5 Leading Hacks: ছাত্রজীবনেই শিখে নাও নেতৃত্বের গুণাবলী

March 20, 2018 ...
পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

“রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?
দীঘল রাতের শ্রান্তসফর শেষে
কোন দরিয়ার কালো দিগন্তে আমরা পড়েছি এসে?
এ কী ঘন-সিয়া জিন্দেগানীর বা’ব
তোলে মর্সিয়া ব্যথিত দিলের তুফান-শ্রান্ত খা’ব
অস্ফুট হয়ে ক্রমে ডুবে যায় জীবনের জয়ভেরী।
তুমি মাস্তুলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে;
সম্মুখে শুধু অসীম কুয়াশা হেরি।”

– কবি ফররুখ আহমেদ

যেকোনো দলগত কাজ সুসংগঠিতভাবে সম্পন্ন করার জন্য যে একজন যোগ্য নেতার  প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য তা আমরা কবি ফররুখ আহমেদের “পাঞ্জেরী” কবিতায় দেখতে পাই!

নেতৃত্ব এর  চর্চা ছাত্রজীবন থেকে শুরু করলে তা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে তোমাকে একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। তবে কাজটি দেখতে যতটা কঠিন মনে হয়, আসলে কিন্তু ঠিক ততটাই সহজ!

কেউ জন্ম থেকে এসব গুণাবলি নিয়ে পৃথিবীতে আসেনা, সবই চেষ্টা এবং চর্চার ফসল। চলো দেখে নেই এমন কিছু গুণ যা চর্চার মধ্য দিয়ে তুমি একজন সফল নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পারবে-

নেতৃত্বের গুণাবলী কি কিঃ 

৫। আদর্শ নেতা নির্বাচন

যোগ্য নেতা হতে হলে প্রথমেই তুমি বেছে নাও এমন একজন মানুষকে, যাকে তোমার আদর্শ নেতা হিসেবে বেছে নিতে চাও। এমন কেউ, যার জীবনাদর্শ তোমাকে মুগ্ধ করে। আদর্শ মানুষটির ভালো গুণগুলোকে লিস্ট করে একটি নোট খাতায় টুকে ফেলো। এরপর লক্ষ্য করো, টুকে নেয়া শব্দগুলোর মধ্যে তুমি নিজের কোনো দিক খুঁজে পাও কিনা। যদি না পাও তবে হতাশ না হয়ে, দ্বিগুণ উদ্যমে ওই গুণগুলো চর্চা শুরু করে দাও!

৪। দূরদৃষ্টি

একজন ভালো নেতার বিশেষ একটি গুণ হলো, সে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন। অর্থাৎ সে তার উদ্দেশ্য এবং সেই উদ্দেশ্যে পৌঁছানোর গতিপথ সম্পর্কে যথাযথভাবে অবগত। নেতার দূরদর্শিতাই পারে কোন কাজে সাফল্য এনে দিতে। তাই কী করছি, কেন করছি, এই কাজের ভবিষ্যৎ কী, কীভাবে অগ্রসর হবো-এসকল বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকা ও আত্মবিশ্বাস রাখা অত্যন্ত জরুরি।  

একজন রুক্ষ, কর্কশ নেতার চেয়ে একজন বিনয়ী নেতার গুরুত্ব ঢের বেশি

৩। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি

ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিই পারে যেকোন কাজকে সাফল্যের শীর্ষে নিয়ে যেতে। দলীয় কাজে নেতার মনোবল শক্ত না থাকলে দলের বাকি সদস্যের মনোবলও ভেঙ্গে পড়ে। যেমন প্রচণ্ড ঝড়ে মাঝি সাহস নিয়ে শক্ত করে হাল না ধরলে নৌকার ডুবে যাওয়া অনিবার্য, তেমনি কোনো দলীয় কাজে সফলতার সাথে অগ্রসর হতে হলে নেতার সৎ সাহস এবং ধৈর্য থাকা অত্যন্ত জরুরি।

তাই সব কাজে ইতিবাচক চিন্তা করার অভ্যাস করতে হবে, এতে যেকোনো কাজে আত্মবিশ্বাস বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

২। সময়নিষ্ঠ ও বিনয়ী হওয়া

সময়মত কাজে আসা এবং কাজ সম্পন্ন করা একজন যোগ্য নেতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। দলগত কাজে সময় নিয়ে হেলাফেলা করলে কাজের অগ্রসরতা বাধাগ্রস্থ হয় অনেকটাই। তাছাড়া দলের প্রত্যেক সদস্যকে নির্বিচারে সমানভাবে বিচার করা, সুন্দর ব্যবহার করা- এসকল বিষয় চর্চা করা উচিত।

একজন রুক্ষ, কর্কশ নেতার চেয়ে একজন বিনয়ী নেতার গুরুত্ব ঢের বেশি।

নেতৃত্বের গুণাবলী, নেতৃত্ব

১। সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করা

ঝড়ের সময় যেমন মাঝি নৌকার হাল ধরে যাত্রীদের রক্ষা করে, তেমনি যাত্রীদের যোগানো সাহসই মাঝির মানসিক শক্তির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ঠিক তেমনি, দলীয় কাজে যেমন একজন নেতার যোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ তেমনি নেতারও দরকার সদস্যদের পূর্ণ সমর্থনের কিংবা সক্রিয় অংশগ্রহণের।

সুতরাং দলের সকলকে যার যার যোগ্যতানুযায়ী কাজ ভাগ করে দেয়া, উৎসাহ দেয়া, বেশি করে কাজে অন্তর্ভুক্ত রাখা ইত্যাদিও একজন আদর্শ নেতার ভালো গুণগুলোর মধ্যে অন্যতম।

এই গুণগুলোকে ছাত্রজীবনেই রপ্ত করে ফেলতে পারলে তুমিও হয়ে যেতে পারো ভবিষ্যতের আদর্শ নেতা!


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

আপনার কমেন্ট লিখুন