ভুল করাকে ভুল মনে করাই আসল ভুল!

April 16, 2018 ...
পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

bhul, mistake, vul, আত্মবিশ্বাস, জীবন, ভুল

জগতের সবচেয়ে বড় সত্যগুলোর মাঝে একটি হলো, কোন একটা কাজে প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল না পেলে নিজেকে ব্যর্থ মনে করা! কোন পদক্ষেপে ভুল হলে জীবনটাকে অর্থহীন মনে করা!

ভুলের হিসাব:

১। প্রচুর পড়াশোনা করেও যখন আমরা পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারিনা।

২। অনেক খাটাখাটনি করেও যখন বসের চোখে ভাল হতে পারিনা।

৩। চমৎকার একটি পোস্ট দেয়ার পরও যখন অমুকের ছবির চেয়ে আমাদের পোস্টে বেশি লাইক আসে না।

এরকম সব মুহূর্তে আমরা হাল ছেড়ে দিই। নিজেদেরকে বলি যে, আমাদেরকে দিয়ে সম্ভব না। পৃথিবীর অনেক বড় বড় সম্ভাবনার মৃত্যু কিন্তু এভাবেই হয়! আমাদের মাঝে ইচ্ছে থাকে কোন একটা কাজ করার, কিন্তু হয়তো প্রথম সুযোগে ব্যর্থ হয়েছি বলে আর কখনোই সেই কাজটি করা হয়ে ওঠে না। ব্যস, মৃত্যু হয় একটি সুন্দর স্বপ্নের!

যে জীবনে এরকম সুন্দর স্বপ্নগুলোর মৃত্যু ঘটে, সে জীবন কি আমরা চাই? চলো দেখে আসি কীভাবে আমরা একটি অন্যরকম জীবন গড়ে তুলতে পারি!

ব্যর্থতা ও ভুল:

ব্যর্থতার যে অর্থটি সবসময়েই আমাদের মাথায় ঘুরছে সেটি কিন্তু একদম ভুল একটি ধারণা! কোন কাজে একবার ব্যর্থ হওয়ার মানে হলো সেই কাজে সফল হওয়ার পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া।

আমরা সবসময়ই ধরে নিই যে, আমাদের প্রথম পছন্দ বা প্রথম চেষ্টাই আমাদের সবকিছু। অনেকেই কিন্তু জীবনে প্রথম যে ক্যারিয়ারটি বেছে নেন, সেটি দিয়েই জীবন শেষ করেন।

আমার বাবা মা দুজনেই শিক্ষক। আজীবন কিন্তু তারা শিক্ষকতাই করে গেলেন। মাঝেমাঝে নানা রকমের সমস্যা হলেও কখনোই কিন্তু তাঁরা ক্যারিয়ার বদলানোর নাম নেন নি! কিন্তু একটু ভালভাবে খেয়াল করলেই  আমরা বুঝে যাই যে, প্রথম পছন্দ যে সবসময়েই সবচাইতে ভাল পছন্দটি হবে, এমন কিন্তু নয়।

ভুল থেকে শেখা:

ভুল করা আসলে শিক্ষারই একটা অংশ। পরীক্ষার আগে যখন বাড়িতে বই খুলে পড়তে বসো, তখন কি কোনদিন তোমার মা এসে তোমাকে পড়তে বসার জন্য বকা দিয়েছেন? পরীক্ষায় ভাল করতে হলে অবশ্যই পড়তে বসতে হবে। ঠিক তেমনিভাবেই কোন একটা কাজ সফলভাবে শেষ করতে হলে যে ব্যর্থতার প্রয়োজন আছে, সে কথাকে গুরুত্ব আমরা কয়জন দিলাম?

ছোটবেলা থেকেই আমার ডায়েরি লেখার অভ্যেস ছিল। তো আজকাল যখন আমি ক্লাস সিক্স বা সেভেনের ডায়েরি খুলে একটু পড়ে দেখি, লজ্জায় চোখমুখ লাল হয়ে যায়। ভাবতেও অবাক লাগে, ছোট থাকতে কী বোকাই না ছিলাম!

তখন যেসব বিষয়কে গুরুত্ব দিতাম সেটা ভেবে দেখলে এখন হাসি পায়! মোটকথা, ছোটবেলার ডায়েরিগুলো দেখলে নিজেকে বেশ খানিকটা স্টুপিড মনে হয় আমার! খুব বেশি কষ্ট করার দরকার নেই। ফেসবুকে লগইন করে তোমার পোস্ট করা বছর দুয়েক আগের স্ট্যাটাসগুলো দেখো, নিজেকে অনেক বোকা মনে হবে তোমার!

নিজেকে বোকা মনে করার এই বিষয়টি কিন্তু খুবই স্বাভাবিক একটি ঘটনা। কখনোই এরকম ভেবোনা যে, বর্তমানে তুমি অনেক স্মার্ট হয়ে গিয়েছো! আজ থেকে দুই বছর পরে তুমি আবারো তোমার স্ট্যাটাসগুলো চেক করলে দেখবে, ঠিকই এই ২০১৮ সালের ‘তুমি’-কে খুব বোকা মনে হচ্ছে।

এটা আসলে আমাদের বেড়ে ওঠারই একটি প্রক্রিয়া, যেটাকে বাঁধা দেয়ার কোন উপায়ই কারো কাছে নেই।

ঠিক এভাবে, আজ যে ভুলটি করে আমরা ভেঙে পড়ছি, হয়তো কয়েক বছর পরে সেটিকেই অনেক হাস্যকর মনে হবে। এই সামান্য ভুলের জন্য আমরা কোন উদ্যোগের পুরোটাই এককালে বাতিল করে দিয়েছিলাম বলে নিজেদের উপর আফসোস হবে।

প্রথমেই যদি ভয় পেয়ে যেতেন, তাহলে কি সম্রাট শাহজাহান তাজমহলের কাজ শেষ করতে পারতেন?

এইতো এই মুহূর্তেই নিজের কাছে ছোটবেলায় করে আসা অনেক ভুলকে হাস্যকর মনে হচ্ছে!

বাধা-বিপত্তিকে হার মানাও:

ভুলকে সহজভাবে মেনে নিতে শেখা মানে কিন্তু নিজেকে ভুলের সাগরে ভাসিয়ে দেয়া নয়! আমরা ভুল করব ঠিকই, একইসাথে সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়েও যেতে হবে আমাদেরকে।

কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার পর যদি সেটি ভুল প্রমাণিত হয় তবে দ্রুত নতুন সিদ্ধান্তে নিজেকে সরিয়ে নিতে কখনোই খুব বেশি দেরি করা যাবেনা। কোন কাজে তোমার ভুল দেখে শিক্ষা নিয়ে যদি তোমার আগেই কেউ ঐ কাজটি করে ফেলে, তবে তোমার মত অভাগা কিন্তু আর কেউ রইলো না এই দুনিয়ায়!

প্রায় সময়েই আমাদের লক্ষ্যের পথে এত বড় বড় বাঁধা আসে যে আমরা সহজেই হাল ছেড়ে দিই। কিন্তু আমাদেরকে ঐ বড় বাঁধাকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে ফেলা শিখতে হবে। তাজমহল তৈরি করতে কিন্তু বিশ হাজার শ্রমিকের প্রায় বিশ বছর সময় লেগেছিল!

প্রথমেই যদি ভয় পেয়ে যেতেন, তাহলে কি সম্রাট শাহজাহান তাজমহলের কাজ শেষ করতে পারতেন?

নিজের উপর বিশ্বাস রাখো:

নিজেকে বিশ্বাস করা বেশ চমৎকার একটি বিষয়। কিন্তু সবসময়েই এই কাজটি করা অজ্ঞতার পরিচয় দেয়! চোখ বন্ধ করে ভারী একটা শ্বাস নিয়ে মনে মনে “আমি পারবো” বলে কাউকে কি কোনদিন রাস্তা পার হতে দেখেছো?

রাস্তা পার হতে গেলে যেমন আমাদের জানা লাগে যে কোনদিক থেকে কখন গাড়ি আসছে, ঠিক তেমনি কোন একটা কাজ করার ক্ষেত্রেও সে কাজটি নিয়ে আগে থেকে কিছু জানাশোনা থাকা দরকার। যেখানে অজ্ঞতা আছে, সেখানে আত্মবিশ্বাস পুরোপুরিই মূল্যহীন!

ভুলকে সহজভাবে মেনে নিতে শিখে যদি আমরা আবারো কাজটিতে ঝাঁপিয়ে পড়ি তাহলে সহজেই একদিন সাফল্য এসে আমাদের কাছে ধরা দেবে।

আজ থেকেই তাহলে শুরু করে দাও তোমার নতুন জীবন। যে জীবনে তুমি ভুল করেছো বলে থেমে যাওনি। যে জীবনে তোমার ভুলের জন্য অন্যের বলা বাজে কথায় তুমি প্রভাবিত হওনি। যে জীবনে প্রথমবার ভুল করার পরই তুমি নিজেকে ব্যর্থ ভাবোনি!

তোমার এই নতুন জীবনে সঙ্গী করে নিয়েছো তো অন্যদেরকেও?


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

আপনার কমেন্ট লিখুন