বই পড়ে জেনেছিলেন । চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক সেই অভ্যাসগুলো যা লেখক অনুসরণ করেন।

 ১। Silence :

Silence  অর্থাৎ মেডিটেশন বা প্রার্থনা । ঘুম থেকে আমরা প্রায় সবাই যে কাজটি করি সেটা হচ্ছে দুনিয়ার সব টেনশন নিজের মাথায় নিয়ে নিই। আরে আজকে তো মিড টার্ম আছে, না জানি আজকে প্রেজেন্টেশন ভালো হবে কিনা, দেখি তো ফেসবুকে কোন নিউজ আছে কিনা। কিন্তু সফল  মানুষেরা দিনের শুরু করে মেডিটেশন বা প্রার্থনা দিয়ে যা তাদের ব্রেনকে শান্ত করে সুন্দর দিনের সূচনা করে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে , মেডিটেশন সফলতা লাভে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে। এইজন্য প্রথম অভ্যাস মেডিটেশন চর্চা করা।

২। Affirmations :

এটি একটি পাওয়ারফুল টেকনিক। যা প্রচুর সফল ব্যক্তি ব্যবহার করে থাকেন। Affirmations হচ্ছে একটি ইতিবাচক বাক্য বারবার নিজেকে বলা, যার ফলে সেই বাক্যটি আমাদের সাব কনশাস মাইন্ডে গেঁথে যেতে থাকে, বাস্তবেও আমরা নিজেকে তাই ভাবতে থাকি। যেমন ধরুন আপনি যদি কোন কাজের শুরুতে নিজেকে বারবার বলতে থাকেন আমি পারবো , আমি পারবো তাহলে বাস্তবেও আপনার কাজটি পারার সম্ভাবনা বেড়ে যায় ।

৩। Visualization :

এটা অনেকটাই Affirmation-এর মতই। Affirmation-এ আপনি নিজেকে বারবার নিজেকে ইতিবাচক বাক্য বলবেন , Visualization-এ আপনার মস্তিষ্কে এমন কিছু জিনিস তৈরি করতে হবে যা জীবনে অর্জন করতে চান। যেমন ধরুন আপনি কোন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করতে চান, মনে মনে চিন্তা করতে থাকুন, বড় একটা রুমে আপনি বসে আছেন, হাতে দামী ব্র্যান্ডের ঘড়ি অথবা মোবাইল যা আপনি চেয়েছিলেন, আর মুখে হাসি তাহলে আপনার লক্ষ্য অর্জন আরো বেশি সহজ হয়ে যাবে। 

 

 

৪। Exercise :

Exercise বা ব্যায়াম অনেক উপকারী। নিয়মিত ব্যায়ামের ফলে আপনার মস্তিষ্কে অক্সিজেন বেড়ে যায়, এনার্জি লেভেল বেড়ে যায়। এগুলো করার জন্য আপনার জিমে যাওয়ার দরকার নেই, সকালে ছোট ছোট ব্যায়াম করেই এই উপকারিতা পেতে পারেন।

৫। Reading :

Reading বলতে অনেকেই শুধু টেক্সট বই মনে করেন, আসলে তা না। লেখক বইতে নিয়মিত সকালে কোন Self improvement বিষয়ক বই পড়তে বলেছেন, যা আপনার চিন্তাশক্তি, স্কিলস, বুদ্ধিমত্তা বাড়িয়ে তুলবে। পৃথিবীর সর্বোচ্চ ধনী ব্যক্তি বিল গেটস প্রতি সপ্তাহে একটি বই পড়েন। সুতরাং, এটিও প্রয়োজনীয় অভ্যাস সফলতা অর্জনে।

৫। Scribe :

Scribe মানে হচ্ছে লিখে রাখা অর্থাৎ আপনার লক্ষ্যগুলো প্রতিদিন লিখে রাখবেন। সবসময় নিজের সাথে একটি নোটবুক রাখুন এবং আইডিয়া , চিন্তাগুলো লিখে রাখুন। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যারা তাদের গোলগুলো লিখে রেখেছেন, তারাই বেশি সফল হতে পেরেছেন। তাহলে দেরি না করে আজই নিজের গোলগুলো লিখে রাখুন।

সবগুলো উপায় গবেষণায় প্রমাণিত, তাহলে দেরি না করে আজ থেকেই এই অভ্যাসগুলো আয়ত্ত করা শুরু করুন । আর হ্যাঁ, সকালে অ্যালার্ম দিতে ভুলবেন না যেন!

এই লেখাটা নেয়া হয়েছে Spikestory ব্লগ থেকে।

এরকম আরো লেখা পড়তে ঘুরে এসো Spikestory-র ফেসবুক পেজ থেকে।


১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?

GET IN TOUCH

10 Minute School is the largest online educational platform in Bangladesh. Through our website, app and social media, more than 1.5 million students are accessing quality education each day to accelerate their learning.