বাংলা সিনেমা ও ইতিহাস: সেকাল থেকে একাল! (পর্ব ১)

May 3, 2019 ...

মানিকগঞ্জ জেলার ছোট্ট একটি গ্রাম। গ্রামের নাম বগজুরি।

গ্রাম বলতে আমরা যা বুঝি, ঠিক তেমনই গ্রামটা। নামটা শুনতে খানিক বিদঘুটে লাগলেও, আলাদা কোনো বৈশিষ্ট্য নেই এই গ্রামের। সেই তো দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠ, ঠা ঠা রোদ্দুরে পুড়ে কৃষকের হালচাষ, দিনভর পরিশ্রমের পর ক্লান্ত দেহে ঘরে ফেরা। ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের হুটোপুটি, গাঁয়ের পাশে বয়ে চলা ছোট্ট নদীতে লাফঝাঁপ আর ডুবসাঁতার। সপ্তাহে একদিন কিংবা দু’দিন বসা হাট, বছরে কয়েকটি মেলা-পার্বণ। ছিমছাম সাজানো গোছানো ছবির মতো একটা গ্রাম, তার চেয়েও সাজানো গোছানো ছবির মতো জীবন মানুষের।

সেই গ্রামেই জন্ম নিয়েছিলেন এক স্বপ্নদ্রষ্টা। নামটায় বেশ একটা আভিজাত্য আছে। হীরালাল, হীরালাল সেন। প্রথম বাংলা চলচ্চিত্রকার হীরালাল সেন।

হীরালাল সেনের গল্প এখন নাহয় থাক, সময়মতো তাকে নিয়ে আসা যাবে। আমরা বরং বাংলা সিনেমা নিয়ে একটু কথা বলি।

বাংলা চলচ্চিত্র, কিংবা সহজ করে বললে, বাংলা সিনেমা। এটুকু শোনা মাত্রই নিশ্চয়ই তোমাদের কেউ কেউ ভ্রূ কুঁচকে ফেলেছো, কেউ কেউ নাক সিটকাতে শুরু করেছো, কেউ কেউ আবার চোখে প্রবল বিরক্তি নিয়ে ভাবছো, কী হচ্ছেটা কী! বাংলা সিনেমা, সে আবার কোনো কিছু হলো নাকি!

তোমাদের ভাবনাটা শতভাগ অবান্তর না হলেও, এর বেশিরভাগটাই যে ভ্রান্ত, সে কথা জানার জন্য বাংলা সিনেমা সম্পর্কে খানিক জানতেই হবে। বাংলা সিনেমার ইতিহাস; এর উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ; শুরু থেকে নিয়ে বর্তমান পর্যন্ত এর যে ধারাবাহিকতা তা সম্পর্কে যতই জানবে, ততোই প্রবল বিস্ময় নিয়ে ভাববে, আরে! বাংলা সিনেমা সত্যিই এত সমৃদ্ধ!

পুরো পৃথিবীতেই, সিনেমা বলতে প্রথম দিকে বোঝানো হতো বায়োস্কোপকে। উনিশ শতকের একদম শেষভাগে, বাংলায় প্রথম বায়োস্কোপের দেখা মেলে। ১৮৯৮ সালে, প্যারিসের পাথে ফ্রেরেস স্টুডিওর সদস্য অধ্যাপক স্টিভেনসনের একটি নাতিদীর্ঘ ছবি কলকাতার স্টার থিয়েটার এ দেখানো হয়। স্টিভেনসনের ক্যামেরা ধার করে নিয়ে হীরালাল বানান তার প্রথম ছবি, A Dancing Scene From the Opera, The Flower of Persia ভাই মতিলাল সেনের সাহায্যে লন্ডনের ওয়ারউইক ট্রেডিং কোম্পানির চার্লস আরবানের থেকে তিনি একটি ‘Urban Bioscope’ কিনে নেন। পরের বছর তিনি ভাইয়ের সাথে রয়্যাল বায়োস্কোপ কোম্পানীর গোড়াপত্তন করেন। এভাবেই বাংলা চলচ্চিত্রের পথচলা শুরু হয়, মোটামুটি অনাড়ম্বর ভাবেই।

ELNfh5W5mrp AW1WqdzawJmg0wuZ2zbzz4PGnCutznrPgRLxLmxcK6 WoIt

হীরালাল সেন

এরপর বাংলা সিনেমা এগিয়ে গেছে তার আপন গতিতে। এরই মাঝে ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর বাংলা সিনেমা বিভক্ত হয়ে গেছে দুটি ভৌগোলিক অংশে, পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্ববঙ্গের মধ্যে। দুই বাংলার সিনেমার মধ্যে যোজন যোজন দূরত্ব না থাকলেও, মোটা দাগে কিছু পার্থক্য তো থেকেই গেছে। ওপার বাংলার চলচ্চিত্রের কথা যদি ভুলে যাই, বাংলাদেশে বায়োস্কোপের যাত্রাও ছিল একই বছরে। ১৭ এপ্রিল বায়োস্কোপ প্রদর্শনী হয় ঢাকায় পাটুয়াটুলীর ক্রাউন থিয়েটারে।

ক্রাউন থিয়েটারের অস্তিত্ব এখন আর নেই। এই বায়োস্কোপের ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন চলচ্চিত্র ছিল। এই সব চলচ্চিত্রের মধ্যে ছিল মহারাণী ভিক্টোরিয়ার জুবিলি মিছিল, গ্রিস ও তুরস্কের যুদ্ধ, তিনশত ফুট উঁচু থেকে প্রিন্সেস ডায়ানার লাফ, রাশিয়ার জারের অভিষেক, পাগলা নাপিতের ক্ষৌরকর্ম, সিংহ ও মাহুতের খেলা, ইংল্যান্ডের তুষারপাতে ক্রীড়া, ফ্রান্সের রাস্তাঘাট ও পাতাল রেলপথ ইত্যাদি। তখনও বায়োস্কোপের মাধ্যমে এই চলচ্চিত্র দেখার জন্য সাধারণ দর্শকের টিকেটের ব্যবস্থা ছিল। টিকেটের দাম ছিল আট আনা থেকে তিন টাকা। কেউ যদি একটুখানি চিন্তা করে তাহলে নিশ্চয়ই রীতিমতো হতবুদ্ধি হয়ে যাবে এই ভেবে যে, এখনকার একটা চুইংগামের দামে তখন সিনেমার টিকিট পাওয়া যেত!

ঢাকার আরমানিটোলার পাটের গুদাম থেকে নিয়মিতভাবে বায়োস্কোপ প্রদর্শনীর গৌরবের অভিযাত্রা সূচিত হয় ১৯১৩ -১৪ সালে। পরে এখানেই নির্মিত হয় ঢাকায় বাংলাদেশের প্রথম সিনেমা হল পিকচার হাউজ, যা পরে শাবিস্তান হল নামে রূপান্তরিত হয়।

পূর্ণাঙ্গ বাংলা সিনেমা 

LrGLE9ly35 IQ0yxp5sP

প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাংলা চলচ্চিত্র বিল্বমঙ্গল

ভারতবর্ষে প্রথম চলচ্চিত্র শুরু করার কৃতিত্ব বাঙালিদের হলেও, প্রথম পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র নির্মিত হয় মুম্বাইতে, ১৯১৩ সালে। এরপর কলকাতায় ১৯১৬ সালের দিকে ম্যাডান থিয়েটারস কোম্পানি চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করে। এ প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে প্রথম বাংলা নির্বাক পূর্ণদৈর্ঘ্য চিত্র বিল্বমঙ্গল মুক্তি পায় ১৯১৯ সালের ৮ নভেম্বর। এ ছবির পরিচালক জ্যোতিষ ব্যানার্জি (মতান্তরে রোস্তমজী দুতিওয়ালা) হলেও নেপথ্য স্থপতি ছিলেন ঢাকার নওয়াব এস্টেটের ম্যানেজারের পুত্র পরবর্তীকালের বিখ্যাত প্রযোজক-পরিচালক প্রিয়নাথ গাঙ্গুলি। কাজেই, চলচ্চিত্রের নির্মাতা ওপার বাংলার হলেও, নেপথ্য ভূমিকা এপার বাংলার চলচ্চিত্রকারদেরই। করেন। ১৯২১ সালে কলকাতায় বিলাত ফেরৎ নামে একটি চলচ্চিত্র মুক্তি পায়। এর প্রযোজক ও অভিনেতা ছিলেন বাংলাদেশের বরিশাল জেলার ধীরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

এবার ঢাকার পালা 

কলকাতায় বসে বসে চলচ্চিত্রকাররা নির্মাণ করে চলেছেন দারুণ সব চলচ্চিত্র, আর ঢাকায় কিছুই হবে না, তা কী আর হয়! তাই বোধহয় ঝটপট কাজে লেগে পড়েছিলেন ঢাকাই চলচ্চিত্রকাররাও। ১৯২৭-২৮ সালের দিকে ঢাকার নবাব পরিবারের কয়েকজন তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নেন। তারা সুকুমারী নামে চার রিলের একটি নির্বাক ছবি বানান। ছবিটি পরিচালনা করেন বিশিষ্ট নাট্যকর্মী ও জগন্নাথ কলেজের শরীরচর্চার প্রশিক্ষক অম্বুজ প্রসন্ন গুপ্ত। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই সিনেমায় নারী চরিত্র থাকলেও কোনো নারী অভিনয় করেননি। পুরুষেরাই নারী চরিত্রে অভিনয় করেন। নায়ক চরিত্রে অভিনয় করেন খাজা নসরুল্লাহ ও নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করেন সৈয়দ আবদুস সোবহান।

ঢাকাই চলচ্চিত্রে নবাব পরিবারের অবদান এখানেই থেমে থাকেনি। নবাব পরিবারের উদ্যোগে ঢাকায় ইস্ট বেঙ্গল সিনেমাটোগ্রাফ কোম্পানি গঠিত হয়। এর প্রযোজনায় অম্বুজ প্রসন্ন গুপ্ত নির্মাণ করেন নির্বাক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দ্য লাস্ট কিস । খাজা আজমল, খাজা আদিল, খাজা আকমল, খাজা শাহেদ, খাজা নসরুল্লাহ, শৈলেন রায় বা টোনা বাবু ছিলেন এই চলচ্চিত্রের অভিনেতা। তবে এতে নারীচরিত্রে নারীরাই অংশ নেয়। নায়িকা চরিত্রে ছিলেন লোলিটা বা বুড়ি নামের এক বাইজী।

চারুবালা, দেববালা বা দেবী নামের আরও দুই বাইজী এতে অভিনয় করেন। এদের বাইরে হরিমতি নামে একজন অভিনেত্রীও এতে অভিনয় করেন। অভিনেত্রীদের দিকে তাকালে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপলব্ধি করা যায়। অভিনেত্রীরা মূলত ছিলেন বাইজী, প্রথমোক্ত তিনজনকেই আনা হয়েছিলো পতিতালয় থেকে। এরা নবাবদের মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে নৃত্য পরিবেশন করতো। অর্থাৎ, অভিজাত পরিবারের নারীরা ধর্মীয় বিধান মেনে অন্দরমহলেই অবস্থান করতো। চলচ্চিত্র জগতে তাই প্রথম দিকে কেবল বাইজী ধরনের নারীরাই ছিলেন।

4p7 hCtT92ffMZqJLQ2q1XYCrcAcCH3JusXyT RrzOePhValNpaVPzfxcW1rBl5OpkS hZVjGK81r9Dx TT tfC 3HEgQA 8sUKiwvZe6AQWb81LiIll7Nzs0SDzP5 y4MUpl2I0

দ্যা লাস্ট কিস সিনেমার একটি দৃশ্য

 ছবির বাংলা ও ইংরেজি সাব টাইটেল রচনা করেন পরিচালক নিজে এবং উর্দু সাব টাইটেল রচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আন্দালিব শাদানী। ১৯৩১ সালে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ঢাকার মুকুল হলে (বর্তমানে আজাদ হল)। এর প্রিমিয়ার শো উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার, যিনি পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ( ১৯৩৬ – ১৯৪২ ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

উঠিয়াছি চির বিস্ময় আমি বিশ্ব বিধাত্রীর

আমি তাই করি ভাই যখন চাহে এ মন যা,

করি শত্রুর সাথে গলাগলি ধরি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা!

আমি উদ্দাম, আমি ঝঞ্ঝা!

কাজী নজরুল ইসলাম। একটি নাম, একটি ইতিহাস! বাংলা কবিতার জগতে রবীন্দ্রনাথের পরেই শ্রেষ্ঠ বলে বিবেচনা করা হয় তাকে। প্রেমের কবি, দ্রোহের কবি, মুক্তির কবি, প্রাণের কবি, চৈতন্যের কবি, জাগরণের কবি কাজী নজরুল ইসলাম যে শুধু সাহিত্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, এ তো সহজেই অনুমেয়। সাংবাদিকতা, রাজনীতি আর সঙ্গীতের পাশাপাশি অভিনয় জগতেও সমান আগ্রহ ছিল কাজী নজরুল ইসলামের, আর সেই সূত্রেউ তিনি জড়িয়ে পড়েন চলচ্চিত্রের সঙ্গেও। আর বিদ্রোহী কবি যেখানে, সেখানে সবকিছুই যেন হয় উল্টোভাবে, একটুখানি ব্যতিক্রমী পন্থায়।

তাই অখন্ড বাংলার চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ব্যতিক্রর্মী সংযোজন আমাদের জাতীয় কবি  কাজী নজরুল ইসলাম। ১৯৩১ সালে তিনি চলচ্চিত্রে জড়িত হন কলকাতার বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ম্যাডান থিয়েটার্স এর ‘সুরভান্ডারি’ হিসেবে। সুরভাণ্ডারি হিসেবে নজরুলের দায়িত্ব ছিল সবাক চিত্রে অংশগ্রহণকারী নট-নটীদের কণ্ঠস্বর পরীক্ষা করা। উল্লেখ্য, সুরভাণ্ডারি পদটি সংগীত পরিচালকেরও ওপরে। পরে তিনি চিত্র পরিচালক, সঙ্গীত পরিচালক, সুরকার, গায়ক, গীতিকার, অভিনেতা, কাহিনীকার, সংগঠক হিসেবে অবদান রাখেন। অবশেষে আত্মপ্রকাশ করেন নির্মাতা হিসেবেও, ১৯৩৪ সালে তিনি সত্যেন্দ্রনাথ দে’র সঙ্গে যৌথভাবে ধ্রুব চিত্র নির্মাণ করেন। ১৯৪১ সালে তিনি শেরে বাংলার নামে বি.টি পিকচার্স গঠন করেন।

নজরুল মোট কটি চলচ্চিত্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তা এখনো পুরোপুরি বলা সম্ভব নয়। গত ৪০-৫০ বছর ধরে গবেষণা করেও অনেকে নজরুল সম্পর্কে খুব সামান্যই জানতে পেরেছেন। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যায়, নজরুল ২০-২১টি ছবির সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।

নজরুলের পর আরও কয়েকজন সাহসী মুসলমান ধর্মীয় ও সামাজিক কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি এড়িয়ে চলচ্চিত্রে জড়িত হন। অবশ্য অনেকেই ছদ্মনামেও চলচ্চিত্রশিল্পে কাজ করা শুরু করেন। এদের মধ্যে রয়েছেন  আববাসউদ্দীন আহমদ, হিমাদ্রী চৌধুরী (ওবায়েদ-উল হক), কিরণকুমার বা ফতেহ লোহানী, স্বপনকুমার বা কাজী খালেক, উদয়ন চৌধুরী বা ইসমাইল মোহাম্মদ, বনানী চৌধুরী বা বেগম আনোয়ারা,  আবদুল আহাদ, নাজীর আহমদ, ইনাম আহমদ, বেবী ইসলাম, কিউ.এম জামান প্রমুখ। এঁদের মধ্যে হিমাদ্রী চৌধুরী দুঃখে যাদের জীবন গড়া (১৯৪৬) প্রযোজনা ও পরিচালনা করেন। উদয়ন চৌধুরী মানুষের ভগবান (১৯৪৭) চিত্র নির্মাণ করে অভিযুক্ত হন ও জেলে যান। দেশভাগের পর কলকাতার চিত্রকর্মীরা ঢাকায় এসে ঢাকাই চলচ্চিত্রের ভিত্তি স্থাপনে সক্রিয় অবদান রাখেন।

দেশভাগের পর ঢাকাই তথা বাংলা সিনেমা ঘিরে শুরু হয় নতুন এক অধ্যায়। সেই অধ্যায় যেকোনো চলচ্চিত্রপ্রেমীকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে স্বপ্নলোকের সুখস্মৃতির মতো করেই!

রেফারেন্স:

https://bit.ly/2PCZgAs

https://bit.ly/2L7HO8k


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

আপনার কমেন্ট লিখুন