অলসতা কাটাতে চাও? ১০টি উপায় জেনে নাও

November 12, 2017 ...

একটা কথা আমরা প্রায়ই শুনি, “Now or Never”, অর্থাৎ এখন না, তো কখনই না। কোন কাজই আগামী দিনের জন্য ফেলে রাখা উচিত নয়। কাজ ফেলে রাখলে তা জমতে জমতে এমন অবস্থায় উপনীত হয় যে সেই কাজ সহজে আর শেষ করা সম্ভব হয় না। তাই অবসর সময়কে অলসতায় ডুবিয়ে না দিয়ে হাতের কাজগুলো শেষ করে নেয়া ভালো।

সময়কে কাজে লাগিয়ে সব সময় অ্যাকটিভ থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ। কিন্তু অলসতা আমাদের অ্যাকটিভ থাকতে দেয় না! সর্বদা সকল কাজের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এটাই মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। তবে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। কিছু কৌশল অবলম্বন করে আমরা সহজেই অলসতা কাটিয়ে উঠতে পারি। তেমনই কিছু কৌশল নিয়ে আজকের এই লেখা:

১. নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হও:

যখন অলসতা ভর করে ঠিক তখনই কোন না কোন কাজ করার জন্য নিজেই নিজেকে অনুপ্রাণিত করো। নিজের অসমাপ্ত বা অপূর্ণ কাজগুলোর কথা মনে করো। এটা তোমাকে অলস সময় না কাটিয়ে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করবে।

২. ছোট ছোট পদক্ষেপ দিয়েই হোক সূচনা:

বড় কোন কিছুর সূচনা ছোট থেকেই হয়। তাই ছোট ছোট কাজ করে অলসতাকে হার মানাতে পারো। হেনরিক এডবার্গ খুবই জনপ্রিয় একজন লেখক। তিনি কিশোর বয়সে খুবই অলস ছিলেন। অলসতা কাটানোর জন্য তিনি মাসের প্রতিদিন এক পাতা করে লিখতেন। পরবর্তী মাসে সেই লেখা সম্পাদনা করতেন। এভাবেই তাঁর বেশ কিছু জনপ্রিয় সাহিত্যের জন্ম হয়।

quotes about proactiveness

 

৩. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি বাছাই করো:

আজ সারাদিনে বা এই সপ্তাহে কোন কোন কাজটি করা জরুরি তার একটি তালিকা করে ফেলো। সেই লিস্ট অনুযায়ী কাজগুলো কিছুটা এগিয়ে রাখো। জীবন অনেক সহজ হয়ে যাবে।

৪. লক্ষ্য নির্ধারণ করো:

নিজের জন্য ছোট ছোট লক্ষ্য ঠিক করে নাও। যেমন ধরো, নির্ধারণ করে নিলে, কোন একটি কাজ ৪০ মিনিটের মধ্যে শেষ করবে। কাজটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত হাল ছাড়বে না। কাজ শেষ করেই বিরতি নাও, এর আগে নয়। তা না হলে অলসতা আবার ঘাড়ে চেপে বসবে।

৫. যে বিষয়গুলো অলসতা তৈরী করে সেগুলো থেকে দূরে থাকো:

হাল আমলে অলস সময়গুলোর সঙ্গী হয়ে থাকে সোশ্যাল মিডিয়া, স্মার্ট ফোন, ল্যাপটপ বা টেলিভিশন। এসব থেকে কিছু সময়ের জন্য হলেও দূরে থাকো। কাজে মন বসবে এবং অলসতাও হার মানবে।

আবিষ্কার করো পাওয়ারপয়েন্ট এর খুঁটিনাটি!

পাওয়ার পয়েন্টকে এখন আমাদের জীবনের অনেকটা অবিচ্ছেদ্য একটা অংশ বলা যায়। ক্লাসের প্রেজেন্টেশান বানানো কী বন্ধুর জন্মদিনের ব্যানার, সবক্ষেত্রেই এর ব্যাপক ব্যবহার।

৬. নিজেকে প্রশ্ন করো:

যখন কোন কাজ করতে ইচ্ছা করে না, কিন্তু অনেক কাজ পড়ে থাকে তখন কিছুটা সময় নাও। হালকা দম নিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করো,

    • তুমি যে কাজটি করছো তা কি ঠিক হচ্ছে?

 

  • যদি এভাবে চলতে থাকে ভবিষ্যতে নিজেকে কোথায় দেখবে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর তোমার কাজে উৎসাহ দিবে, অলসতা দূর করবে।

মনে রাখবে, হেরে যাওয়া মানেই থেমে যাওয়া নয়

৭. কাজগুলোকে করে তোল আনন্দময়:

একটানা অনেকক্ষণ কাজ করলে কাজের মাঝে একঘেয়েমি চলে আসে। কাজ করতে ইচ্ছা করে না। কাজের মধ্যে নতুনত্ব নিয়ে এসো। কাজ করার স্থান থেকে শুরু করে যেকোন কিছুতেই আনতে পারো পরিবর্তন। এতে যেমন স্বাভাবিক কাজ-কর্ম আনন্দদায়ক হয়ে উঠবে, তেমনি কাজের মাধ্যমে তোমার ব্যক্তিত্বও প্রকাশ পাবে।

how to stop being lazy

৮. জীবন থেকে শিক্ষা নাও:

আলসেমি করে সময় কাটিয়ে দিয়ে পরে আফসোস করতে হয়। আমাদের সবার জীবনেই এটি কম বেশি অনেকবার হয়েছে। কিন্তু একই ভুল তো আর বারবার করা যাবে না! ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে কাজ করতে থাকো। মনে রাখবে, হেরে যাওয়া মানেই থেমে যাওয়া নয়।

কোনো সমস্যায় আটকে আছো? প্রশ্ন করার মত কাউকে খুঁজে পাচ্ছ না? যেকোনো প্রশ্নের উত্তর পেতে চলে যাও ১০ মিনিট স্কুল লাইভ গ্রুপটিতে!

৯. আগ্রহ নিয়ে কাজ করতে শেখো:

ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন কাজ করলে সে কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যায়। তাই যেকোন কাজই আগ্রহ নিয়ে করলে অলসতার কোন সুযোগ থাকে না।

১০. অলসতাকে না বলো:

অলসতা শুধু যে কাজেই বাধা দেয় তা কিন্তু নয়; অলসতা থেকে মন খারাপ, বিষন্নতা ও নানা ধরনের মানসিক অস্থিরতার শুরু হতে পারে। তাই অলসতাকে না বলো। পরিশ্রমী ও কর্মোদ্যমী হয়ে ওঠো।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

আপনার কমেন্ট লিখুন