ভ্রমণপিপাসুদের জন্য স্বপ্নের ৩ দেশ

Junaid Aumi is a sports enthusiast, with a liking for all kinds of games. He loves to dance, read books, play football and basketball. He adores listening to music every once in a while. He's currently studying at the Institute of Business Administration (IBA), University of Dhaka.

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

ব্যস্ত শহরে, ঠাস বুনটের ভিড়ে, আজো কিছু মানুষ স্বপ্ন খুঁজে ফেরে”-এই গানটা আগে প্রায়ই টিভিতে দেখতামবন্ধননামে একটা নাটকের শুরুতে। ভ্রমণের নেশাটাও সেই থেকেই।

হঠাৎ আজ খুব মনে পড়ছে এই ব্লগটা লেখার সময়। আসলে ভ্রমণের মূলেই তো রয়েছে এই নিত্যদিনের ব্যস্ততা থেকে একটু বাইরে যাওয়া, এই ঠাস বুনটের ভিড় থেকে ছুটি নিয়ে একটু হাঁফ ছেড়ে বাঁচা বুকের সাথে সাথে চোখদুটো আর মনটা ভরেও যেন একটা বড় নিঃশ্বাস নেওয়া।

১৯৬টা দেশের পৌনে কোটি বর্গমাইলের ভেতর ঘোরার জায়গার অভাব নেই। তবে এরই মাঝ থেকে যেন আলাদা করে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে ঘোরার জন্য প্রিয় হয়ে ওঠে বিশেষ কিছু শহর, নির্দিষ্ট কিছু বন্দর। চলো শুনি এমনই কয়েকটি দেশের গল্প, যেগুলোতে গত বছর আন্তর্জাতিক পর্যটকদের সবচেয়ে বেশি পদচারণা ছিলো।

১। ফ্রান্স

‘ভালোবাসার শহর’ নামে পরিচিত প্যারিস যার রাজধানী, সেই ফ্রান্সে সবচেয়ে বেশি ট্যুরিস্টদের আনাগোনা হবে তাই-ই স্বাভাবিক। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না, অতি পরিচিত আইফেল টাওয়ার বা ল্যুভর মিউজিয়াম ছাড়াও আরো কত কী যে ফরাসিদের দেশের কোণে কোণে লুকিয়ে আছে।

ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটগুলোর ৩৭টাই ফ্রান্সে। এগুলো প্রতি বছর ৮ কোটিরও বেশি পর্যটকদের মূল আকর্ষণ হিসেবে কাজ করে। সমুদ্র থেকে শুরু করে পাহাড়, গ্রামীণ নিস্তব্ধতা থেকে শুরু করে শহুরে কোলাহল, সবই রয়েছে ফ্রান্সে।

travel hacks, travel tips, bhromon, life tips, journey, adventure

যাদের পানির নীলের নেশা, তাদের জন্য আছে মন্ট সেইন্ট মিশেল, ব্রিটানি, বিয়ারিটয ও কোট ডী আযুর। ট্রেকার-পাহাড়প্রমীদের জন্য আছে আল্পস পর্বতমালার মন্ট ব্লাঙ্ক। আবার ল্যান্ড এক্সপ্লোরারদের জন্য একদিকে রয়েছে রোকামাদৌর, কারকাসোন, আলসাচি ও প্রোভেন্সের গ্রাম, আর অন্যদিকে ভারসেইস, লইর ও নটরডেমের চার্চ-দুর্গ-রাজপ্রাসাদ।      

২। যুক্তরাষ্ট্র

যখন ১৪৯২ সালে ক্রিস্টোফার কলম্বাস আবিষ্কার করেন, তখন থেকে এখন পর্যন্ত ‘নতুন পৃথিবী’-র উপাধিটা একদম কোনো প্রতিযোগিতা ছাড়াই দখল করে আছে আমেরিকা। বার্ষিক সাড়ে সাত কোটিরও বেশি পর্যটকের কল্যাণে ২য় স্থানটা তাই যুক্তরাষ্ট্রের দখলে।

নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়্যার, সেন্ট্রাল পার্ক, নায়াগ্রা ফলস ও গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল টার্মিনাল দেখতে যেমন হাজারে হাজারে মানুষ আসে, তেমনি আসে লাস ভেগাস, আলাস্কা, গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ও হাওয়াই সমুদ্রসৈকত দেখতে।

বিদেশের সবচেয়ে বেশি পর্যটক আসে মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাজ্য থেকে। আর এছাড়াও ৫০টি স্টেটের এই দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটনও অনেক শক্তিশালী। কতখানি শক্তিশালী তার একটা ধারণা পাওয়া যায় একটা পরিসংখ্যান থেকে, যেখানে দেখা যায় যে এই ৫০টা প্রদেশের ২৯টাতেই বেকারত্ব ঘোচাতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখা বৃত্তিগুলোর ভেতর পর্যটনশিল্প অন্যতম।

৩। স্পেন

গত কয়েক বছর ধরে প্রচুর উন্নতি সাধন করে পর্যটনে যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া শুরু করেছে হিস্পানিকদের এই দেশ। ‘জিন্দেগী না মিলেগি দোবারা’ ছবিতে যতটুকু দেখানো হয়েছে ৩ বন্ধুর ট্রিপের মধ্য দিয়ে, তার চেয়েও আরো অনেক অনেক বেশি টুরিস্ট স্পটের অধিকারী দক্ষিণ ইউরোপের বৃহত্তম এই দেশটি।

বেশিরভাগ বিদেশী পর্যটকই আসে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি ও বিভিন্ন ইউরোপিয়ান দেশ থেকে। দেশটির বার্ষিক জিডিপির শতকরা ১১ ভাগই আসে পর্যটন থেকে। মাদ্রিদ-বার্সেলোনার ফুটবলশৈলী ছাড়াও সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বও কিন্তু অনেক।

১৩টি শহর ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের সদস্য। কার্নিভ্যাল, রানিং অভ দ্য বুলস-এর মতো উৎসব, ভুমধ্যসাগর ও আটলান্টিকের পাশের আলিশান রিসোর্ট, ১৫টা ন্যাশনাল পার্ক- বলে শেষ করা যাবে না স্পেনের সৌন্দর্যের প্রাচুর্যের কথা। উইন্টার ট্যুরিজম ও রোমাঞ্চকর নাইটলাইফের জন্যও স্পেনের সুনাম বিশ্বব্যাপী।

বাংলাদেশ?

এ তো গেলো অন্যদের দেশের কথা। কিন্তু বাংলাদেশের কী খবর পর্যটনের মাঠে? একটু ভেবে দেখলে দেখা যাবে নদীমাতৃক এই সোনার দেশের অভাব কোনো কিছুরই নেই পরিবেশে, সেটা পাহাড়-পর্বতই হোক, বন-জঙ্গলই হোক আর নদী-সমুদ্রই হোক।

কিন্তু অভাব অন্য জায়গায়। অভাব এগুলোর সংরক্ষণে। আর এ কারণেই তাজিনডং, সুন্দরবন, জাফলং, নীলগিরি, সাজেক, কক্সেসবাজার, সেন্ট মার্টিন –  এতো কিছু নিয়েও আমরা পর্যটনে ১২৭তম।

প্রতিকারের পথ আমাদের একটু যত্ন, একটু দায়িত্ববোধ ছাড়া আর কিছুই না

আমরা যারা মিলেনিয়াল (১৯৮০ থেকে ২০০০-এর ভেতর জন্ম), তাদের ভেতর ভ্রমণের নেশাটা আগের থেকে অনেক বেশি। মিলেনিয়ালদের শতকরা ৭২ ভাগ ছেলেমেয়ে অভিজ্ঞতাকে বাহ্যিক ধন-সম্পদের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়।

কিন্তু আমাদের মনে থাকেনা ভ্রমণের সাথে সাথে আসে নৈতিক কিছু দায়িত্ব, সামাজিক কিছু কর্তব্য। আর এ কারণেই বহু ঐতিহাসিক জায়গা আজ ধ্বংসের মুখে। এর প্রতিকারের পথ আমাদের একটু যত্ন, একটু দায়িত্ববোধ ছাড়া আর কিছুই না।

রবির সেই বিজ্ঞাপনের মতোই তাই বলতে ইচ্ছে করে,

“ছোট্ট একটা কাজ, যদি করে দেখাও আজ, পাশে আসবে সবাই, তুমি তোলো আওয়াজ”।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?

GET IN TOUCH

10 Minute School is the largest online educational platform in Bangladesh. Through our website, app and social media, more than 1.5 million students are accessing quality education each day to accelerate their learning.