শুধরে নিলে চারটি ভুল, জীবন হবে Beautiful!

পুরোটা পড়ার সময় নেই ? ব্লগটি একবার শুনে নাও !

ঈদের ছুটিতে বসে বসে আত্ম-উন্নয়ন বা Self-development এর কয়েকটা বই পড়ছিলাম। বইগুলো পড়ে মনে হলো, আমি আসলে প্রতিনিয়ত নিজের জীবনে বেশ কিছু ভুল করে যাচ্ছি। আমার কাছে হয়ত মনে হচ্ছে, “আরে, এটাই তো ঠিক!” কিন্তু বাস্তবে, এই কাজগুলো আসলে ভুল। অন্তত ৪ রকম ভুল আছে যেগুলো বলতে গেলে অজান্তেই করে ফেলি আমরা সবাই। এই ভুল হবার কারণগুলো জেনে নেয়া দরকার, তাই না?

১। ভাবিয়া বলিও কথা, বলিয়া ভাবিও না:

বেশ কিছুদিন আগে আমরা টেন মিনিট স্কুলের সবাই মিলে কুমিল্লায় বেড়াতে গিয়েছিলাম। গভীর রাত, আমি আর আমার বন্ধু শুভ একটা বিষয় নিয়ে বেশ জ্ঞানগর্ভ আলোচনা শুরু করেছি। খেয়াল করে দেখলাম, আমি আসলে আমার মতামতগুলোকেই বারবার ডিফেন্ড করে যাচ্ছি, আর শুভ তার চিন্তা চেতনার স্বপক্ষে কথা বলে যাচ্ছে।

মিনিট পেরিয়ে ঘণ্টার কাঁটায় আটকে যায়, আমাদের বিতর্ক আর থামে না। একটা পর্যায়ে এসে দেখা গেল, এই আলোচনায় আমাদের কেউই কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারছি না, পুরো বিতর্কের কোন ফলাফলই নেই! দৈনন্দিন জীবনের ৪টি ভুলের মধ্যে এটাকে বলা যায় প্রথম ভুল।

এখান থেকে একটা বিষয় খেয়াল করলাম যে, নিজের যুক্তিতে অনড় থেকে অন্যের কথাগুলো ঠিকমতো না শুনলে আসলেই কোন সিদ্ধান্তে আসা যায় না। কোন ফলাফল পেতে হলে অবশ্যই অন্যজনের কথা মন দিয়ে শুনে নিতে হয়। তাই কোন কথা বলার আগে অন্যরা কী বলছে সেটা শুনে তারপরই কথা বলা উচিত

২। লেখার আগে একবার ভাবো:

আমাদের লেখালেখির অনেকটাই এখন হয়ে গেছে মোবাইল বা কম্পিউটারের স্ক্রিনে। সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায় লেখালেখি করেই আমরা ব্যস্ত থাকি। এই সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখার আগে একটা জিনিস মাথায় রাখা খুব জরুরি। সেটা হলো, তুমি যাকে উদ্দেশ্য করে কিছু লিখছো বা বলছো, সেই মানুষটা তোমার লেখা পড়ে কী মনে করতে পারে, এই বিষয়টা খেয়াল করতে হবে।

 

অতি সম্প্রতি দেখলাম কোন এক বিউটি কনটেস্টের বিজয়ীকে নিয়ে মানুষের একের পর এক নেগেটিভ কমেন্ট আর পোস্ট। সেগুলোর বেশিরভাগই অশ্রাব্য, তাতে ওই বিজয়ীর কোন দোষকে নিয়ে সমালোচনার বদলে ঢালাওভাবে গালাগাল করা হয়েছে বলতে গেলে।

এই কাজটাই করা উচিত নয়। তুমিই বলো, এই অকারণ অপমান কি মানুষটির জীবনে কোন ভ্যালু এনে দিয়েছে? তার ভুলগুলো কি শোধরানোর কোন সুযোগ দেয়া হয়েছে?

একজন মানুষের সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজ সম্মান রয়েছে। তার কোন ভুল, তাকে নিয়ে কোন সমস্যা থাকলে সেটি তুমি অবশ্যই বলবে, কিন্তু সেটি হতে হবে সমালোচনার মধ্য দিয়ে।

Constructive criticism বা গঠনমূলক সমালোচনা করো, তাতে কারো কোন সমস্যা নেই। কিন্তু অকারণে মানুষকে ট্রল করা বা অপমান করা- এগুলোতে কিন্তু তোমার নিজেরই সম্মানহানি হয়, অন্যের নয়

৩। হারার আগেই হেরে যাবে না:

আমরা প্রায়ই কোন কাজ শুরু করার আগেই হা-হুতাশ শুরু করে দেই। টিমমেট নেই, যারা আছে তারা ভালো না, আইডিয়া ভালো না, টাকা নেই, সময় নেই- এরকম হাজারটা অজুহাতের ভিড়ে তোমার কাজের সফলতা কোথায় যে লুকিয়ে যায়! শেষমেষ আর তোমার কাজ করাই হয়ে ওঠে না। এমন অবস্থা হয়, তোমার কাজ শুরু করার আগে কাজে ব্যর্থতার ভীতিই তোমাকে আর এগোতে দেয় না।

সব কাজে একটু রিসোর্সফুল হতে পারলেই সাফল্য আসবে

এই ভয়টাই ঝেড়ে ফেলে দেয়া দরকার। আমার খুব প্রিয় একজন বক্তা, টনি রবিন্স একটা কথা বলেছিলেন। তাঁর কথা হলো, রিসোর্স না থাকাটা কোন সমস্যা নয়। আমরা যে রিসোর্সফুল নই, সেটাই একটা সমস্যা। আসলেই তাই, সব কাজে একটু রিসোর্সফুল হতে পারলেই সাফল্য আসবে!

৪। জীবনকে উপভোগ করো কাজের মধ্যে:

মৃত্যুশয্যায় যদি কাউকে প্রশ্ন করা হয়, তোমার জীবন নিয়ে কি তোমার কোন আক্ষেপ আছে? বেশিরভাগ উত্তরই হাঁ-বোধক আসে। সবাই বলে, তার জীবনে কোন একটা কাজ না করে যাওয়ার হতাশাটা তার মধ্যে এখনো আছে। এই আক্ষেপ বুকে নিয়েই তাকে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে।

ওই মৃত্যুপথযাত্রীদের আর করার কিছু নেই। কিন্তু তোমার করার আছে অনেক কিছু। এমনভাবে কাজ শুরু করো, যাতে তোমাকেও ওই মানুষগুলোর মত শেষ সময়ে এসে হা-হুতাশ করতে না হয়। জীবনে কোন আক্ষেপ রাখার চেষ্টা করবে না। কোন কাজ করার ইচ্ছা থাকলে শুরু করে দাও। বাধা-বিপত্তি আসতেই পারে, সেগুলো পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়াই তো বীরের লক্ষণ!

একটা বিষয় মাথায় রাখা উচিত আমাদের সবার। আমরা ভুল করি প্রতিনিয়ত, করতেই পারি। কিন্তু এই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে গেলে ওই ভুলটা আর কখনোই করি না আমরা। তাই এই শিক্ষা মাথায় রেখে এগিয়ে চলা উচিত কোনরকম আক্ষেপ আর আফসোস ছাড়াই। কারণটা আমরা সবাই জানি-

Life is too short to live with regrets!
এই লেখাটি লিখতে সহায়তা করেছে অভিক রেহমান

এই লেখাটি নেয়া হয়েছে লেখকের ‘নেভার স্টপ লার্নিং‘ বইটি থেকে। পুরো বইটি কিনতে চাইলে ঘুরে এসো এই লিংক থেকে!


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

বিশেষ ছাড়ে বইটি কিনতে এখানে ক্লিক কর!
What are you thinking?

GET IN TOUCH

10 Minute School is the largest online educational platform in Bangladesh. Through our website, app and social media, more than 1.5 million students are accessing quality education each day to accelerate their learning.