বুদ্ধিমানের ৪ টি খেলা!

February 4, 2018 ...
পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

খেলতে কে না ভালোবাসে? শরীর-স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য খেলাধুলার কোন জুড়ি নেই। তবে কিছু খেলা আছে যা খেলতে হয় শরীরের নয়, বরং মগজের শক্তি দিয়ে। এসব খেলা নিয়মিত চর্চার ফলে আমাদের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। চলো, দেখে নেয়া যাক এমন মজার কিছু খেলা!

দাবা

কখনও দাবা খেলেনি এমন মানুষ পাওয়া সহজ হবে না মোটেও। খেলাটি যেমন মজার, মস্তিষ্কের জন্য তেমনি উপকারী। হাতি, ঘোড়া, সৈন্য, রাজা ইত্যাদি নিয়ে রাজ্য সামাল দিতে হলে চাই মনোযোগ এবং দ্রুত চিন্তা করার ক্ষমতা। চিন্তার একটু বিচ্যুতি ঘটলেই ঘটে যেতে পারে অঘটন।

নিয়মিত দাবা খেললে মস্তিষ্কের কাজ করার ক্ষমতা বাড়ে, দ্রুত চিন্তা করার ক্ষমতা তৈরী হয়। আমাদের যাদের কোন কাজে কনসেন্ট্রেশন ধরে রাখতে সমস্যা হয়, তাদের জন্য দাবা খেলার অভ্যাসটা কাজে দিতে পারে

 

সুডোকু

সুডোকু খেলি আর না খেলি, নাম তো সবাই শুনেছি। নানা নামে পরিচিত হলেও এই খেলা সুডোকু নামে প্রথম পরিচিতি পায় ১৯৮৬ সালে, জাপানি পাজল কোম্পানি ‘নিকলি’-র মাধ্যমে। খেলাটির উদ্দ্যেশ্য হল, একটি ৯×৯ গ্রিড এমনভাবে সংখ্যা দ্বারা পূরণ করতে হবে যেন প্রত্যেকটি সারি, কলাম ও প্রত্যেকটি ৩×৩ সাব-গ্রিডে ১ থেকে ৯ এর প্রত্যেকটি সংখ্যা থাকে।  

খেলতে হলে খাটাতে হবে মাথা। নিয়মিত খেলতে থাকলে ধীরে ধীরে খেলা আয়ত্ত্বে আসবে, আর ব্যায়াম হবে মস্তিষ্কের!

স্ক্র্যাবলস

ইংরেজি বর্ণ দিয়ে শব্দ সাজানোর খুবই মজার একটি খেলা এই স্ক্র্যাবলস। খেলাটি আবিষ্কার করেন আলফ্রেড বাটস নামের একজন আমেরিকান আর্কিটেক্ট। এটি খেলার জন্য কয়েকটি দক্ষতার প্রয়োজন হয় – ভোকাবুলারি, বানান, গণনা, স্ট্র্যাটেজি। সহজে ইংরেজিতে দক্ষতা অর্জনের জন্য খুবই সহায়ক একটি খেলা (যদিও বর্তমানে ২৯ টি ভাষায় স্ক্র্যাবলস তৈরী করা হয়) কেবল ভোকাবুলারিই নয়, উন্নতি হবে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতারও

 

রুবিক’স কিউব

রুবিক’স কিউব নিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মজার একটা নাটক আছে। নাটকের এক চরিত্র তার বাসায় আসা বাইরের মানুষদের বাথরুমে আটকে রেখে একটা রুবিক’স কিউব দেয় সলভ করার জন্য। সলভ করতে পারলে তবে বাথরুমের বন্দী দশা থেকে মুক্তি!

খেলাটি কিন্তু মজার। বিভিন্ন রঙয়ের ছোট ছোট স্কয়ার দিয়ে তৈরী বড় একটি স্কয়ারকে এমনভাবে সাজাতে হবে যেন এর প্রতিদিকে একই রঙের স্কয়ার থাকে। ইমো রুবিক নামের একজন হাংগেরিয়ান আর্কিটেক্ট ১৯৭৪ সালে খেলাটি আবিষ্কার করেন

বিনোদনের সাথে সাথে খেলাগুলো প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

খেলাটির দক্ষতা নির্ভর করছে তুমি কত কম সময়ে কিউবটি মেলাতে পারো-তার উপরে। দ্রুততম সময়ে রুবিক’স কিউব মেলানোর অফিসিয়াল রেকর্ডটি কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের SeungBeom Cho এর, মাত্র ৪.৫৯ সেকেন্ড! মস্তিষ্কের জন্য চমৎকার একটি ব্যায়াম এই খেলাটি।

অবসর সময় কাটানোর জন্য খেলাগুলো কিন্তু বেশ কাজের। বিনোদনের সাথে সাথে খেলাগুলো প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। বলা যায় না, কোন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় গিয়ে পুরষ্কারও বাগিয়ে নিয়ে আসতে পারো !

 

আপনার কমেন্ট লিখুন