ক্লাসরুমে প্রশ্ন করতে ভয়? মাথায় রেখো ৪টি বিষয়

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবারে শুনে নাও!

 

প্রশ্ন নিয়ে লেখা ব্লগ, শুরু করছি একটা প্রশ্ন দিয়েই। ধরে নাও একটা ১০০জনের ক্লাসরুমে একজন টিচার তোমাদের পড়াচ্ছেন। এক পর্যায়ে তোমার মনে একটা প্রশ্ন জেগে উঠলো। তুমি কতটা স্বাচ্ছন্দ্যে “I have a question, sir!” বলে হাত উঁচু করতে পারবে?

এই প্রশ্নের উত্তরে খুব কম মানুষকেই পাওয়া যায় যারা কিনা কোন জড়তা অনুভব না করেই তাদের প্রশ্ন টিচারের কাছে উপস্থাপন করতে পারে। কোন ক্লাসরুমে একটু লক্ষ করলেই দেখা যায় সর্বোচ্চ ৭-১০জন আছে যারা কিনা খুবই স্বাচ্ছন্দ্যে টিচারকে প্রশ্ন করতে পারে। অনেকের মনে কোন প্রশ্নই থাকে না। কিন্তু, তাদের সংখ্যার চেয়ে প্রশ্ন মনের ভিতরে রেখে করতে পারছে না, এমন ছাত্রের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।

বর্তমানে একবিংশ শতাব্দীতে নয় বরং শত বছর আগে থেকেই প্রশ্ন করাটা অনেক বড় ধরণের একটা স্কিল। বিজ্ঞান শুরুই হয় প্রশ্ন থেকে। পৃথিবীর যত আবিষ্কার তুমি দেখবে, সবগুলো আবিষ্কারের শুরুতেই একটা করে প্রশ্ন রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে খুবই পরিচিত একজন বিজ্ঞানীর নাম বলা যায়। স্যার আইজ্যাক নিউটন! একবার চিন্তা করে দেখোই তো, স্যার আইজ্যাক নিউটন যদি গাছ থেকে আপেল পড়ার দৃশ্য পর্যবেক্ষণ করে “আপেলটি মাটিতেই কেনো পড়লো?”- প্রশ্নটি না করতেন, তাহলে কী হতো?

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

তাই চলো প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে নানান ধরণের জড়তাকে জয় করার কিছু দারুণ কৌশল দেখে আসা যাক!

১) Risk benefit ratio নিয়ে চিন্তা করো:

সহজ বাংলায় Risk benefit ratio হলো এক প্রকার লাভ-ক্ষতির হিসাব। তুমি যদি ক্লাসরুমে তোমার টিচারকে প্রশ্ন করো সেখানে কি আসলেই কোন ঝুঁকি আছে? সর্বোচ্চ কেউ হয়তো তোমার পিছনে হেসে উঠতে পারে, কিন্তু এই হেসে ওঠার ব্যাপারটা কি আসলেই ঝুঁকিপূর্ণ?

প্রশ্ন জিজ্ঞেস করার মধ্যে কোন ঝুঁকিই আসলে নেই। ব্যাপারটা একটা উদাহরণ দিয়ে পরিষ্কার করা যাক। যখন একজন ক্যান্সারের রোগীকে কেমোথেরাপি দেয়া হয় তখন কি চিন্তা করা হয় যে রোগীর চুল পড়ে যাবে, গা জ্বলবে কিংবা বমি করবে? আসলে এগুলো চিন্তা করা হয় না, কারণ এই সাইড ইফেক্টগুলো থাকবেই। এখানে রোগীর সুস্থতাই হলো মুখ্য বিষয়। তেমনি ক্লাসরুমে কে হাসছে বা কে কী করছে, এটা ভাবার থেকে তুমি ক্লাসরুম থেকে কতটুকু শিখছো সেটা অনেক বড় একটা বিষয়।

“তুমি যদি সঠিক সময়ে প্রশ্ন করতে পারো, দিন শেষে তুমিই হাসবে।”

এখন দেখা যাক সুবিধার বিষয়টা। তুমি যদি একটু সাহস করে শুধু টিচারকে প্রশ্ন করে ফেলো তাহলে তোমার কত লাভ হবে তা হয়তো আমি লিখে শেষ করতে পারবো না। কিন্তু, যে জিনিসগুলো না বললেই না সেগুলো বলছি।

ক) অর্থ এবং সময় বাঁচানো: এ ব্যাপারটা অনেকটা এক ঢিলে দুই পাখি মারার মতন। তুমি যদি তোমার স্কুলের কিংবা কলেজের ক্লাসরুমে বসেই তোমার প্রশ্নের উত্তর জেনে নিতে পারো তাহলে সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে কোন গৃহশিক্ষকের প্রয়োজন পড়বে না এবং তুমি নিজে থেকেই স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে নিজের সমস্যার সমাধান করতে পারবে।

অন্যদিকে, যে সমস্যার সমাধান তুমি স্কুল বা কলেজের ক্লাসরুম থেকেই পেয়ে যাবে সেই সমস্যার সমাধান করার জন্য বাসায় অতিরিক্ত সময় দেয়ার প্রয়োজন হবে না।

খ) Face value তৈরি হবে: তুমি যখন কিছু না বুঝতে পারলে একজন টিচারকে প্রশ্ন জিজ্ঞেস করবে, তখন তিনি বুঝতে পারবেন তুমি কতটা মনোযোগী এবং তাঁর সাবজেক্টের প্রতি কতটা সিরিয়াস। যা টিচারদেরকেই অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করে। যার ফলে তিনি তোমাকে চিনবেন। তোমাকে ভালোমত শেখাতে এবং তুমি যেন ভালোমত বুঝতে পারো সেই জন্য তিনিও তাঁর দিক থেকে বেশি করে সবরকমের চেষ্টা করে যাবেন।

গ) ক্লাসের সবার উপকার হবে একই সাথে: আগেই বলেছিলাম, সাহস করে প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারে এমন মানুষের সংখ্যাই আসলে খুব কম। ক্লাসরুমে অনেকে আছে যাদের মনে একই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে কিন্তু কেউই সাহস করে প্রশ্নটা করে উঠতে পারছে না। সে সময় তুমি যদি সবার হয়ে সে প্রশ্নটা জিজ্ঞেস করে ফেলো তাহলে কিন্তু উপকার হবে সবারই।

আর যদি সবার মনে একই প্রশ্ন না ঘুরপাক খায় তাতেও কোন সমস্যাই নেই। কারণ তুমি যদি একটা নতুন প্রশ্ন করো তাহলেই তো সবাই মিলে একটা নতুন বিষয় শিখতে পারল!

২) ৩ সেকেন্ড রুল:

সাধারণত কোনো প্রশ্ন মাথায় আসলে আমরা চিন্তা শুরু করি। চিন্তার এক পর্যায়ে মনে প্রশ্ন জাগে “কে কী বলবে?”, “কে কী ভাববে?”, “কে কে হাসবে?” ইত্যাদি নানান অবান্তর প্রশ্ন। পরবর্তীতে এই অবান্তর প্রশ্নগুলোর ভিড়ে আমাদের মনের মধ্যে থাকা আসল প্রশ্নটাই ঢাকা পড়ে যাবে। এই অপ্রয়োজনীয় চিন্তা আসলেই অযৌক্তিক এবং তোমার নিজের জন্যই ক্ষতিকর।

তাই প্রশ্ন মাথায় আসার ৩ সেকেন্ডের মধ্যেই প্রশ্নটি তোমাকে শিক্ষককে করে ফেলো। নিজেকে “প্রশ্ন করবো নাকি করবো না” এমন চিন্তা করার জন্য মোটেও সময় দিও না। মনে রাখবে, তুমি যত প্রশ্ন নিয়ে চিন্তা করতে থাকবে ততোই শিক্ষককে প্রশ্ন করার সম্ভাবনা কমতে থাকবে!

 
চল স্বপ্ন ছুঁই!
 

৩) চেষ্টা করো প্রথম সারিতে বসার:

একটা ক্লাসরুমে অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে যদি তুমি প্রথম সারিতে বসতে পারো তাহলে শিক্ষকের সাথে কথা বলার, শিক্ষকদের নজরে আসার এবং শিক্ষকদের সাথে Positive Interaction-এর সুযোগ এবং সম্ভাবনা উভয়ই বেড়ে যায় অনেক গুণে। তাই চেষ্টা করো সব সময় প্রথম সারিতে বসার।

পেছনে কে কী ভাবলো, কে হাসলো তা দেখার কোন প্রয়োজন নেই। তোমার প্রশ্ন কিংবা বুঝতে না পারা বিষয়কে সামনে থেকে লজ্জা না পেয়ে শিক্ষককে বলে ফেলো। বলা যায়, প্রশ্ন করার মাঝে লজ্জার কিছুই নেই, তবে মনের ভিতরে প্রশ্ন রেখে দিয়ে না জিজ্ঞেস করাটাই লজ্জার!

৪) প্রশ্নগুলো খাতায় লিখে রাখো:

সব ধরনের চেষ্টার পরও যদি তুমি প্রশ্ন করতে না পারো তাহলে হতাশ হবার কিছুই নেই। প্রশ্নটা খাতায় লিখে রাখো এবং পরবর্তীতে শিক্ষকের সাথে ব্যক্তিগত ভাবে দেখা করে অথবা পরে যে কোন দিন ক্লাসরুমেই প্রশ্নটি উপস্থাপন করো। দেখবে তোমার প্রশ্ন শুনে শিক্ষক কখনোই নেগেটিভ রিঅ্যাক্ট করবেন না, বরং তিনি খুশিই হবেন।

“কে কী ভাববে, কে হাসবে” এটা নিয়ে বেশি ভেবো না। তুমি যদি সঠিক সময়ে প্রশ্ন করতে পারো, দিন শেষে তুমিই হাসবে। শেষ করবো আমার খুব প্রিয় একটি উক্তি দিয়ে- A Student is known by the questions he asks, not by the answers he gives!

এই লেখাটির অডিওবুকটি পড়েছে মনিরা আক্তার লাবনী


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: wr[email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Author
Mustakim Ahmmad
এই লেখকের অন্যান্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?