যে ৫টি আবিষ্কার আগামী দশকে বদলে দেবে জীবন!

January 16, 2018 ...
পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

২০১৭ সাল ছিল প্রযুক্তির জগতে যুগান্তকারী এক বছর। বিজ্ঞানের এই অগ্রযাত্রা সামনের দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে বলে সবার প্রত্যাশা। প্রতি মুহূর্তেই পৃথিবীর কোন না কোন প্রান্তে গবেষকরা কাজ করে চলেছেন নতুন নতুন আবিষ্কারের পেছনে, জীবনকে আরো সহজ করে তোলার লক্ষ্যে ছুটে চলেছেন বিজ্ঞানীরা।

আগামী দশকে এমনই নানা চমকপ্রদ প্রযুক্তি আসছে আমাদের সামনে, যা হয়তো জীবন সম্পর্কে আমাদের ধারণাই বদলে দেবে! এমনই পাঁচটি অভিনব আবিষ্কার নিয়ে আজকের এই আয়োজন।

মাথা প্রতিস্থাপন!

বিগত চার দশক ধরে পৃথিবীজুড়ে সেরা সেরা বিজ্ঞানী-গবেষক-ডাক্তারেরা নিরলস সাধনা করে চলেছেন প্যারালাইসিসের নিরাময় আবিষ্কার করার জন্য। যেহেতু প্যারালাইসিসের মুখ্য কারণ মেরুদণ্ডের মাঝের স্পাইনাল কর্ডে (মেরুরজ্জু) আঘাত পাওয়া, তাই স্পাইনাল কর্ড কীভাবে কাজ করে, সেটিকে কীভাবে আরো সুরক্ষিত করা যায় কিংবা আহত কর্ডকে সারিয়ে তোলা যায় সেটি অনেকদিন ধরেই গবেষকদের মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কিন্তু সম্প্রতি Dr. Sergio Canavero একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার করেছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই ক্ষেত্রটিতে। তিনি স্পাইনাল কর্ড কেটে, মেরামত করে, চুম্বক আবেশের সাহায্যে জোড়া দিবেন বলে পরিকল্পনা করেছেন। এজন্য একটি অস্ত্রোপচারেই খরচ পড়বে দেড় কোটি ডলারের বেশি (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৩০ কোটি টাকা)!

2 6

তিনি ইতোমধ্যে চীনে মৃতদেহের উপর এ অস্ত্রোপচার করে সফল হয়েছেন, এখন জ্যান্ত মানুষের উপর পরীক্ষা করে দেখার বাকি! অবশ্য তাঁর এই উদ্যোগ সবাই ভালভাবে গ্রহণ করেছেন এমন নয়।

অনেকের মতে তাঁর এই আবিষ্কার প্রকৃতির শৃঙ্খলা ধ্বংস করে ফেলবে, ডেকে আনবে বিপর্যয়। কারণ অসম্ভব বিত্তবান যেই মানুষগুলো আছেন, তারা ইচ্ছেমতো শরীর বদলে ফেলতে পারবেন।

কল্পনা করে দেখো, বৃদ্ধ বয়সে বুড়িয়ে যাওয়া শরীর থেকে মাথাটা আলাদা করে আরেকটি তরুণ শরীরে বসিয়ে যুগ যুগ ধরে বেঁচে আছে একটি মানুষ! শুনতে কল্পবিজ্ঞানের কোন গল্প মনে হলেও ডক্টর ক্যানাভেরোর মতে, এমন কিছুই হয়তো ঘটতে চলেছে ভবিষ্যতে।

বিশ্বজুড়ে Wi-Fi!

গ্রামে বেড়াতে গেলে ইন্টারনেট নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয় আমাদের প্রায় সবারই। এখনো এশিয়া, আফ্রিকা এমনকি ইউরোপের ৫০% প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট সেভাবে পৌঁছায়নি। কিন্তু খুব শীঘ্রই এই সমস্যা আর থাকবে না! ভার্জিন গ্রুপের পক্ষ থেকে OneWeb নামে একটি প্রতিষ্ঠান কাজ করে চলেছে মাত্র দশ বছরের ভেতর সমগ্র পৃথিবী Wi-Fi এর আওতায় নিয়ে আসতে।

২০১৮ সালেই দশটি স্যাটেলাইট নিক্ষেপ করবে তারা, ২০২৭ সালের ভেতর পৃথিবীকে ঘিরে রাখবে OneWeb এর ৯০০টি স্যাটেলাইট! পৃথিবীর সব প্রান্তে- মরুভূমি, সাগর, পাহাড়ের চূড়ায়, গিরিখাতে পৌঁছে যাবে Wi-Fi, ইন্টারনেট নিয়ে আর কাউকে সমস্যায় পড়তে হবে না কোথাও কখনো।

 

ছয় নম্বর আঙ্গুল!

বলিউড অভিনেতা হৃতিক রোশানের ডান হাতে দুটো বুড়ো আঙ্গুল অনেকেই হয়তো দেখে থাকবে! সেই অতিরিক্ত আঙ্গুলটি কোন কাজে না লাগলেও বিজ্ঞানীরা এখন এমন প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছেন যেন দুহাতেই অতিরিক্ত একটি যান্ত্রিক আঙ্গুল সংযুক্ত করে একদম অন্য দশটা আঙ্গুলের মতোই ব্যবহার করা যায়!

Bluetooth-এর মাধ্যমে সেটি দিয়ে ইচ্ছেমতো একদম সত্যিকারের আঙ্গুলের মতো নাড়াচাড়া করতে পারবে

Dani Clode নামে নিউজিল্যান্ডের একজন ডিজাইনার থ্রিডি প্রিন্টার (থ্রিডি প্রিন্টার আরেকটি চমকপ্রদ জিনিস, আজকাল সেটি দিয়ে মানুষ জামাকাপড় থেকে শুরু করে পিস্তল পর্যন্ত প্রিন্ট করে ফেলছে!) দিয়ে এমন একটি আঙ্গুল তৈরি করেছেন যেটি একটি রিস্টব্যান্ড দিয়ে তোমার কবজির সাথে লাগিয়ে নেওয়া যাবে!

3 3

তোমার পায়ে একটি সেন্সর থাকবে Bluetooth-এর মাধ্যমে সেটি দিয়ে ইচ্ছেমতো একদম সত্যিকারের আঙ্গুলের মতো নাড়াচাড়া করতে পারবে! সংগীত, অস্ত্রোপচার ইত্যাদি যেসব ক্ষেত্রে সূক্ষ্ম আঙ্গুলের কাজের প্রয়োজন পড়ে সেসব ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি একরকম বিপ্লব বয়ে আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ক্যান্সার শনাক্ত করবে গুগল

গুগল এক্স ল্যাবরেটরি চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির জন্য কাজ করে চলেছে বহুদিন ধরেই। ন্যানো-টেকনোলজি এবং মেডিসিন এই দুটি ক্ষেত্র নিয়ে একসাথে কাজ করে চমৎকার সব আবিষ্কার করেছে গুগলের রিসার্চ ল্যাব, যার তালিকায় নতুন সংযোজন- ক্যান্সার শনাক্তকারী পিল। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার শনাক্ত করা গেলে সেটি নিরাময় করার সম্ভাবনা থাকে অনেক বেশি, শনাক্ত করতে যত দেরি হয়, ততোই মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে চলে।

দুর্ভাগ্যক্রমে খুব কম মানুষই নিয়মিত মেডিক্যাল চেক-আপ করায় (আমাদের দেশে শতকরা এক ভাগ মানুষও নিয়মিত চেক আপ করায় না), তাই প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার ধরা পড়ার হার খুবই কম। তাই গুগলের এই পিলটি ক্যান্সার প্রতিরোধে অসাধারণ ভূমিকা রাখবে বলেই সবার প্রত্যাশা।

ন্যানো-টেকনোলজি নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম সব প্রযুক্তি নিয়ে এর কারবার! গুগলের গবেষকরা এখনো এই পিলটি সবার জন্য ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে পারেননি, কারণ অসম্ভব ক্ষুদ্র এই ন্যানো কণাগুলো ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করা ভীষণ মুশকিল, এবং একটু এদিক-সেদিক হলেই মানবদেহে গণ্ডগোল বাঁধিয়ে দিতে পারে এই কণাগুলো! তাই ক্যান্সার শনাক্তকারী এই পিলের অপেক্ষায় আমাদের থাকতে হবে আরো কিছুদিন।

ত্বকে মিশে যাবে প্রযুক্তি!

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রফেসর Zhenan Bao এবং তাঁর দল সম্প্রতি পৃথিবীর প্রথম ইলেকট্রনিক বায়োপলিমার আবিষ্কার করেছেন যেটি ব্যবহারের পর ত্বকে মিশে যাবে!

একদিন হয়তো কোনরকম স্মার্টফোন/কম্পিউটার ছাড়া ত্বকের মাধ্যমেই প্রযুক্তিগত কাজগুলো সেরে ফেলতে পারবে সবাই! অসম্ভব পাতলা, প্রায় ওজনহীন, এবং শরীরের জন্য একদমই ক্ষতিকর নয় এই প্রযুক্তি, এর মাধ্যমে মানবদেহের অজানা অনেক রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে বলে গবেষকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

আপনার কমেন্ট লিখুন