বিবিধ, লাইফ হ্যাকস

তোমার যে বাক্যগুলো ছুঁয়ে যাবে অন্যদের মন

গত কয়েকদিন আগের কথা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হচ্ছি, হঠাৎ দেখি বয়োজৈষ্ঠ একজন মানুষ, গালভরা দাড়ি, যিনি আমার পাশেই নামাজ পড়েছেন- এসে সুন্দর করে একটা সালাম দিলেন আমাকে। একটু চমকে গেলাম, ভাবলাম যে সাধারণত ছোটরা বড়দের সালাম দেয়, আর এই সিনিয়র মানুষটি আমাকে সালাম দিলেন! উনি তো কোন টিচারও হতে পারেন!

আমার অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকা দেখে মানুষটা মুচকি হাসলেন। বললেন, “অবাক হচ্ছো, বাবা? এ আর এমন কী, প্রায় সবাই অবাক হয়ে তাকায়!”

আমি আমতা আমতা করে বললাম, আসলে এমন তো কখনো হয় নি আমার সাথে, তাই একটু চমকে গেছি। ভদ্রলোক বললেন, যে এই সালাম দেয়ার কাজটা শুরুর পর অনেকেই অবাক হতো। উনি সিনিয়র মানুষ, তাই অবাক হওয়ার মাত্রাটা একটু বেশিই হতো। মজার ব্যাপার হলো, এই বিষয়টা বুঝতে পেরে তিনি বেশি করে সালাম দেয়া শুরু করেন! নিজের থেকে ছোটদের সালাম দিতেন, নিজের স্টুডেন্ট দেখলেও সালাম দিতেন।

এ পর্যায়ে বুঝলাম যে ভদ্রলোক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। আরো ভালো লাগলো, একজন শিক্ষক এমন একটা দারুণ কাজ করে যাচ্ছেন! কথায় কথায় তিনি জানালেন, “কাউকে যদি অবাক করতে চাও, তাহলে এই কাজটা করে দেখতে পারো। মানুষটা অবাক হবে, পাশাপাশি তার মনটাও ভালো হয়ে যাবে!”

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে! The 10-Minute Blog!

আমার কাছে একটু অবাক লাগছিলো, যে একটা সালাম কী করে মন ভালো করে দিতে পারে? আমি নিজেই তখন সবাইকে সালাম দেয়া শুরু করলাম। বাসার দারোয়ানকে দেখলে সালাম দিতাম, ড্রাইভারের সাথে দেখা হলে সালাম দিয়ে কুশলাদি জিজ্ঞেস করতাম, দোকানদান মামার কাছ থেকেও শুনতাম কেমন আছেন তিনি। এখানে যেটা হতো, এই সালাম বা কুশলাদির কোনটাই আশা করতেন না তারা। এজন্য যখন তাদেরকে এগুলো দেয়া হতো, অন্যরকম একটা আনন্দ পেতেন কর্মজীবি মানুষগুলো। আসলেই মনটা ভালো হতো তাদের।

বিদেশে যখন গিয়েছিলাম, তখন দেখেছি রাস্তা দিয়ে যাওয়া আসার সময়ে, মানুষেরা একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে হাসি দেয় একটা। মুচকি হাসি, কিন্তু অপরিচিতজনের সেই হাসিতে মনটা একটু হলেও ভালো হয়ে যায়! বাংলাদেশে আমি চেষ্টা করেছিলাম এরকম, মানুষজন এমন ভ্রু কুঁচকে তাকিয়েছে, যে বুঝেছি এদেশে আপাতত হাসি থেরাপি কাজে লাগবে না। তাই সালামই সই!

মানুষের দিনটাকেই সুন্দর করে দেয়ার আরো কিছু টিপস দেয়া যেতে পারে এখানে।

প্রশংসা করা:

“আরে! তোর কালকের স্ট্যাটাসটা তো অসাধারণ ছিলো!”

“দোস্ত, ছবি যেইটা তুলেছিলি গতকাল, অন্য লেভেলের হয়েছে, সত্যি!”

“তোর এত সুন্দর গানের গলা, মাশআল্লাহ!”

এই ধরণের প্রশংসা করতে কখনো দ্বিধা করবে না। কারো প্রতিভা থাকলে তার প্রশংসা করলে সে আরো বেশি উদ্দীপনা পাবে এগিয়ে যাবার, তার পরের কাজগুলো আরো ভালো হবে!

গুণের কদর করা:

“তুই না থাকলে আজকে ক্রিকেট ম্যাচটা হেরে যেতে হতো!”

“রাত তিনটায় তুই যদি রক্ত দিতে না আসতি, কী যে হতো!”

মানুষের অনেক মানবীয় গুণাবলী আছে। সেগুলোর যথাযত মূল্যায়ণ করলে তারা অনেক বেশি সুখী হবে। তোমার কোন বন্ধু যদি অনেক কষ্টে কোন কাজ করে, সেই গুণের কদর করবে, দেখবে তারা আরো বেশি সহায়তা করবে পরে!

 

অনুপ্রেরণা দেয়া:

“দোস্ত, কোন চিন্তা করিস না। আমরা আছি না? সব ঠিক হয়ে যাবে”।

“যেকোন সমস্যায় খালি আমাকে একটা কল দিবি। সব মুশকিল আসান করে দেবো!”

মানুষের অনেক রকম সমস্যা চলতে পারে, ব্যাড প্যাচ যেতে পারে। এই সময়টায় বন্ধু বা পরিচিত একজন হিসেবে তোমার প্রথম কাজ হবে তাদের সহায়তা করা। তাদের সমস্যায় বন্ধু হিসেবে এগিয়ে যাওয়া, বিভিন্ন কাজ করে দিয়ে তাদের সময়টা যাতে আরেকটু ভালো হয় সে খেয়াল রাখা। তাদের জন্যে অনুপ্রেরণার কারণ হও, তারা খুশি হবেই!

সমাদর করা:

“ মা, আজকের কাচ্চিটা যা হয়েছে না!”

“ আব্বু, তোমার এই গিফটটা ফাটাফাটি হয়েছে!”

মানুষ মানুষের জন্যে অনেক কিছুই করে। কিন্তু সবকিছুকে ঠিকভাবে সমাদর করি না আমরা অনেকেই। তাতে মানুষটি মনে একটু হলেও কষ্ট পায়, মনে করে তার এই পরিশ্রম বুঝি বৃথা গেল! তাই সব কাজকে সমাদর করবে। ধন্যবাদ দেবে, এপ্রিশিয়েট করবে। তাহলে মানুষগুলো খুশি থাকবে।

এই কাজগুলো কিন্তু রাতারাতি একদিনে হয় না। এগুলোর জন্যে গড়ে তুলতে হয় সু-অভ্যাস। তাই, সুখে থাকো, সুখে রাখো- এই লক্ষ্যে অভ্যাসগুলো রপ্ত করে ফেলো, দেখবে নিজেরই ভালো লাগবে!


১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]