যে এগারোটি কাজ করলে পরে, ভালো রেজাল্ট আসবে ঘরে!

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবারে শুনে নাও!

এরকম তো কতই হয়, সারাদিন ধরে পড়ে যাচ্ছি, কিন্তু পরীক্ষায় গিয়ে দেখা যায় রেজাল্টটা আশানুরূপ আসছে না। ঠিক কী করলে পড়া ইফেক্টিভ হবে? কিভাবে পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবে? ‘Study Hard’ মেনেও যখন ভালো ফল আসে না তখন ফলো করতে হয় ‘Study Smart’। আজ আমি ব্যাখ্যা করব এগারোটি উপায়, যে উপায়গুলো ফলো করলে অবশ্যই পড়াটা আরও ইফেক্টিভ হবে!

গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশান ইত্যাদি স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য 10 Minute School Skill Development Lab নামে ১০ মিনিট স্কুলের রয়েছে একটি ফেইসবুক গ্রুপ।

১) পড়ার মাঝে একটু ঘুমিয়ে নাও

তুমি দু- তিন ঘণ্টা ধরে পড়ছো, মাথার নিউরনে এখন জ্যাম ধরে আছে। তোমার প্রথম কাজ জ্যাম ছাড়ানো। কী করে? খানিকটা ঘুমিয়ে নিয়ে। ১৫ বা ৩০ মিনিটের ঘুমে তোমার মাথা একটা স্পেস পাবে। এতক্ষণ যা পড়েছো, মনের অজান্তেই তা আরেকবার নিউরনের কোণায় কোণায় ঘুরে আসবে। এতে পড়া মনে থাকে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত।

তাই পড়ার মাঝে একটু ঘুমিয়ে নাও। একটু ঘুমাও একটু পড়ো, এভাবেই পড়াটা ইফেক্টিভ হবে।

২) নিজের স্টাইল টি খুঁজে নাও

আমার এক বন্ধুকে দেখতাম হাঁটতে হাঁটতে পড়ত। আরেক বন্ধু খুব সকালে উঠে জানালার সামনে চা আর বই নিয়ে বসত। আমি সাধারণত খাবার নিয়ে পড়তে বসি। একেকজনের পড়ার স্টাইল একেকরকম। এবং মজার কথা হলো, নিজের এই স্টাইলে পড়ার সময় খুব আত্মবিশ্বাসী লাগে। মনে হয়, এভাবে পড়লেই পড়াটা ভালো মাথায় ঢুকবে।

তোমার নিজেরও একটা স্টাইল আছে আশা রাখি। আর না থাকলে খুঁজে নাও এবং সেভাবেই পড়ো। এতে তোমার পড়া আরও ভালো মাথায় ঢুকবে ও মনে থাকবে।

৩) রাতে লম্বা ঘুম

আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই রাতে ঠিকভাবে ঘুমায় না। কেউ হয়ত ভোররাত পর্যন্ত জেগে থাকে। কিন্তু সেটা একদমই উচিত না। রাতে আমাদের নিউরনের দরকার পর্যাপ্ত বিশ্রাম, মানে ঘুম। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যেসব ছাত্ররা রাতজেগে পড়ে তাদের থেকে, যারা রাতে ঘুমিয়ে দিনে পড়ে তাদের রেজাল্ট ৩৫% ভালো হয়!

তাহলে রাতে আর জেগে না থেকে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাসটি তৈরি করো।

৪) ফোকাস করো পড়ার সময়

তিন ঘণ্টা মনোযোগ না দিয়ে পড়ার থেকে ত্রিশ মিনিট সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পড়া ভালো। পড়ার সময় ফোকাস চলে যাওয়া বেশ স্বাভাবিক ব্যাপার। খটমটে গণিতের থেকে ইউটিউবে পছন্দের গায়কের গান শোনা বেশিই ভালো লাগে। সেক্ষেত্রে ডিসট্র্যাকশন থেকে দূরে থাকতে হবে। ধরো, পড়ার সময় বারবার ফোনের দিকে নজর গেলে ফোনটা অফই করে দাও। বাসায় আওয়াজ বেশি হলে বই নিয়ে কোনো লাইব্রেরিতে চলে যাও।

কিন্তু যত যাই হোক, ফোকাস করো!

৫) পড়া হবে সহজ, পোমোডরো টেকনিকে

২৫ মিনিট পড়ে, ৫ মিনিটের বিশ্রাম। আবার ২৫ মিনিট পড়া, আবার ৫ মিনিটের বিশ্রাম। এরকম সাইকেলটা চলতে থাকলে কেমন হয়?

এই টেকনিকটার নাম পোমোডরো টেকনিক। এভাবে পড়লে একঘেয়েমি আসে না, আবার ৫ মিনিটের বিশ্রামের পরে শরীর আর মনও থাকে এনার্জেটিক।

তাহলে, আর কী! পোমোডরো ফলো করে, পড়াটা আরও জম্পেশ হবে!

 
Sunk Cost এর ব্যাপারে জেনে নাও এখান থেকে!

৬) আগে কঠিন টপিক!

পড়ার সময় আমরা কঠিন টপিকটি সবার শেষে রেখে দিই, এটা কিন্তু ভুল! আগে পড়তে হবে সবচে’ কঠিন টপিক বা বিষয়টি। তাহলে মনে একটা সাহস আসবে যে, আমি এত কঠিন টপিক শেষ করে ফেলেছি! এরপর বাকি পড়াটুকু হয়ে যাবে আত্মবিশ্বাস এর সাথে।

৭) ব্যায়াম, মেডিটেশন আর আলোচনা করা

নিয়মিত ব্যায়াম শুধু শরীর না, মনকেও ফিট রাখে। আর মেডিটেশন বাড়ায় আমাদের ধৈর্য্য। নিউরনের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এ কাজ দু’টির মাধ্যমে। আর যখন আমরা কারও সাথে স্পেসিফিক কিছু নিয়ে আলোচনা করি, তখন হয় ব্রেইনস্টর্মিং।

এ তিনটি ব্যাপারই গুরুত্বপূর্ণ মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য।

৮) জায়গা বদল করে পড়

আমরা সবসময় ঘরের এককোণায়, একই টেবিলে কেন পড়ব? এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা জায়গা বদল করে পড়ে, তারা যারা একই জায়গায় যারা পড়ে তাদের থেকে পরীক্ষায় বেশ ভালো রেজাল্ট করছে! তাহলে আর দেরি কেন?

এখন থেকেই শুরু করো জায়গা বদল করে পড়া।

৯) মজাটাকে সিরিয়াসলি নাও

‘পড়ার সময় পড়া, খেলার সময় খেলা’ কথাটি এখন ব্যাকডেটেড হয়ে গেছে।  এখন আমরা খেলতে খেলতে পড়ব। হয়ত প্রিয় গান শুনতে শুনতে ম্যাথ করতে বোরিং লাগবে না। অথবা মজার চকলেটটা খেতে খেতে ফিজিক্সের কঠিন চ্যাপ্টারটা ঘুরে আসা যেতেই পারে।

১০) নিজের পরীক্ষা নিজেই নাও

পড়ার সাথে সাথেই হয়ে যাক ইন্সট্যান্ট সেলফ টেস্ট। পড়ার পরে নিজের পরীক্ষা নিজেই নিলে ভুলগুলো চোখে পড়ে, এতে করে শোধরানোর উপায়টাও পাওয়া যায়। ইন্সট্যান্ট সেলফ টেস্ট আমাদের পরীক্ষাভীতিও কমায়।

১১) ডোন্ট ফোর্স ইট

এতকিছু করার পরেও পড়তে না ইচ্ছা করতে পারে। তাহলে জোর করে পড়ার দরকার নেই। ক্ষুধা না থাকলে জোর করে খাওয়ালে বমি হবার সম্ভাবনা বেশি। জোর করে পড়লে সেরকম ভুলে যাবার সম্ভাবনা বেশি। তারচেয়ে একটা বিরতি নাও। মনটাকে রিফ্রেশ করে আবার পড়তে বসো। সবটুকু ফোকাস দিয়ে।

পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল পেতে চাইলে আগের রাতে বই নিয়ে বসলেই হয় না। নিতে হয় শক্তপোক্ত প্রস্তুতি আর স্মার্ট পদক্ষেপ। নিয়ম করে এই এগারোটি কাজ করে দেখো না, আশানুরূপ ফল পাও কিনা?

এই লেখাটির অডিওবুকটি পড়েছে মনিরা আক্তার লাবনী


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Author
Meher Afroze Shawly
এই লেখকের অন্যান্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?