চলো শর্টফিল্ম বানাই: মাথায় রাখতে হবে যে ৮টি বিষয়

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

অনিক আর তার বন্ধুরা এখন ভ্যাকেশনে লম্বা সময় কাটাচ্ছে। ওদের আরেক বন্ধু, নাম ফাহাদ, হঠাৎ একদিন ওদের বললো, “আরে বোকা, বন্ধ সময়টা অলসভাবে না কাটিয়ে ভালো ভালো মুভি, সিরিজ দেখতে পারিস কিন্তু”। ব্যস, বিখ্যাত মুভি আর টিভি সিরিজ গুলোর খোঁজখবর নিতে ওরা উঠে পড়ে লাগল। এবং যথারীতি, কয়েকটা ভালো মুভি একনাগাড়ে দেখে ফেলার পর ওদের মাথায় চাপল নতুন ভূত। কিসের ভূত? হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছো। ফিল্ম তো দেখলাম অনেক, এবার তো একটা বানাতেই হয় বন্ধুরা মিলে! কিন্তু, কীভাবে?

আশা করি, তোমাদের অনেকের মাথাতেই কোনো না কোনো সময় এই খেয়ালটা চেপেছেঃ বন্ধুদের নিয়ে বানিয়েই ফেলি না একটা শর্টফিল্ম! কৈশোর বয়সটাই এমন, ফিল্ম দেখে ভালো লাগবে, প্রশংসা করব, এবং সঙ্গীসাথীদের নিয়ে বানাতেও মন চাইবে। এছাড়া খোঁজ খবর নিলেই দেখবে, দেশজুড়ে সারা বছরই বিভিন্ন শর্টফিল্ম কন্টেস্ট বা শো এর আয়োজন হয়ে থাকে। চাইলে তুমিও দলবল নিয়ে শর্টফিল্ম বানিয়ে সেসব প্রতিযোগিতায় পাঠিয়ে দিতে পারো। কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই অনেকেই প্রথম প্রথম অনিকদের মত সমস্যায় পড়ে যায়ঃ কীভাবে বানাবো শর্টফিল্ম? কোনো চিন্তা নেই, আমাদের আজকের লেখাটা এই শর্টফিল্ম নিয়েই। চলো দেখে আসি অনিকদের সমস্যার সমাধান কীভাবে করা যায়!

ক্রিপ্ট বানানোই প্রথম কাজঃ “আমরা সবাই কম বেশি জানি, যে গল্প বা কাহিনীটার উপর ভিত্তি করে কোনো ফিল্ম তৈরি হয় সেটাকেই স্ক্রিপ্ট বলা হয়। তবে সাধারণ গল্প উপন্যাস এর সাথে স্ক্রিপ্ট এর সামান্য পার্থক্য আছে। গল্প বা উপন্যাসে লেখক তার মত করে বর্ণনা করে যান। কিন্তু ভেবে দেখ, একটা নাটক বা শর্টফিল্মের কথা, যেখানে কেউ বর্ণনা করে না, করে অভিনয়! তাই স্ক্রিপ্টের লেখাটাও হতে হবে বর্ণনামূলক নয়, সংলাপ বা ডায়ালগ ভিত্তিক। সাথে দৃশ্যের যথাযথ বর্ণনাটাও যেন থাকে”, এটুকু বলে থামলো রাজন। অনিকরা খুশিই হলো, রাজনই না হয় ওদের স্ক্রিপ্ট লিখতে সাহায্য করুক!

একটা সুন্দর স্ক্রিপ্ট লিখতে গেলে যে জিনিসগুলো মাথায় রাখতে পারোঃ

১/ যেহেতু শর্টফিল্ম, তাই গল্প বা কাহিনীটা যেন ছোট হয়। তুমি কতটুকু সময়ের মধ্যে ফিল্মটা শেষ করতে চাও, এটা মাথায় রেখেই কিন্তু স্ক্রিপ্ট সাজাতে হবে।

২/ কোন জনরা বা ক্যাটাগরির মধ্যে পড়বে তোমার শর্টফিল্ম? সেটাও ভেবে রেখো। হরর, কমেডি, অ্যাডভেঞ্চার নাকি ড্রামা?

৩/ যথাসম্ভব শিক্ষামূলক ও অনুপ্রেরণাদায়ক কাহিনী তুলে ধরার চেষ্টা করাটা ভালো!

৪/ স্ক্রিপ্ট লেখার সময় আগেই ভালোভাবে এর উপাদান গুলো সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিবে। সঠিক ভাবে সংলাপ লেখা, প্রতিটি আলাদা দৃশ্যের সঠিক বর্ণনা দেওয়া, চরিত্রগুলোর আগমন, প্রস্থান ঠিকমতো যেন স্ক্রিপ্টেই উঠে আসে। তাহলে ফিল্ম ডিরেকশন বা পরিচালনার সময় তোমাদেরই সুবিধা হবে। মনে রাখবে, স্ক্রিপ্টটাই কিন্তু তোমাদের প্রথম ও শেষ খসড়া।

৫/ প্রয়োজনমত আলাদা আলাদা দৃশ্যের অবতারণা করা ও কাহিনীর ধারাবাহিকতা বজায় রাখাটাও দরকারি বটে।

৬/ ঠিকমতো স্ক্রিপ্টের কাজ শেষ হয়ে গেলে সেটা টাইপ করে প্রিন্ট বা কপি করে টিম মেম্বারদের সবাইকে দিয়ে দেবে। এটা কিন্তু দলগত কাজের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ স্ক্রিপ্ট সম্পর্কে কারো ধারণা ভাসা ভাসা হলে আখেরে দলেরই ক্ষতি!

৭/ এটা যে করতেই হবে এমন না, তবে পরিচালক বা ডিরেক্টরের মাথায় রাখা দরকার। আর তা হলো, স্ক্রিপ্ট তৈরি শেষ হলে নিজে নিজেই বা অভিজ্ঞ কাউকে সাথে নিয়ে সবগুলো দৃশ্যের অন্তত একটা করে স্থিরচিত্র এঁকে নেওয়া। স্ক্রিপ্টকে ক্যামেরার সামনে তুলে ধরতে গেলে দৃশ্যগুলো কিন্তু আগে থেকেই তোমার চোখের সামনে ভাসতে হবে, তবেই তুমি পারবে একজন সফল পরিচালক হতে!

আচ্ছা স্ক্রিপ্ট তো রাজন বানিয়েই দিলো, তারপর?

উপযুক্ত লোকেশন খোঁজাঃ অনিকরা এবার পড়ল আরেক বিপদে। ফিল্মটার শুটিং হবে কোথায়? এলাকার এক বড়ভাই তাদের বুঝিয়ে দিলেন লোকেশনের ব্যাপারটা। তোমরাও জেনে রাখো, স্ক্রিপ্টের দৃশ্য যদি ঘরোয়া পরিবেশে বা ইনডোরে হয়, তাহলে তো সমস্যা নেই, তোমরা নিজেদের বাসাতেই সুযোগ সুবিধা মত শুটিং এর কাজটি সেরে ফেলতে পারো।

কিন্তু যদি আউটডোর বা বাইরের পরিবেশের প্রয়োজন পড়ে? সেক্ষেত্রে সুবিধাজনক ও নিরাপদ কোনো স্থানে শুটিং করাটাই হবে উত্তম। জায়গাটার দূরত্ব, নিরাপত্তা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, খরচ এগুলো মাথায় রাখা প্রয়োজন। আবার উত্তেজনায় শুটিং নিষিদ্ধ বা অবৈধ এমন কোনো জায়গায় চলে যেও না দলবল নিয়ে! কারো মালিকানায় থাকলে প্রথমে মালিকের বা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে নাও জায়গাটা তোমরা শুটিং এর কাজে ব্যবহার করতে পারবে কি না!

রংগমঞ্চের অভিনেতারাঃ স্ক্রিপ্ট, লোকেশন তো রেডি, তবে এবার ঝগড়া লেগে গেলো অনিকের বন্ধুদের মাঝে- কে কোন চরিত্রে অভিনয় করবে? সবাই তো নায়ক বা প্রধান চরিত্র পেতে চায়। কেউ আবার কোনো চরিত্র করবে কি করবে না ভেবে কূল পাচ্ছে না। সমস্যা দূর করতে এগিয়ে এলো স্বয়ং পরিচালক সাহেব-অনিক। স্ক্রিপ্ট দেখে বুঝে শুনে আরো দুয়েকজনের সাথে আলাপ করে অনিক ঠিক করে দিলো শর্টফিল্মের চরিত্র গুলো কোনটা কারা কে পারফর্ম করবে। তারপরও বেঁকে বসলো দু চারজন, মনে হলো অমুক চরিত্রটা বোধহয় তমুকের চেয়ে আমিই ভালো করে ফুটিয়ে তুলতে পারব। এমন পরিস্থিতিতে কী করা যায়? দেখে নাও চরিত্রায়নের সময় মনে রাখার মত দরকারি টিপসগুলোঃ

বেড়িয়ে এসো নিজের খোলস থেকে!

প্রেজেন্টেশান দেয়ার সময় কিছু ট্রিক্স তোমার প্রেজেন্টেশানকে করে তুলবে আরও আকর্ষণীয়।

১/ প্রয়োজনে চরিত্রগুলো নিয়ে তোমরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখতে পারো। ধরো একটা নির্দিষ্ট চরিত্রে অভিনয় করতে চাচ্ছে চারজন। ইচ্ছুক এই চারজন কে এক এক করে সুযোগ দিয়ে দেখতে পারো সবাই মিলে। যারটা বেশি ভালো হচ্ছে তাকেই না হয় বেছে নিলে!

২/ বাজেটের ব্যাপারটা মাথায় রেখো কিন্তু! কারণ অভিনেতা অভিনেত্রীদের পারিশ্রমিক দেবারও কিন্তু একটা ব্যাপার থাকে। তবে যদি বন্ধুরা মিলে নিজেরাও শর্টফিল্ম বানাও, তাহলে হয়তো এই খরচটা বেঁচে যেতে পারে।

৩/ পরিচিত বন্ধু বা আত্মীয় স্বজনকে দলে নিতে পারো। শর্টফিল্মের অংশ হবার সুযোগ কেউ নিশ্চয়ই মিস করতে চাইবে না!

৪/ চরিত্রগুলো ভাগ করা হয়ে গেলে স্ক্রিপ্টের দিকে আবার নজর দিতে পারো। একজন অভিনেতার স্ক্রিপ্টের উপর যত ভালো দখল থাকবে, তার কাছ থেকে ভালো পারফরমেন্স পাওয়ার সম্ভাবনাও কিন্তু তত বেড়ে যাবে!

বাজেট আলোচনা ও টিম ম্যানেজমেন্টঃ  এবার আসি আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ কথায়। শর্টফিল্ম তো বানাবো, কিন্তু প্রয়োজনীয় খরচের টাকাটা আসবে কোথা থেকে? পাত্রপাত্রীর সম্মানী না হয় নাই দিলাম, কিন্তু যন্ত্রপাতিসহ টেকনিক্যাল দিকগুলোর খরচ? খরচের টাকাটা বন্ধুরা নিজেরা মিলেই ভাগাভাগি করে তুলে ফেলতে পারো, চিন্তিত হবার কারণ নেই। যন্ত্রপাতির জোগাড়টাও কিন্তু নিজেরাই দায়িত্ব নিয়ে করে ফেলতে হবে। বাজার সম্পর্কে খোঁজখবর থাকলে তো ভালোই, তাছাড়া আজকালকার দিনে সবার বন্ধু ইন্টারনেট তো আছেই!

টাকাপয়সা সহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির জোগাড় তো হলো, এবার পালা কাজ বণ্টনের। হ্যাঁ, একটা পরিপূর্ণ শর্টফিল্ম বানাতে এই টিম ম্যানেজমেন্টের দিকটায় সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। দলনেতার কথা মেনে সবাই যার যার কাজ বুঝে নিতে হবে। ধরো কারো কাজ ঠিক করা হলো বাজেট তোলা, কারো কাজ এডিটিং এর ব্যবস্থা করা, কারো কাঁধে ভার পড়লো কস্টিউম ডিজাইনের, কেউ পেলো লোকেশন সেটিং এর কাজ, কেউবা দায়িত্ব নিলো ক্যামেরা জোগাড় করা থেকে শুরু করে শুটিং এর সবকিছুর- এভাবে সবাই মিলে যার যার দায়িত্ব পালন করলে দেখবে কাজ কতটা সহজ হয়ে গেছে!

যন্ত্রপাতির মহাযজ্ঞঃ  সবকিছুই তো বুঝলাম, কিন্তু ঠিক যে জিনিসগুলো হাতের কাছে থাকে না বলেই এই ব্লগটা পড়েই সাথে সাথে আমরা কাজে নেমে যেতে পারি না, তা হলো কিছু যন্ত্রপাতি বা উপকরণ, যেটা শর্টফিল্ম শুটিং এর কাজে আসবে। সেটা হতে পারে ক্যামেরা থেকে শুরু করে লাইটিং, রেকর্ডিং, অডিও, ভিডিও টুলস কিংবা এডিটিং এর উপকরণ। অনিকদের যেসব জিনিসের দরকার হয়েছিলো সেগুলো অনেকটা এরকমঃ

১/ ক্যামেরাঃ শুটিং এর কাজে বাজেটের ওপর বিবেচনা করে ডিজিটাল ক্যামেরা বা ডিএসএলআর ক্যামেরা কিনে ফেলতে পারো।

২/ ট্রাইপডঃ স্লো মোশন বা ফাস্ট মোশন নিয়ন্ত্রণ করে শুট করতে চাইলে তোমার দরকার ভালো মানের একটি ট্রাইপড।

৩/ লাইটিংঃ লাইটিং এর কাজে ইনডোর বা আউটডোর বুঝে সুবিধামতো ক্ল্যাম্প, স্ট্যান্ড বা ফ্লাডলাইটের প্রয়োজন হতে পারে।

গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশান ইত্যাদি স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য 10 Minute School Skill Development Lab নামে ১০ মিনিট স্কুলের রয়েছে একটি ফেইসবুক গ্রুপ। গ্রুপে জয়েন কর!

৪/ রেকর্ডিংঃ অডিও রেকর্ডিং এর জন্য অনেক দামী মাইক্রোফোন থেকে শুরু করে কম দামী ছোট তারবিহীন মাইক বা এক্সটার্নাল অডিও রেকর্ডার বাজারে খোঁজ করলেই পেয়ে যাবে।

এছাড়া প্রয়োজনীয় এডিটিং সফটওয়্যার, কম্পিউটার ও সাউন্ডবক্স তো দরকার হবেই।

কস্টিউম আর প্রপসঃ শুটিং এর আগের কাজ তো অনেক হলো, এবার পরিচালক অনিকের নির্দেশে সবাই মাঠে নেমে পড়লো। প্রথমেই আসবে কস্টিউম ও প্রপস এর বিষয়টি। চরিত্রগুলো যে পোশাক ও মেকাপ পরিধান করে সেটাকে কস্টিউম আর চরিত্রগুলো বিভিন্ন দৃশ্যে অভিনয়ের সময় যে আনুষঙ্গিক জিনিসগুলো লাগে সেগুলোকে প্রপস বলা হয়ে থাকে। তো শুরুতেই সবাই মিলে আলোচনা করে যার যার কস্টিউম, মেকাপ ও প্রপসের ব্যাপারগুলো ঠিক করে নিতে হবে। এগুলোর পেছনে আলাদা খরচ বাজেটে নিয়ে আসতে পারো, অথবা নিজেদের মত নিজেরা জোগাড় করে কাজ চালিয়ে নিতে পারো। শর্টফিল্মের প্রয়োজনে একজনের রঙিন গামছা, আরেকজনের খেলনা পিস্তল, আরেকজনের দুটো ওড়না বা মেকাপ বক্স, আরেকজনের বাসার সোফাসেট যেকোনো সময়ই দরকার হতে পারে!

সময় এখন শুটিং এরঃ এতক্ষণে অনিকরা শুরু করবে আসল(!) কাজ, ডিরেকশন আর শুটিং। ডিরেকটর বাবাজীর কারিশমা দেখানোর সুযোগ এখানেই। সকলের মতামত নিয়ে ও নিজের মেধা দিয়ে ডিরেক্টর এবার শর্টফিল্মের শুটিং এর কাজ করবেন ক্যামেরাম্যানের সাথে মিলে। শুটিং এর সময় স্ক্রিপ্ট মেনে অভিনেতারা কাজ করছে কি না, অভিনেতার কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনার দায়িত্ব কিন্তু পরিচালকেরই। প্রয়োজনে বারবার শট নিতে হবে ক্যামেরায়। আর শুটিং যে স্ক্রিপ্টের মত ধারাবাহিকভাবে হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। সবার সুবিধা বুঝে লোকেশন ঠিক করে দৃশ্যগুলোর শট আগে পরে নেওয়া যেতে পারে, সেক্ষেত্রে এডিট করে আবার সবকিছু জোড়া লাগিয়ে কাজটা শেষ করতে হবে।  

এগুলা এডিট করা যায়ঃ  ইতোমধ্যে অনিক এন্ড কোং এর উপর দিয়ে অনেক ধকল গেছে, শুটিং এর কাজ শেষ! ওদের জন্য একটা হাততালি দিতে পারো, কিন্তু সর্বশেষ ধাপটা কিন্তু এখনো বাকি রয়ে গেছে! এডিট করে শর্টফিল্মটাকে এখন দেখার উপযোগী করে তুলতে হবে। এডিটিং সফটওয়্যারের প্রয়োজন হবে এ পর্যায়ে এসে। Windows Movie Maker, Final Cut Pro, Avid এই বহুল প্রচলিত সফটওয়্যারগুলো থেকে যেটা সহজ মনে হয় ব্যবহার করতে পারো।

এবার সাবধানে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবগুলো ভিডিও, অডিও সহকারে বাজিয়ে যাচাই করে দেখো। সফটওয়্যারের সাহায্যে কাটছাঁট করে, জোড়া লাগিয়ে দেখো। অপ্রয়োজনীয় অংশ বাদ দাও, কিছু কিছু জায়গায় দরকার হলে ছোট পরিসরে আবার শুটের আয়োজনও করতে হতে পারে। ভিডিও অংশের সাথে অডিও অংশ ঠিকমতো খাপ খাচ্ছে কিনা খেয়াল রেখো। কাজ মোটামুটি শেষের দিকে চলে এলে সবাই মিলে বসে সমালোচনার দৃষ্টিতে দেখে শেষ মুহূর্তের ভুলগুলো শুধরে নিতে চেষ্টা কোরো। আর সবার শেষে আরেকটা কাজ করতে পারোঃ সবাই মিলে রেস্ট নেওয়া কিংবা একসাথে খেতে যাওয়া!

হ্যাঁ বন্ধুরা, অনিকদের শর্টফিল্ম বানানোর স্বপ্ন দেখতে দেখতেই পূর্ণ হয়ে গেলো। নিয়মগুলো তো সংক্ষেপে জেনে গেলে, তোমরাও চাইলে এখন থেকেই শর্টফিল্ম বানানোর কাজ শুরু করে দিতে পারো! শুধু মাথায় রাখবে একটা শর্টফিল্ম বানাতে মূলত তিনটা জিনিস লাগেঃ

১/ প্রচুর ফিল্ম দেখা ও তা নিয়ে সবাই মিলে চিন্তাভাবনা, আলোচনা করা,

২/ ইন্টারনেট বলো বা অন্য কোনো সোর্স থেকেই বলো, শর্টফিল্ম বানানোর নিয়মগুলো জেনে নেওয়া,

৩/ দলগতভাবে পরিশ্রম করে কাজ সমাধা করার মানসিকতা।

ভেবে দেখো, ২ নম্বর কাজটা হয়তো আমি কিছুটা এগিয়ে দিয়েছি, বাকিগুলা তাহলে তোমাদের হাতেই ছেড়ে দিলাম। এখনি বন্ধুদের সাথে নিয়ে স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যাও, জয় তোমাদেরই হবে। আর ভালো কথা, অনিকদের শর্টফিল্মটা আগামীকালকে একটা শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভালে প্রদর্শনীর জন্য সিলেক্টেড হয়েছে, দেখতে চাইলে আমার সাথে তোমরাও কিন্তু আসতে পারো!  

তথ্যসূত্রঃwww.wikihow.com


১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Author
Asif Haider
এই লেখকের অন্যান্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?