মাহে রমজানে খেয়াল রাখবে যে ৫টি বিষয়ে!

May 21, 2018 ...

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবারে শুনে নাও!

 

বিশ্বজুড়ে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের কাছে পরম আরাধ্য মাস পবিত্র রমজান। একমাসের সিয়াম সাধনার মাধ্যমে স্রষ্টার আনুকূল্য লাভ, অন্তরের কালিমা দূরীকরণ, সম্প্রীতি সৌহার্দ্যের চেতনা পুনরুজ্জীবিত করার এক অসামান্য মৌসুম এই মাহে রমজান। সারাদিন সিয়াম সাধনা, ইফতার এবং সেহেরী, তারাবীহর নামাজ– সবমিলিয়ে রমজানের সময়টি আমাদের সাধারণ রুটিনের থেকে অনেক ভিন্ন। তাই এসময় খেয়াল রাখতে হবে পাঁচটি জিনিস, শারীরিক ও মানসিকভাবে রমজানের তাৎপর্য পরিপূর্ণভাবে উপলব্ধি করার জন্য।

মাহে রমজান
Via: productivemuslim.com

রমজানের চেতনা অন্তরে ধারণ

শুক্রবার জুমার দিন সারা সপ্তাহের জন্য অনুশীলন, রমজান সারা বছরের জন্য অনুশীলন, এবং হজ্জ্ব সারা জীবনের জন্য একটি অনুশীলন। এই সময়গুলোয় আমরা যে পবিত্রতা, পরিশুদ্ধতা এবং আন্তরিকতার চর্চা করি তার ছাপ থেকে যাবে জীবনের প্রতিটি কাজে, কথায়, পরিকল্পনায়।

রমজানের চেতনাকে আমরা অনেকে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছি পানাহার থেকে বিরত থাকার মধ্যে। অথচ এর তাৎপর্যের ব্যাপকতা অনেক প্রসারিত। রোজা রাখার মাধ্যমে আমরা অনুভব করার সুযোগ পাই সেই দুর্ভাগা মানুষগুলোর যন্ত্রণা, জীবনের মৌলিকতম অধিকার- খাদ্যের নিশ্চয়তা থেকে যারা বঞ্চিত। পৃথিবীটা আমাদের সবার, সব মানুষ মিলে যেন একটি দেহ, দেহের কোন অঙ্গে ব্যাথা হলে সেটি যেমন গোটা শরীর অনুভব করে, তেমনি আমাদের চারপাশের মানুষগুলোর দুঃখ-যন্ত্রণা অনুভব করার, তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়ানোর সেই শিক্ষাই রমজান দেয় আমাদের।

রমজান শেখায় স্বার্থপরতা, আত্মকেন্দ্রিক চেতনা নির্মূল করতে অন্তর থেকে। “সকলের তরে সকলে আমরা” এই বাণীটিকে হৃদয়ে ধারণ করতে, আত্মত্যাগ, আন্তরিকতা ও পরোপকারের যে অসামান্য শিক্ষা আমরা পাই এই পবিত্র মাসে, তার চেতনা ধারণ করতে হবে বছরজুড়ে।

ভাজাপোড়াকে না বলো

আমাদের সংস্কৃতিতে ইফতারের প্রচলিত উপকরণ- পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুনি ইত্যাদি ভাজাপোড়া খাবারের প্রাধান্য টেবিলজুড়ে, এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। খাবার ভাজাপোড়া জাতীয় হলে তাতে ক্যালরির পরিমাণ হাজারগুণে বেড়ে যায়, সুতরাং অল্প খেলেই ওজন অনেক বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর বুক জ্বালাপোড়া করার বিড়ম্বনা তো রয়েছেই!

সবজি এবং ফলমূল আঁশজাতীয় খাবার, এগুলো হজম হয় ধীরে ধীরে, শরীরে পুষ্টি সরবরাহ করে দীর্ঘ সময় ধরে। তাই সেহেরীতে সবজির পরিমাণ বেশি থাকলে সারাদিনের কাজের ধকলের মাঝেও শরীর থাকবে সবল। আর ভাজাপোড়া, তৈলাক্ত খাবারে শরীরে জাগবে অবসাদ, পিপাসা ও ক্লান্তিতে জীবন হয়ে উঠবে দুর্বিষহ।

এবছর রমজান গ্রীষ্মের মৌসুমে চলছে, বাজার সুস্বাদু পুষ্টিকর নানারকম ফলে ভরপুর। ইফতারে তাই সব ভাজাপোড়ার স্থানে আসুক ফলমূল, ক্ষতিকর সফট ড্রিংকস এর বদলে গ্লাসে থাকুক ফলের রস। ইফতার হবে স্বাস্থ্যকর, সুস্বাদু এবং তৃপ্তিদায়ক।

অর্থসহ নামাজ শিক্ষা

অর্থসহ নামাজ শিক্ষা কোর্সে ভর্তি হয়ে সহীহ নিয়মে সালাত আদায় শুরু করুন।

 

পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান

মানুষের শরীরের ৬০% অংশ পানি দিয়ে তৈরি। মস্তিষ্ক এবং হৃদয়ে পানির পরিমাণ প্রায় ৮০% এর কাছাকাছি। বুঝতেই পারছো, পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা শরীরের সুস্থতার জন্য অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ।

শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পানি পান না করলে যা হতে পারে- মাথাব্যথা, বসা থেকে উঠতে গেলে মাথা ঘুরানো, চোখে অন্ধকার দেখা। কাজ করার শক্তি একদম কমে যাওয়া, সারাক্ষণ দুর্বল লাগতে থাকা এবং গা ঝিমঝিম করা। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, বয়স্ক ব্যক্তিদের স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি।

বুঝতেই পারছো, পানি পান করা কতোটা গুরুত্বপূর্ণ আমাদের শরীরের জন্য। সারাদিন রোজা রেখে শরীরে যে পানির ঘাটতি তৈরি হয়, সেটি পূরণ করতে হবে ইফতারে, রাতে এবং সেহেরীতে পানি, ফলের রস, শরবত প্রভৃতি তরল উপকরণের মাধ্যমে।

মাহে রমজানে সকালটাকে কাজে লাগাও

দিনের শুরুটা হচ্ছে কাজ করার জন্য সবচেয়ে চমৎকার সময়। এসময় মস্তিষ্ক থাকে ঝরঝরে, শরীর থাকে সতেজ, প্রকৃতি থাকে দূষণমুক্ত, অনাবিল সতেজতায় ভরপুর। আমরা অনেকেই যেই ভুলটা করি- সেহেরী সেরে লম্বা একটা ঘুম দেই! খাওয়ার পরপর ঘুমানো শরীরের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর, তদুপরি আমরা ভুলে যাচ্ছি যেই বিষয়টি- রমজান হচ্ছে একটা ট্রেইনিং।

আমাদের অনেকের সারা বছরের অভ্যাস বেলা করে ঘুম থেকে ওঠা, আমরা চাইলেও ভোরবেলা উঠতে পারি না। কিন্তু রমজানে সেহেরী খাওয়ার জন্য কিন্তু উঠতেই হচ্ছে, তাইনা? কি চমৎকার একটি সুযোগ রমজানের এক মাস ভোরে কাজ শুরু করে দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার! এখানেই রমজানের মাহাত্ম্য- আমাদের দুর্বলতা, আলসেমি আর বদ অভ্যাসগুলোকে ঝেড়ে ফেলে দেওয়ার এক সুবর্ণ সময়। সুন্দর অভ্যাসগুলো গড়ে উঠুক এই তিরিশ দিনে, যার অনুশীলন থেকে যাবে বছরজুড়ে।

মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা

রমজানের দিনগুলো অন্যান্য দিনের তুলনায় একটু অন্যরকম, যে মানুষটি উঠতে বসতে গালি দেয় সেও রোজা রেখে মুখ খারাপ করার আগে দু’বার ভাবে। যে মানুষটি অসৎ কাজে জড়িয়ে থাকে সারা বছর, সেও রমজানে চেষ্টা করে সেগুলো থেকে দূরে থাকার। ভেবে দেখো, তুমি নিজেই কিন্তু সারাবছর এমন অনেক কাজ করো, এমন অনেক অভ্যাসে জড়িয়ে থাকো যেগুলো রমজানে বন্ধ রাখো।

এই ট্রেইনিংটা শুধু রমজানে কেন সীমাবদ্ধ থাকবে? খারাপ সে তো সবসময়ের জন্যই খারাপ, তাই যে কাজগুলো তুমি রোজা রেখে করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করো না, বুঝতে হবে সেগুলো পরিহার করাই শ্রেয়, তাইনা?

শুধু তাই নয়, যেই ছেলেটা বা মেয়েটা সারাবছর দরজা বন্ধ করে একা একা নিজের জগতে থাকে, সেও কিন্তু ইফতারের সময় পরিবারের সাথে একত্রে টেবিলে বসে। পৃথিবীর সবচেয়ে ভালবাসার মানুষ তোমার পরিবারের সদস্যরা, তোমরা সবাই মিলে যখন একসাথে ইফতারের জন্য বসো তখন যেই পবিত্র অনুভূতির সৃষ্টি হয় সেটির কি কোন তুলনা হয়? ভালবাসা, মমতা, আন্তরিকতার এক অনন্য বন্ধন গড়ে ওঠে এই রমজানে, তার অনুশীলন চলুক বছরের বাকি দিনগুলোতেও।

অনেকেরই বাবা-মায়ের সাথে একরকম দূরত্ব তৈরি হয় বয়ঃসন্ধিতে পা দিয়ে। অথচ তাদের থেকে কাছের আর কি কেউ হতে পারে? সব দূরত্ব, সব জড়তা ঘুচে যাক এ রমজানে, মায়ের সাথে ইফতার তৈরি ও পরিবেশনে সাহায্য করো, বাবার সাথে জামাতে নামাজে যাও- যে প্রশান্তি মিলবে প্রিয় মানুষগুলোর সান্নিধ্যে, বিশ্বাস করো পৃথিবীর কোনকিছুর সাথে সে অনুভূতির তুলনা হয় না।

সবাইকে রমজানের শুভেচ্ছা!

এই লেখাটির অডিওবুকটি পড়েছে আব্দুল্লাহ আল মেহেদী


আমাদের কোর্সগুলোতে ভর্তি হতে ক্লিক করুন:

  1. ২৪ ঘণ্টায় কোরআন শিখি
  2. অর্থসহ নামাজ শিক্ষা

১০ মিনিট স্কুলের ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

আপনার কমেন্ট লিখুন