৫ ধাপে বাড়িয়ে নাও ওয়াইফাই-এর স্পিড

Sadikullah Mahmud has a highly optimistic soul from his birth as his blood group is 'Be Positive'. This little kiddo is cursed by many people as he never returns the books that he borrows.

 

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবারে শুনে নাও!

 

“ওয়াইফাই-এর পাসওয়ার্ডটা?”

বাইরে থেকে বাসায় মেহমান আসলে আজকাল সবার প্রথমে আমাদের দিকে যে প্রশ্নটা ছুঁড়ে দেয়া হয় সেটিই হলো এটি। তাঁদেরকে চানাচুর, বিস্কুট কিংবা আপ্যায়নের জন্য অল্পস্বল্প কিছু যদি নাও দাও তবুও মেহমান কিন্তু মন খারাপ করবেন না। কিন্তু একবার যদি বলো, “চাচ্চু, আমাদের বাসায় তো ওয়াইফাই নেই!” ব্যস, ভদ্রলোকের বেজার মুখ দেখে কে?

রেস্টুরেন্ট কিংবা খাবার দোকানে ওয়াইফাই না থাকলে আমরা ক্ষেপে যাই, রেটিং-এ পারলে পাঁচ এ শূন্য বসিয়ে দিই। বিদ্যুৎ গেলে আমাদের গরম বোধ হয় না, ওয়াইফাইয়ের অভাব বোধ হয়। এমনকি যাত্রাপথে সুবিধা করে দেয়ার জন্য আজকাল দেখি বেশ কিছু বাসেও ওয়াইফাই সাইন লাগানো থাকে! মোট কথা, বর্তমানে আমাদের জীবনের মৌলিক চাহিদাগুলোরই একটা অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ওয়াইফাই!

আমাদের জীবনে বেশ বড় রকমের প্রভাব ফেলা ওয়াইফাই নিয়ে কিন্তু প্রায়ই একটি অভিযোগ আমরা শুনি। সেটি হলো, “আমার ওয়াইফাইয়ের স্পিড এত কম কেন?” সার্ভিস প্রোভাইডাররা রীতিমতো নাকানিচুবানি খেতে থাকেন এই ধরণের কথাগুলোতে- “দেয়ার সময় বলে দিলেন স্পিড পাবো ফোর এমবিপিএস। এখন দেখি আমার বন্ধুর টু এমবিপিএস-এ এর চাইতে ফাস্ট ডাউনলোড হয়। বিষয়টা কী ভাই? নেটের লাইন দেয়ার নামে জোচ্চুরি করেন?”

আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারিনা ওই সার্ভিস প্রোভাইডার আসলেই জোচ্চুরি করেন নাকি করেন না। কিন্তু এটা সত্যি যে ওয়াইফাইয়ের স্পিড নিয়ে অভিযোগ আজকাল প্রায় সবারই। অবাক করার বিষয়টি হলো, প্রায় সময়েই কিন্তু নিজেদের দোষেই এই কম স্পিডের ব্যাপারটি ঘটে! তো চলো দেখে আসি কীভাবে আমরা এই অবস্থা থেকে বের হতে পারি!

১. সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার:

যতই দিন যাচ্ছে ততই পরিবর্তন হচ্ছে হার্ডওয়্যারের। কিন্তু রাউটার কেনার সময় আমরা প্রায়ই বেশ খানিকটা অজ্ঞতার পরিচয় দেই। মাঝে মাঝে রাউটারের জন্য বরাদ্দ অল্প অঙ্কের বাজেটটাও আমাদেরকে পুরনো প্রযুক্তির রাউটার কিনতে উদ্বুদ্ধ করে! কিন্তু এই রাউটারে যে স্পিড আমরা কম পাবো, সে তো ধ্রুব সত্য! তাই রাউটার কেনার আগে বাজার থেকে ভালোমতো যাচাই বাছাই করে তারপর একেবারে নতুন প্রযুক্তিরটাই কেনা উচিত!

২. রাউটারের জন্য সঠিক স্থান নির্বাচন:

পাশের বাসার ছেলেটা দেখে ফেলে পাসওয়ার্ড শুনতে চাইবে বলে তুমি কি রাউটারটা খাটের নিচে রাখো? কিংবা বাসার ঐ কোণার রুমটায়? এসব জায়গায় রাউটার রাখলে কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই নেটওয়ার্ক স্পিড কমে যাবে! আশেপাশে ফাঁকা, কোন দেয়াল নেই- এরকম জায়গাই রাউটার রাখার জন্য জুতসই। আর সবসময় চেষ্টা করবে বাসার মাঝের দিকের কোন রুমে রাউটারটি রাখার, যাতে করে বাসার যেকোন জায়গা থেকেই তুমি বেশ ভালো একটা সিগনাল কাভারেজ পাও!

ইংরেজি তে বৃদ্ধি করো দক্ষতা!

দেখে নাও ইংরেজির অতি পরিচিত ভুলগুলো নিয়ে বানানো ভিডিওর ২য় পর্ব।

৩. রাউটারের অ্যান্টেনা লম্বভাবে রাখা:

যাদের এক অ্যান্টেনার রাউটার, এই উপায়টি তাদের জন্য না। আমি যখন প্রথম রাউটার ব্যবহার করা শুরু করি তখন দুটো অ্যান্টেনাই একদম তালগাছের মতন আকাশের দিকে তাক করে রাখতাম। ভাবতাম এই অবস্থাতেই রাউটারের সিগনাল সবচাইতে ভাল রেঞ্জ দেবে। কিন্তু বিষয়টি আসলে বেশ খানিকটা অন্যরকম। পানিতে কখনো ঢিল ছুঁড়ে দেখেছো? কেমন সুন্দর করে মাকড়সার জালের মত সবদিকে আস্তে আস্তে ঢেউ ছড়িয়ে যায়, তাইনা?

রাউটারের সিগনালও কিন্তু বলা যায় এরকমই! অ্যান্টেনার চারিদিকেই এভাবে তরঙ্গগুলো ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এখন আমরা যদি রাউটারের অ্যান্টেনাগুলো একটির সাথে আরেকটি লম্ব অবস্থায় রাখি তাহলে দুটো অ্যান্টেনার তরঙ্গগুলো আরও বেশি জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে পারে! এজন্য সবসময়ই উচিত হবে অ্যান্টেনাগুলোকে একটির সাথে আরেকটি লম্ব অবস্থায় রাখা!

৪. সঠিক ওয়্যারলেস চ্যানেল নির্বাচন করা:

তোমার বাসার আশেপাশে আরো অনেকেরই তো ওয়াইফাই আছে, তাই না? তুমি কি জানো যে তাদের রাউটারগুলোর জন্যও তোমার স্পিড কমে যেতে পারে? রাউটার থেকে বের হওয়া ওয়াইফাই সিগনালগুলো কিন্তু নিজেদের মাঝে টক্কর খায়! ফলাফলে কমে আসে আমাদের ইন্টারনেটের স্পিড ।

খুব সহজে ওয়্যারলেস চ্যানেল পরিবর্তন করে কিন্তু আমরা এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে পারি! এজন্য অবশ্য একটি অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে। ব্যবহারবিধিসহ অ্যাপটি পেতে ঘুরে এসো এই লিংকটি থেকে:

https://sites.google.com/site/farproc/wifi-analyzer

৫. ডুয়াল ব্যান্ডের রাউটার ব্যবহার:

শুধু পাশের বাড়ির রাউটারটি যে তোমার শত্রু এমনটা কিন্তু নয়। তোমার ফোন, ব্লুটুথ হেডফোন এমনকি বাড়ির মাইক্রোওয়েভ ওভেনটিও তোমার রাউটারের কাজকর্মে ঝামেলা সৃষ্টি করতে পারে! এ অবস্থা থেকে বাঁচতে দরকার একটি ডুয়াল ব্যান্ডের রাউটার। মোটামুটি পুরনো রাউটারগুলো 2.4Ghz এর ব্যান্ডে চলে। কিন্তু একটি ডুয়াল ব্যান্ডের রাউটার 2.4Ghz ও 5Ghz ব্যান্ড সাপোর্ট করে।

এদিকে যেহেতু তোমার বাসার আরো হাজারো ডিভাইস যেমন, তোমার ফোন কিংবা ব্লুটুথ হেডফোনটা ব্যবহার করে 2.4Ghz ব্যান্ড, সেহেতু তোমার ডুয়াল ব্যান্ডের রাউটারটি থাকে একদম নিশ্চিন্ত আর তুমিও পাও তোমার সেই কাঙ্ক্ষিত স্পিড! আর যদি ডুয়াল ব্যান্ডের রাউটার কেনা নিতান্তই সম্ভব না হয় তাহলে ঐ অসুবিধে সৃষ্টি করা ডিভাইসগুলো থেকে যতটা পারো দূরে সরিয়ে রাখো তোমার রাউটারটি। দুধের স্বাদ ঘোলে মিটলেও মিটতে পারে!

এখন থেকে যদি তোমার মনে হয় যে তুমি ওয়াইফাইয়ের স্পিডটা একটু কম পাচ্ছো, তাহলে সাথে সাথে সার্ভিস প্রোভাইডারকে ফোন করার আগে একটু দেখে নাও উপরের পাঁচটি উপায় তুমি চেষ্টা করেছো কি না। হতে পারে, নিজের পায়ে কুড়াল মেরে তুমিই কমিয়ে দিচ্ছো তোমার ওয়াইফাইয়ের স্পিড!

এই লেখাটির অডিওবুকটি পড়েছে তাওহিদা আলী জ্যোতি।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?

GET IN TOUCH

10 Minute School is the largest online educational platform in Bangladesh. Through our website, app and social media, more than 1.5 million students are accessing quality education each day to accelerate their learning.